এই পৃথিবীতে আমরা আমাদের চারপাশে নানা ধরনের মানুষ দেখতে পাই, কিন্তু এই কলিযুগে ভণ্ড বা প্রতারক লোকদের কীভাবে চিনতে হয় তা কি আপনি জানেন? যদি না জানেন, তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক।
প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্মান – চাণক্যের নীতির মূলমন্ত্র হলো “সোপচরঃ কৈতবঃ”। তাঁর মতে, যখন কেউ হঠাৎ করে আপনার প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সেবা করতে শুরু করে বা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সম্মান দেখায়, তখন আপনার সতর্ক হওয়া উচিত। ধূর্ত লোকেরা প্রায়শই আপনার বিশ্বাস অর্জনের জন্য লোকদেখানো সেবার আশ্রয় নেয়, যাতে তারা আপনার গোপন কথা জানতে পারে। এই ধরনের লোকেরা তাদের স্বার্থপর ইচ্ছা পূরণের জন্য যেকোনো সীমা অতিক্রম করতে পারে, কিন্তু প্রথম সুযোগেই আপনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করতে তারা কখনো দ্বিধা করে না।
নিজের নিয়ম লঙ্ঘন – চাণক্য বলেন যে, যে ব্যক্তি নিজের জন্য কঠোর নিয়ম তৈরি করে কিন্তু তা অনুসরণ করে না, সে অবিশ্বস্ত। যদি কেউ শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা নিয়ে অনেক কথা বলে কিন্তু নিজের জীবনকে অগোছালো রাখে, তবে সমাজ তাকে ভণ্ড বলে মনে করে। এই ধরনের লোকেরা অবশেষে অন্যের অধীন হয়ে পড়ে কারণ তাদের চারিত্রিক দৃঢ়তার অভাব থাকে।
অনৈতিক কাজে জড়িত – “নাস্তি কার্য্য দ্যুতপ্রত্তস্য” – চাণক্য এই সূত্রের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছেন যে, যে ব্যক্তি জুয়া, নেশা বা অন্যান্য অনৈতিক কাজে জড়িত, সে কখনও তার কর্তব্যের প্রতি আন্তরিক হতে পারে না। যদি এমন ব্যক্তি অন্যদের কাছে ধার্মিকতা ও ধর্মের প্রচার করে, তবে তা নিখাদ ভণ্ডামি। যেমন জুয়ার নেশার কারণে ধর্মরাজ যুধিষ্ঠিরের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, তেমনি একজন দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যক্তির জ্ঞানও কেবল একটি ভান মাত্র।
ব্যক্তিগত লাভের জন্য – চাণক্যের মতে, সমাজ ও রাষ্ট্রের ব্যবস্থা নির্দিষ্ট নীতিমালা এবং শাস্ত্রসম্মত আচরণের উপর ভিত্তি করে হওয়া উচিত। যে ব্যক্তি বা শাসক শুধুমাত্র নিজের ব্যক্তিগত লাভের জন্য প্রতিষ্ঠিত নীতিমালা পরিত্যাগ করে নতুন ও স্বেচ্ছাচারী নীতি প্রণয়ন করেন, তিনি সমাজে অবিশ্বাসের পাত্র হয়ে ওঠেন। এই ধরনের লোকেরা জনগণের কল্যাণের চেয়ে নিজেদের আধিপত্যকে বেশি প্রাধান্য দেয় এবং ভণ্ডামির মাধ্যমে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করে।
ব্যক্তিগত লাভের জন্য – চাণক্যের মতে, সমাজ ও রাষ্ট্রের ব্যবস্থা নির্দিষ্ট নীতিমালা এবং শাস্ত্রসম্মত আচরণের উপর ভিত্তি করে হওয়া উচিত। যে ব্যক্তি বা শাসক শুধুমাত্র নিজের ব্যক্তিগত লাভের জন্য প্রতিষ্ঠিত নীতিমালা পরিত্যাগ করে নতুন ও স্বেচ্ছাচারী নীতি প্রণয়ন করেন, তিনি সমাজে অবিশ্বাসের পাত্র হয়ে ওঠেন। এই ধরনের লোকেরা জনগণের কল্যাণের চেয়ে নিজেদের আধিপত্যকে বেশি প্রাধান্য দেয় এবং ভণ্ডামির মাধ্যমে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করে।
আচার্য চাণক্যের নীতি অনুসারে, মিষ্টি কথা ও ভদ্রতার মুখোশ পরলেই সবাই শুভাকাঙ্ক্ষী হতে পারে না। চাণক্য বলেন যে, ভণ্ডরা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য ধর্ম ও নৈতিকতাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে।
ডিসক্লেমার : ধর্মীয় বিশ্বাস নিজস্ব। এ ব্যাপারে কোনও মতামত এবিপি লাইভের নেই। এবিপি লাইভ ধর্ম সম্পর্কিত কোনো সম্পাদকীয় / সম্পাদক-নিয়ন্ত্রিত তথ্য, পরামর্শ প্রদান করে না। প্রদত্ত পরামর্শ ও তথ্য প্রয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
