February 25, 2026
6b4d72d28cd4652190ed61c8624c30c01772016133418338_original.jpg
Spread the love


নয়াদিল্লি: ভারত বেনিজ়ুয়েলা থেকে তেল কিনবে বলে আগেই ঘোষণা করেছিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই মতো ভেনিজ়ুয়েলা থেকে তেল কিনতে শুরু করল ভারত। ভেনিজ়ুয়েলা থেকে আগের তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণ তেলই কেনা হচ্ছে। সেখান থেকে ভারতের উদ্দেশে রওনা দিচ্ছে ২০ লক্ষ ব্যারেল করে তেল বহন করতে সক্ষম তিনটি বড় ট্যাঙ্কার।  (India Buying Venezuelan Oil)

তবে এখনই সরাসরি ভেনিজু়য়েলার কাছ থেকে তেল কিনছে না ভারত। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আমেরিকার সংস্থা Chevron-এর মাধ্যমে এই কেনাবেচা হচ্ছে। তারা ভারতের Reliance Industries-কে তেল বিক্রি করা শুরু করল। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসের পর থেকে নতুন করে ফের ভেনিজ়ুয়েলার তেল কিনছে ভারত। রয়টার্স জানিয়েছে, Vitol এবং Trafigura-র তিনটি VLCC (Very Large Crude Carriers) ট্যাঙ্কার, Nissos Kea, Nissos Kythnos এবং Arzanah-র মার্চের স্লট বুক করা হয়েছে হোসে টার্মিনালে। তিনটি ট্যাঙ্কারই ভারতে তেল সরবরাহ করবে। পাশাপাশি, Olympic Lion নামের আরও একটি জাহাজ পৌঁছচ্ছে ভেনিজ়ুয়েলা। Vitol-এর কাছ থেকেও ২০ লক্ষ ব্যারেলের ট্যাঙ্কার কিনেছে রিলায়্যান্স। পাশাপাশি, ভেনিজ়ুয়েলার সরকারি তৈল সংস্থা PDVSA-র থেকে সরাসরি তেল কেনা নিয়েও আলোচনা চলছে। (Venezuelan Oil)

রয়টার্স জানিয়েছে, চলতি মাসেই রিলায়্যান্সের সঙ্গে অশোধিত তেল নিয়ে চুক্তি হয় শেভরনের। বসকান থেকে উত্তোলিত তেল রিলায়্যান্সকে বিক্রি করবে তারা। ছ’বছর পর এই প্রথম ভারী তেল দেওয়া হচ্ছে রিলায়্য়ান্সকে, যা থেকে পিচও তৈরি হয়। বৃহদাকার ট্যাঙ্কার ব্যবহারের অর্থ তেল রফতানিতে আবারও আগের জায়গায় ফিরে গিয়েছে ভেনিজ়ুয়েলা। কারণ VLCC নামের বৃহদাকার ট্যাঙ্কারগুলি সুয়েজ খাল দিয়ে চলাচল করা ট্যাঙ্কারের (Suezmax) চেয়ে দ্বিগুণ তেল বহন করতে পারে। মাঝারি আকারের Aframaxes ট্যাঙ্কারের থেকে চার গুণ বেশি। শুধু রিলায়্যান্সই নয়, ভেনিজ়ুয়েলা থেকে ভারী তেল কিনছে Indian Oil Corp, Bharat Petroleum Corp এবং HPCL Mittal Energy. 

২০১৯ সালে আমেরিকা নিষেধাজ্ঞা চাপানোর আগে পর্যন্ত ভেনিজ়ুয়েলার অশোধিত তেলের তৃতীয় বৃহত্তম ক্রেতা ছিল ভারত। সেখান থেকে দৈনিক ৮ লক্ষ ব্যারেল তেল আমদানি করা হচ্ছিল ভারতে। আমেরিকা নিষেধাজ্ঞা চাপানোর পর ভারত বিকল্প রাস্তা ধরে। রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে, নিষেধাজ্ঞা এড়িয়েই রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনছিল ভারত। ভারতকে তেলের দামে বেশ ছাড়ও দিচ্ছিল মস্কো। কিন্তু রাশিয়ার থেকে তেল কেনার জেরে ভারতের উপর ‘শুল্কশাস্তি’ চাপান ট্রাম্প। সব মিলিয়ে দু’দফায় ভারতের ঘাড়ে ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপানো হয়। ধাক্কা খায় ভারত এবং আমেরিকার বাণিজ্যচুক্তিও। 

সেই আবহেই চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ভেনিজ়ুয়েলা আক্রমণ করে আমেরিকা। দেশের তদানীন্তন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে বন্দি করে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি, ভেনিজ়ুয়েলার তেলের উপরও নিজেদের কর্তৃত্ব ঘোষণা করে আমেরিকা। এর পর বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয় ভারতের সঙ্গে। তাতে ট্রাম্প জানান, রাশিয়ার থেকে আর তেল কিনবে না ভারত। ভেনিজ়ুয়েলার তেলই কিনবে তারা। এর পরই জানা যায়, ধাপে ধাপে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা কমাতে শুরু করেছে ভারত। এবার ভেনিজ়ুয়েলা থেকে তেল কেনা শুরু হল। 





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Enable Notifications OK No thanks