নয়াদিল্লি: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিসৌধে উদ্দাম নাচ। রিলস বানাতে গিয়ে শহিদদের অপমান করার অভিযোগ। আমেরিকা থেকে বিতাড়িত হতে পারেন ভারতীয় যুবক। বিষয়টি বিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে ওয়াশিংটনে। পরিস্থিতি এতটাই তেতে উঠেছে যে, নিজের একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট মুছে দিতে হয়েছে ওই যুবককে। তাঁকে ভারতে ফেরত পাঠানো হতে পারে বলে খবর।
প্রবাসী ভারতীয় যুবক মধু রাজু বেশ কয়েক বছর ধরেই আমেরিকায় রয়েছেন। Non-immigrant ভিসা রয়েছে তাঁর। সোশ্য়াল মিডিয়ায় সম্প্রতি একটি নাচের রিল আপলোড করেন তিনি, যা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। মধুর উপর ক্ষিপ্ত আমেরিকার সাধারণ নাগরিক থেকে সেনা পরিবার এবং MAGA সমর্থকরা (ডোনাল্ড ট্রাম্পের শ্রেষ্ঠতর আমেরিকা গড়ার প্রতিশ্রুতির সমর্থক)।
TikTok-এ নাচের রিলটি আপলোড করেন মধু, যাতে আমেরিকায় ন্যাশনাল ওয়র্ল্ড ওয়ার ২ স্মৃতিসৌধে এক তরুণীর সঙ্গে নাচতে দেখা যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যোগ দেওয়া আমেরিকার ১ কোটি ৬০ লক্ষ সৈনিকের স্মৃতিতে তৈরি ওই সৌধ, যার মধ্যে ৪ লক্ষ শহিদ হন। শহিদস্মরণে, শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদনেই সেখানে ভিড় করেন সকলে।
তাই স্মৃতিসৌধে উদ্দাম নাচ দেখে ফুঁসে ওঠেন আমেরিকার নাগরিকরা। সোশ্য়াল মিডিয়ায় যেমন প্রতিবাদের ঝড় ওঠে, তেমনই বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের কানেও পৌঁছয়। আমেরিকার বীর সৈনিকদের প্রাণ বিসর্জনের স্মৃতি বহন করছে যে জায়গা, সেখানে ওই ধরনের রিল বানিয়ে শহিদদের অপমান করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে। অভিবাসীদের পক্ষে আমেরিকার আবেগ, আত্মত্যাগ বোঝা সম্ভব নয় বলেও দাবি করেন কেউ কেউ। এমনকি ভারতীয়দের আচার-আচরণ শিখে তবেই আমেরিকায় আসা উচিত বলে তির্যক মন্তব্যও করেন কেউ কেউ।
This is the World War II Memorial in #WashingtonDC
Some places deserve respect, not the IT department making socially awkward TikTok dances.
They ALL have to go back. @CyberGreen09 pic.twitter.com/FyTdcaDJC4— The Repatriator (@DrRepatriator) March 5, 2026
এক সমাজকর্মী সাইবার সিকিওরিটি সংস্থা Palo Alto Networks-কে ওই ভিডিও-য় ট্যাগ করেন। ২০২৫ সালের জুন মাস থেকে মধু ওই সংস্থায় কাজ করছেন বলে জানান তিনি। পাশাপাশি জানা যায়, MAD Dallas নামের একটি ডান্স স্টুডিও-ও চালান মধু। বিতর্কের জেরে ওই ডান্স স্টুডিও-র ওয়েবসাইট এবং সোশ্যাল মিডিয়া পেজ মুছে দেওয়া হয়। নিজের LinkedIn, Instagram অ্যাকাউন্টও মুছে দেন মধু। যদিও TikTok অ্যাকাউন্টটি সক্রিয় রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
তবে ইতিমধ্যেই আমেরিকার অভিবাসন বিভাগ মধুর গতিবিধি খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে। তাঁর ভিসা সংক্রান্ত নথিপত্রও খুঁটিয়ে দেখছেন আধিকারিকরা। আমেরিকার অভিবাসন আইন অনুযায়ী, কোনও মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে বা স্থানীয় রীতিনীতির বিরুদ্ধে কিছু করলে ভিসা বাতিল হতে পারে। নাচের ভিডিও বানানো যদিও অপরাধ নয়, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রীয় সৌধে এই ধরনের ভিডিও বানাতে গেলে সরকারি অনুমোদন প্রয়োজন। অন্য়থায় বিপদে পড়তে হতে পারে। মধু ইতিমধ্যেই ক্ষমা চেয়েছেন। কিন্তু তাঁকে নিজের দেশে ফেরত পাঠানোর দাবিতে অনড় স্থানীয়দের একাংশ। অভিবাসন বিভাগই এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। বিষয়টি নিয়ে শুনানি হবে। মধুর সঙ্গে যে তরুণীনে নাচতে দেখা যায়, তাঁর সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি এখনও পর্যন্ত।
