নয়াদিল্লি: মুরগিকে ইঞ্জেকশন দিয়ে ডিমের আকার বড় করা, ক্ষতিকর রাসায়নিক প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে আগেই। একবার ফের বিতর্কে প্রযুক্তি নির্ভর কৃষি সংস্থা Eggoz. তাদের ডিমে প্লাস্টিক রয়েছে বলে অভিযোগ তুললেন এক তরুণী। নিজের দাবির সপক্ষে একটি ভিডিও-ও পোস্ট করেছেন তিনি, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। (Plastic in Eggs)
শালিনী নামের ওই তরুণী ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও আপলোড করেন, যাতে দেখা যায়, একটি পাত্রে কয়েকটি ডিম সেদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু সেই ডিম ফেটে কুসুমের আকারে যা বেরিয়ে এসেছে, তা প্লাস্টিকের ফিতের মতো দেখাচ্ছে। একটি বা দু’টি নয়, পাত্রের মধ্যে পড়ে রয়েছে বেশি কিছু। (Fake Eggs Viral Video)
ওই তরুণীকে বলতে শোনা যায়, “এতদিন নকল বা প্লাস্টিকের ডিম বাজারে বিক্রি হচ্ছে বলেশুধু শুনেছিলাম। কিন্তু আজ বাড়িতে নিজেরই অভিজ্ঞতা হল। Zepto থেকে Eggoz Everyday-র ডিম অর্ডার করেছিলাম। সেদ্ধ করতে বসানোর পর কুসুমের পরিবর্তে ভিতর থেকে প্লাস্টিক বেরিয়ে এল।” ওই তরুণী আরও বলেন, “আপনারা ভিডিও দেখুন. নুডলসের মতো দেখতে প্লাস্টিক বেরিয়ে আসছে। প্রত্যেকটি ডিমের গায়ে Eggox Everyday-র স্ট্যাম্প রয়েছে। কী ভাবে নকল প্লাস্টিক ডিম আমাদের বাড়িতে ঢুকছে দেখুন।”
পাত্রের মধ্যে ফেটে যাওয়া একটি ডিম দেখিয়ে ওই তরুণী জানান, ওই ডিমটি না ফাটলে ভিতরে কী আছে বুঝতেই পারতেন না। তিনি বলেন, “আজকাল এসব কিনছি আমরা। অন্য ভাবে রান্না করলে হয়ত বোঝাই যেত না যে প্লাস্টিক খাচ্ছি। সেদ্ধ করার সময় ফেটে বেরিয়ে এল বলেই প্লাস্টিক রয়েছে জানতে পারলাম। এত বড় ব্র্যান্ডের জিনিস যদি এমন হয়, তাহলে আর নিরাপদ কী?”
ভিডিওটি ভাইরাল হতে সময় লাগেনি। বিষয়টি জানতে পেরে আঁতকে ওঠেন অনেকেই। ওই ভিডিওটি নিয়ে এর পর প্রতিক্রিয়া জানায় Eggoz-ও। ইনস্টাগ্রামে বিবৃতি দিয়ে তারা লেখে, ‘আপনার এমন অভিজ্ঞতা হয়েছে জেনে আমরা দুঃখিত। আপনার উদ্বেগ বুঝতে পারছি। আমাদের গ্রাহকরা এমন পরিস্থিতিতে পড়ুন, তা কখনওই চাই না আমরা। আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করব কী করে, দয়া করে DM-এ জানাবেন আমাদের কাস্টোমার সাপোর্ট টিম যত দ্রুত সম্ভব সমস্যার সমাধান করবে’।
এর আগে, গত বছরের শেষ দিকে বিতর্কে জড়ায় Eggoz. ক্যান্সার সৃষ্টিকারী ক্ষতিকর উপাদান মিশ্রিত ডিম বিক্রির অভিযোগ ওঠে তাদের বিরুদ্ধে। Trustified নামের একটি ইউটিউব চ্যানেল জানায়, গবেষণাগারে পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে Eggoz-এর ডিমে নাইট্রোফুরান থেকে প্রাপ্ত যৌগ AOZ রয়েছে, যার সঙ্গে ক্যান্সারের সংযোগ খুঁজে পেয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাও। প্রতি কেজিতে ০.৭৪ মাইক্রোগ্রাম AOZ পাওয়া গিয়েছে। ভক্ষণযোগ্য পশুর উপর AOZ প্রয়োগ নিষিদ্ধ একাধিক দেশে। কারণ এতে ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকে, ক্ষতি হয় DNA-র। বেআইনি পোলট্রি ফার্মে সাএই ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহৃত হয়, যাতে মুরগিদের ব্যাকটিরিয়া থেকে রক্ষা করা যায় এবং তারা বেশি পরিমাণ ডিম পাড়তে পারে।
সেই সময় Eggoz জানায়, ভারতে প্রতি কেজিতে ১ মাইক্রোগ্রাম পর্যন্ত AOZ ব্যবহারের অনুমোদন রয়েছে বলে দাবি করা হয়। Eggoz জানায়, AOZ থাকার অর্থই অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার নয়। মাটি বা কাঁচামালের দরুণও এটা ঘটতে পারে। ইচ্ছাকৃত ভাবে মুরগিকে তেমন কিছু খাওয়ানো হয় না।
Check out below Health Tools-
Calculate Your Body Mass Index ( BMI )
Calculate The Age Through Age Calculator
