Iran US War : ভারতে গুজবের মধ্যেই পাকিস্তানে শুরু হয়ে গেল লকডাউন (Pakistan Smart Lockdown)। জ্বালানি সঙ্কটের বেহাল দশার থেকে পরিত্রাণ পেতে স্মার্ট লকডাউন শুরু করেছে শেহবাজ শরিফের (Shehbaz Sharif) সরকার। পাকিস্তানে শনিবার মধ্যরাত থেকে রবিবার রাত পর্যন্ত স্মার্ট লকডাউন ঘোষণার খসড়া সামনে এসেছে।
ভারতে গুজব ! পাকিস্তানে বাস্তব
বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের প্রভাব পড়েছে ভারতে। বেগতিক দেখে আগেই সতর্ক পদক্ষেপ নিয়ে ভারত সরকার। রান্নার গ্য়াসের দাম ৬০ টাকা বাড়িয়েছে সরকার। কমানো পেট্রোল-ডিজেলের শুল্ক। খোদ প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে দেশবাসীকে সতর্ক করেছেন। সরকারের তরফে দাবি করা হয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারতে লকডাউন নিয়ে ভিত্তিহীন গুজব ছড়ানো হচ্ছে। দেশবাসীর মনে আতঙ্ক ছড়াতে এই গুজব ছড়ানো হচ্ছে।
কী অবস্থা পাকিস্তানে
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে জ্বালানি সঙ্কটে পাকিস্তানে স্মার্ট লকডাউন ঘোষণা হয়েছে। শনিবার মধ্যরাত থেকে রবিবার রাত পর্যন্ত স্মার্ট লকডাউন হবে দেশে। শনিবার রাত ১২ থেকে রবিবার রাত ১১ টা ৫৯ পর্যন্ত স্মার্ট লকডাউন চলবে। ৪ এপ্রিল রাত ১২ থেকে ৫ এপ্রিল রবিবার রাত ১১টা ৫৯ পর্যন্ত স্মার্ট লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।
কী কী বন্ধ করবে শেহবাজ সরকার
লকডাউন ঘোষণার জেরে পাকিস্তানে বন্ধ থাকবে বাজার, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, দফতর, দোকান। স্মার্ট লকডাউন ঘোষণায় বিবাহের অনুষ্ঠানে করা যাবে না কোনও উৎসব। সম্প্রতি শেহবাজ সরকারের এই খসড়া সংবাদ মাধ্যমে চলে এসেছে। যদিও পাকি সরকার জানিয়েছে, এটা কেবল খসড়া। এখনও এই নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
কত টাকা দাম বেড়েছে পেট্রোল-ডিজেলের
ইরানের যুদ্ধ ইতিমধ্য়েই নাজেহাল অবস্থা করেছে পাকিস্তানের। পাকিস্তানে রান্নার গ্যাসের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। পাকিস্তানে ১১.৬৭ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৩,৯০০ টাকা থেকে বেড়ে ৫,১৩৫ টাকা হয়েছে; যার আগের দাম ছিল ৩,১৫০ টাকা থেকে ৩,৯৫০ টাকার মধ্যে। এই মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে পরিবহন খাত—সবার ওপরই প্রভাব ফেলছে। রিকশা, বাস এবং মিনিবাসের মতো এলপিজি চালিত যানবাহনের ভাড়াও বেড়ে গেছে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির পকেটে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
পশ্চিম এশিয়া নির্ভর পাকিস্তান
পাকিস্তানের ৭০ শতাংশ জ্বালানি পশ্চিম এশিয়া থেকে আসে। ইরান-ইজরায়েল-আমেরিকা যুদ্ধ সমস্য়া তৈরি করেছে এই সরবরাহে। সবথেকে বেশি ধাক্কা খেয়েছে LNG সরবরাহ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি চললে ১৪ এপ্রিলের পর বড় সমস্য়ায় পড়বে পাকিস্তান। পাকিস্তানের বার্ষিক এলপিজি (LPG) চাহিদার পরিমাণ প্রায় ২০ লক্ষ টন। এর মধ্যে ১২ লক্ষ টন আসে বিদেশ থেকে এবং বাকি ৮ লক্ষ টন অভ্যন্তরীণ শোধনাগারগুলোর মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়।
চলতি মাসে ২০,০০০ টন এলপিজি নিয়ে তিনটি জাহাজ পাকিস্তানে পৌঁছালেও এই সরবরাহ চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। এর ফলে দেশটির জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে পাকিস্তানে যে পরিমাণ অপরিশোধিত তেলের মজুদ রয়েছে, তা দিয়ে মাত্র ১১ দিন চলা সম্ভব।
