April 12, 2026
1701dc231251961488f61fb8ef6144651775993635074338_original.jpg
Spread the love


নয়াদিল্লি: আপাতত যুদ্ধবিরতি চলছে আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে। তবে যুদ্ধচলাকালীন সম্প্রতি হঠাৎই উত্তেজনা ছড়ায় আরব সাগরে। আন্তর্জাতিক জলসীমায় আমেরিকার যুদ্ধজাহাজের কাছে এসে পড়ে বিমান। এতেই রীতিমতো নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত আরব সাগর থেকে বের করে দেওয়া হয় বিমানটিকে। (USS Abraham Lincoln)

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহে এই মুহূর্তে আরব সাগরে মোতায়েন রয়েছ আমেরিকার পরমাণু শক্তিসম্পন্ন যুদ্ধজাহাজ USS Abraham Lincoln. ৫০০০ জন যাত্রী বহন করতে সক্ষম ওই যুদ্ধজাহাজ। একসঙ্গে ৭৫টি যুদ্ধবিমান মোতায়েন থাকে তার জাহাজের উপর। যে সময় এই ঘটনা ঘটে, জাহাজের চারপাশে টহল দিচ্ছিল আমেরিকার F/A-18 সুপারসনিক যুদ্ধবিমানও। (US-Iran War)

জানা গিয়েছে, স্থির-শান্ত আরব সাগরে আমেরিকার যুদ্ধজাহাজের কাছে এসে পড়ে একটি ছোট আকারের Piper PA-28 বিমান। ঘণ্টায় ১২০ মাইল গতিবেগে সেটি আকাশে উড়ছিল। বিমানের ককপিটে বাজছিল ব্রিটিশ ব্যান্ড ‘ওয়ান ডিরেকশনে’র গান। চালু ছিল রেডিও সিগন্যাল। 

সেই সময় হঠাৎই রেডিও-য় আমেরিকার কোনও নাগরিকের গলা ভেসে আসে। ওই ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, “আন্তর্জাতিক জলসীমায় আপনি যৌথবাহিনীর যুদ্ধজাহাজের দিকে এগোচ্ছেন। এখনই যোগাযোগ করুন, নিজের পরিচয় জানান।” ছোট আকারের বিমানটিতে সওয়ার ছিলেন স্য়ান রাদারফোর্ড। তাঁর সঙ্গে বিমানে ছিলেন কো-পাইলট শ্যানন ওং। 

ইরানের দক্ষিণ ভাগে, আরব সাগরের উপর ছোট আকারের বিমানটি আমেরিকার যুদ্ধজাহাজের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। বিমানের উপর দু’টি আমেরিকার F/A-18 Hornet যুদ্ধবিমান উড়তে দেখেন স্যাম। ওই অবস্থাতেই বিমান ওড়াচ্ছিলেন স্যাম এবং শ্যানন। হঠাৎই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আমেরিকার বাহিনীর কথা আর শুনতে পারছিলেন না তাঁরা। এতে উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়। শত্রুপক্ষ ভেবে আমেরিকার সেনা যদি বিমান নামাতে উদ্যোগী হয়, তা ভেবেই সিঁটিয়ে যান স্যাম এবং শ্যানন। 

Piper PA-28 বিমান বেশি উঁচু দিয়ে ওড়ে না। সাধারণ যাত্রীবাহী বিমান যেখানে ৩০০০০ ফুট উচ্চতা দিয়ে ওড়ে, Piper PA-28 ১০০০০ ফুট উচ্চতা দিয়েই ওড়ে। পুনরায় রেডিও সংযোগ স্থাপন করা গেলে কিছুটা হলেও ভরসা পান স্যাম এবং শ্যানন। আমেরিকার যুদ্ধবিমানের পাইলট ১৫ ডিগ্রি ঘুরে উত্তর অথবা দক্ষিণ দিক দিয়ে বেরিয়ে যেতে নির্দেশ দেন। কিন্তু যেভাবে বিমান ওড়াচ্ছিলেন স্যাম এবং শ্যানন, তাতে ডান বা বাঁদিকে ঘোরার উপায় ছিল না। দক্ষিণে গেলে সটান ভারত মহাসাগর, উত্তরে গেলে হয় ইরান, নয়ত পাকিস্তান। 

সেই পরিস্থিতিতে আমেরিকার নৌবাহিনীর সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করেন স্যাম এবং শ্যানন। তাঁরা উচ্চতা কমাবেন না, যুদ্ধজাহাজের কাছে ঘেঁষবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দেন। আমেরিকার নৌবাহিনীর সঙ্গে আলোচনাসাপেক্ষে যুদ্ধজাহাজের থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে বিমানটি উড়িয়ে নিয়ে যান শ্যাম এবং শ্যানন। ধীরে ধীরে USS Lincoln সরে যায়। এর পর দুই দিকে থেকে তাঁদের বিমানকে এসকর্ট করে নিয়ে যায় আমেরিকার যুদ্ধবিমান। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি খোলসা করেছেন স্যাম।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Enable Notifications OK No thanks