Iran School Attack: ইরানের একটি মেয়েদের স্কুলে হামলা হয়েছিল কয়েকদিন আগেই। ১৬০ জন ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছিল আচমকা ওই হামলায়। সম্প্রতি সেনাবাহিনীর একটি তদন্তে দেখা গিয়েছে, এই হামলার জন্য দায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তাদের করা মিসাইল হানাতেই প্রাণ গিয়েছিল ফুলের মতো নিষ্পাপ শিশুদের। সম্প্রতি নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ওই মেয়েদের স্কুলটিতে হামলার জন্য দায়ী আমেরিকাই।
প্রাথমিক তদন্তে দেখা গিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের মিনাবে Tayyebeh elementary স্কুলে যে মিসাইল হামলা হয়েছিল, সেখানে ভুল ছিল মার্কিন সেনাবাহিনীর, কারণ তারা ভুল লক্ষ্যবস্তুতে নিশানা করেছিল। স্কুলের পাশের ইরানের সেনাঘাঁটিতে হামলা করার কথা ছিল আমেরিকার। ইরানের সেনাঘাঁটির পাশেই এই স্কুলের একটা অংশ থাকায় ভুলবশত সেখানেও গিয়ে পড়ে আমেরিকার মিসাইল। আর তার জেরেই ঘটে যায় ভয়ানক দুর্ঘটনা।
তদন্তকারীদের তরফে জানা গিয়েছে, US Central Command- এর আধিকারিকরা যে লক্ষ্যবস্তু নির্দিষ্ট করেছিলেন, তা নির্ধারণ করা হয়েছিল Defence Intelligence Agency- র দেওয়া পুরনো ডেটা অনুসারে। প্রাথমিক স্তরে অনুসন্ধান করেই লক্ষ্যবস্তু নির্দিষ্ট করেছিল মার্কিন সেনা। কেন মিসাইল হামলার জন্য লক্ষ্যবস্তু নির্দিষ্ট করার ক্ষেত্রে ডেটা ভাল করে যাচাই করে নেওয়া হয়নি, এই প্রশ্ন উঠছেই। তবে তার কোনও স্পষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি এখনও।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, একটি ভিডিও সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দাবি করা হয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি Tomahawk cruise missile একটি নৌঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে। আর এই নৌঘাঁটি ছিল দক্ষিণ ইরানের একটি স্কুলের পাশে। মোট ১৭৫ জনের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে ছিল ১৬৫ জন স্কুলের ছাত্রী। আল জাজিরার একটি প্রতিবেদন অনুসারে, মিসাইল হানার সময় স্কুলে ক্লাসে বসে পড়াশোনা করছিল ছাত্রীরা। আছমকাই ছোট বাচ্চা এবং শিক্ষিকদের উপর ভেঙে পড়ে পুরো স্কুল বিল্ডিং। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ইরানের মিনাবে মেয়েদের যে স্কুলে মিসাইল হামলা হয়েছিল, সেখানে একই ব্লকে কিছু বিল্ডিং ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ডস নেভি- ও ব্যবহার করে। মার্কিন সেনার হামলা করার তালিকায় এই সেনাঘাঁটি ছিল প্রথম সারিতে।
কী বলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। উল্টে মেয়েদের ওই স্কুলে মিসাইল হামলার জন্য ইরানকেই দায়ী করেছেন তিনি। Air Force One- এর সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, এই হামলা ইরান নিজেই করিয়েছে। যে ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে দেখা গিয়েছে যে একটি স্কুলের কাছে থাকা ইরানের সেনাঘাঁটিতে হামলা হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের Tomahawk মিসাইল নিয়ে, সেই প্রসঙ্গে ট্রাম্প জানান যে, এই ভিডিও তিনি দেখেননি। পাশাপাশি এও বলেন যে, বিশ্বের অনেক দেশই এই Tomahawk মিসাইল ব্যবহার করে।
