March 23, 2026
967c588ebf598fc897fda1b6fecb6c531768830962080170_original.jpg
Spread the love


ওয়াশিংটন ডিসি : যুদ্ধ পরবর্তী গাজার পুনর্গঠন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে চূড়ান্ত তৎপর ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। আন্তর্জাতিক নজরদারিতে গাজাকে পুনরায় দাঁড় করানোর কথা বলছে আমেরিকা। যে লক্ষ্যে, গত সপ্তাহেই গাজায় প্রশাসনিক কাজের জন্য জাতীয় স্তরে কমিটিও গঠন করা হয়েছে। গঠিত হয়েছে ‘বোর্ড অফ পিস।’ যার লক্ষ্য, গাজার পুনর্গঠন। এই কাজে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বড়সড় কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিতে কার্যত মরিয়া ট্রাম্প প্রশাসন। গাজা পরিকল্পনার আন্তর্জাতিক স্তরে বৈধতা অর্জনে বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশের রাষ্ট্রনেতাকে এতে শামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ভারত, পাকিস্তান, ইংল্যান্ড, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, জর্ডন, তুরস্ক, মিশর-সহ বিভিন্ন দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বোর্ডে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়ে ট্রাম্পের পাঠানো চিঠি এক্স হ্যান্ডেলে শেয়ার করেছেন ভারতের মার্কিন দূত সার্জিও গোর। আরও চকমপ্রদ বিষয় হল, ট্রাম্পের গাজা শান্তি বোর্ডে যোগ দেওয়ার জন্য নাকি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। যদিও সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করা হবে কি না তা বিচার-বিবেচনা করে দেখছে বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন। কূটনৈতিক স্তরেও শান্তি বোর্ডে যোগ দেওয়ার জন্য নাকি পুতিনকে বলা হয়েছে বলে খবর। সাংবাদিকদের একথা জানিয়েছেন ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকোভ। 

গাজা বোর্ড অফ পিস কী ?

গাজা শান্তি বোর্ড হল একটি প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক পরিবর্তনকালীন প্রক্রিয়া। দীর্ঘ সংঘাত শেষে সুষ্ঠুভাবে গাজা পরিচালনা করার জন্য এই বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হল, ক্ষমতা-শূন্যতা ঠেকিয়ে গাজায় স্থিতিশীলতা, পুনর্গঠন এবং অসামরিক শাসনকে সমর্থন করা। এই বোর্ডকে একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। যেখানে আন্তর্জাতিক স্টেকহোল্ডার, রিজিওনাল অ্যাক্টর (যারা নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকার মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক গতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে) ও প্যালেস্তিনীয় টেকনোক্র্যাটরা সাহায্য বিতরণ, পরিকাঠামোর পুনর্নির্মাণ এবং মৌলিক প্রশাসন তত্ত্বাবধান করবেন। প্যালেস্তনীয় রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্খার পরিবর্ত হিসাবে চলবে না এই বোর্ড। বরং সংঘাত-পরবর্তী সংবেদনশীল সময়ে গাজায় দীর্ঘমেয়াদী শান্তি, নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পরিস্থিতি তৈরি করবে বোর্ড।

কারা এর সদস্য ?

হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুসারে, শান্তির জন্য গঠিত প্রধান বোর্ড প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, আঞ্চলিক সম্পর্ক, পুনর্গঠন, বিনিয়োগ এবং বৃহৎ পরিসরে আর্থিক তহবিলের উপর জোর দেবে। এই বোর্ডের নিশ্চিত সদস্যরা হলেন – আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (চেয়ার), আমেরিকার সেক্রেটার অফ স্টেট মার্কো রুবিও, ট্রাম্পের বিশেষ আপস-আলোচনায় অংশগ্রহণকারী ব্যক্তি স্টিভ উইটকফ, ট্রাম্পের জামাই জ্যারেড কুশনার, ব্রিটেনের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার, আমেরিকার ধনকুবের মার্ক রোওয়ান, বিশ্ব ব্যাঙ্কের প্রেসিডেন্ট অজয় ভাঙ্গা ও জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদে ট্রাম্পের সহায়তাকারী রবার্ট গ্যাব্রিয়েল।

প্রশাসনিক সহায়তা ও পরিষেবা প্রদানকারী গাজা এক্সিকিউটিভ বোর্ডে কারা ?

স্টিভ উইটকফ,  জ্যারেড কুশনার, টনি ব্লেয়ার, মার্ক রোওয়ান, বুলগেরিয়ার কূটনীতিক নিকোলে মাদেনভ, গাজার জন্য রাষ্ট্রসংঘের মানবিক সমন্বয়কারী সিগরিড কাগ, তুরস্কের বিদেশমন্ত্রী হাকান ফিদান, কাতারি কূটনীতিক আলি অল-থাওয়াডি, মিশরের গোয়েন্দা প্রধান জেনারেল হাসান রাশাদ, সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর মন্ত্রী রইম অল-হাসমি ও ইজরায়েলের ধনকুবের ইয়াকির গাবাই।

এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার জন্য ভারত-সহ প্রায় ৬০টি দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। 

তবে, গাজায় চূড়ান্ত রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য এই বোর্ড গঠন করা হয়নি বলে জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের জন্য গাজা বোর্ড অফ পিস কাজ করবে। স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে এনে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির ব্যবস্থা করা এই বোর্ডের উদ্দেশ্য। আস্থা গড়ে তোলা এবং প্যালেস্তিনীয়দের সম্পৃক্ত করে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক আলোচনাকে সক্ষম করা হবে এই বোর্ডের মাধ্যমে। যদিও আমেরিকার এই পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক ও সংশয় তৈরি হয়েছে। প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর, রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ২৯ সেপ্টেম্বরের গাজা সংঘাতের অবসানের জন্য এই পরিকল্পনাকে সমর্থন করে এবং ১৩ অক্টোবর জারি করা স্থায়ী শান্তি ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে ট্রাম্পের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে। এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট পড়ে ১৩টি। তাতে গাজায় সংঘর্ষবিরতির জন্য আমেরিকা, কাতার, মিশর ও তুরস্কের ভূমিকা স্বীকার করে নেওয়া হয়। এই ভোটাভুটিতে বিরত ছিল ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স। অন্যদিকে, এর লেখনী সাপোর্ট করতে অস্বীকার করে রাশিয়া ওচিন। মস্কো যুক্তি দেয়, প্রস্তাবটি প্যালেস্তিনীয় রাষ্ট্রের মর্যাদা যথেষ্ট পরিমাণে নিশ্চিত করছে না। রাশিয়া ও চিন উভয়ই তাদের মতামত হিসাবে জানিয়েছে যে, প্রস্তাবের ভাষা ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দিকে খুব বেশি ঝুঁকে পড়েছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Enable Notifications OK No thanks