নয়াদিল্লি: আমেরিকার সঙ্গে ইরানের যুদ্ধবিরতিতে এবার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় পাকিস্তান। সেই নিয়ে চলতি সপ্তাহে ইসলামাবাদে বিশেষ বৈঠক হচ্ছে। ইজ়রায়েলের এক আধিকারিক বিষয়টিতে সিলমোহর দিয়েছেন। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির খোদ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করেছিলেন। যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতা করতে চেয়েছিলেন বলে খবর। সব ঠিক থাকলে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধবিরতিতে পাকিস্তানই মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উঠে আসতে পারে। (Pakistan Iran War Mediator)
সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আমেরিকা, ইজ়রায়েল এবং ইরানের মধ্য়ে যুদ্ধবিরতি নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরেই কাজ করে চলেছে পাকিস্তান, তুরস্ক এবং মিশর। ইজ়রায়েলের এক আধিকারিক Axios-কে জানিয়েছেন, সব পক্ষকে নিয়ে ইসলামাবাদে বৈঠক হতে চলেছে। সেই মতো প্রস্তুতি চলছে এই মুহূর্তে। রবিবারই মুনির এবং ট্রাম্পের মধ্যে কথা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ইসলামাবাদে শান্তি বৈঠকের প্রস্তাবও দেয় পাকিস্তানই। (US-Iran War Ceasefire)
অন্য দিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে তাঁর। পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে তাঁকে সবরকম সহোযোগিতা করার কথা জানিয়েছে পাকিস্তান। গত এক মাসে বার বার কথা হয়েছে তাঁদের মধ্যে। এমনতি রমজান এবং ইদেও কথা হয়েছে। তিনি আশাবাদী, শীঘ্রই যুদ্ধ শেষ হবে।
আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইসলামাবাদে আমেরিকার হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন। একদিন আগেই যদিও যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিত দেন ট্রাম্প। জানান, ইরান সমঝোতা করতে মরিয়ে হয়ে উঠেছে। শীঘ্রই সমাধানসূত্র বেরিয়ে আসবে। যুদ্ধ শেষ হলেই তেলের দাম নামতে শুরু করবে বলেও জানান তিনি। যদিও এ ব্যাপারে তাদের কিছু জানা ছিল না বলে ইজরায়েলের ওই আধিকারিক জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, আমেরিকা এবং ইরান একাধিক বিষয়ে একমত হয়েছে বলে যে দাবি করেছেন ট্রাম্প, সেব্যাপারে কিছুই জানা ছিল না তাঁদের।
আমেরিকা, ইজ়রায়েল এবং ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির জন্য সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে তুরস্ক এবং মিশরও। হোয়াইট হাউসের প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ, ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গেও দফায় দফায় বৈঠক হয়। ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারও আলোচনায় যুক্ত ছিলেন। তিনি ইরানের সংসদের স্পিকার মহম্মদ বাঘের গলিবফের সঙ্গে কথা বলেন বলে জানা যাচ্ছে।
যদিও ইরানের তরফে এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট ভাবে কোনও বার্তা আসেনি। বরং একদিন আগে, ট্রাম্প যখন যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিত দেন, তেহরান পরিষ্কার জানায়, গত ২৪ দিনে আমেরিকার সঙ্গে কোনও আলোচনায় বসেনি তারা।
