নয়াদিল্লি: ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ থেকে পিছু হটার ইঙ্গিত দিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু হরমুজ প্রণালী নিয়ে চাপানউতোর এখনও অব্যাহত। সেই আবহে ভারতকে বড় আশ্বাস জোগাল তেহরান। ভারতীয়দের ‘বন্ধু’ বলে উল্লেখ করল তারা। জানিয়ে দিল, হরমুজ নিয়ে ভারতের উদ্বেগের কোনও কারণ নেই। (India-Iran Relations)
আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের আবহে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে হরমুজ প্রণালী বন্ধ রেখেছে ইরান। ভারত-সহ ‘বন্ধুদেশ’গুলিকে ছাড় দেওয়ার কথা বললেও, এখনও বহু জাহাজ আটকে রয়েছে সেখানে। এর ফলে জ্বালানি সঙ্কট দেখা দিয়েছে। তাই আমেরিকা যুদ্ধ থেকে সরলেও হরমুজ নিয়ে সমাধান বেরোবে কি না, সেই নিয়ে সন্দিহান অনেকেই। (Strait of Hormuz)
সেই নিয়ে কাটাছেঁড়ার মধ্যেই ভারতকে আশ্বস্ত করেছে ইরান। দক্ষিণ আফ্রিকা ইরানের দূতাবাসের তরফে এদিন সোশ্য়াল মিডিয়ায় লেখা হয়, ‘শুধুমাত্র ইরান এবং ওমানই হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে। আপনারা নিরাপদ হাতেই রয়েছেন, চিন্তার কোনও কারণ নেই’।
ওই পোস্টটি আবার রিশেয়ার করে নিয়েছে ভারতে ইরানের দূতাবাস। তাদের বক্তব্য, ‘আমাদের ভারতীয় বন্ধুরাও নিরাপদ হাতেই রয়েছেন। চিন্তার কারণ নেই কোনও’।
Our Indian friends are in safe hands, no worries 😉 https://t.co/5NqoSFlDPQ
— Iran in India (@Iran_in_India) April 1, 2026
এই মুহূর্তে হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ করছে ইরান, যার উপর দিয়ে পৃথিবীর ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ হয়। যুদ্ধের শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত হাতেগোনা কিছু জাহাজই হরমুজ পেরনোর অনুমতি পেয়েছে। তবে ভারত, পাকিস্তান, চিন, রাশিয়া এবং ইরান-এই পাঁচ দেশকে ‘বন্ধু’ বলে উল্লেখ করেছে তারা। জানিয়েছে , এই পাঁচ দেশের জাহাজ হরমুজ দিয়ে চলাচল করতে পারে। তবে এখনও পর্যন্ত আটটি ভারতীয় জাহাজই হরমুজ পেরোতে পেরেছে। সেই তালিকায় রয়েছে BW TRY এবং BW ELM. ওই দুই জাহাজ ৯৪০০০ টন LPG বয়ে আনে।
তবে এখনও ১৯টি LPG, অশোধিত তেল এবং LNG ভর্তি জাহাজ আটকে রয়েছে সেখানে। গত ৩০ মার্চ বন্দর, জাহাজ এবং জলপথ মন্ত্রকের বিশেষ সচিব রাজেশ কুমার সিনহা জানান ভারতের পতাকা লাগানো ১০টি জাহাজ আটকে রয়েছে, যার মধ্যে তিনটি LPG বোঝাই, চারটি অশোধিত তেল বোঝাই এবং তিনটি LNG বোঝাই। এর পাশাপাশি, আরও কিছু জাহাজ রয়েছে, তিনটি LPG ট্যাঙ্কার, একটি LNG ক্যারিয়ার, চারটি তেলের ট্যাঙ্কার। একটি খালি ট্যাঙ্কারে LPG ভরা হচ্ছে।
