নয়াদিল্লি: শহিদদের রক্তের প্রতিশোধ তোলার শপথ নিয়েছেন। জানিয়েছেন, কড়া হাতে শত্রুর মোকাবিলা করা চাই। কিন্তু আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের সঙ্গে তিন সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধে এখনও আড়ালেই রয়েছেন ইরানের নব নিযুক্ত সর্বোচ্চ শাসক আয়াতোল্লা মোজতবা আলি খামেনেই। পৃথিবীর তাবড় সংস্থাও তাঁর হাল-হদিশ পাচ্ছে না। মোজতবা কোথাও রয়েছেন, কী অবস্থায় রয়েছেন, তা নিয়ে রহস্য ক্রমশ গাঢ় হচ্ছে। (Mojtaba Ali Khamenei)
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলই প্রথম ইরানে হামলা চালায়। সেই হামলায় মারা যান আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-সহ পরিবারের অনেকেই। হামলার সময় বাবার বাসভবনেই ছিলেন মোজতবা। প্রাণে বেঁচে গেলেও, তাঁর অঙ্গহানি হয়েছে বলে এর আগে খবর উঠে আসে। সেই অবস্থাতেই মোজতবাকে দেশের সর্বোচ্চ শাসক ঘোষণা করেছে ইরানের অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস। কিন্তু মোজতবা কোথায়, তার সদুত্তর মেলেনি এখনও পর্যন্ত। (Iran News)
ইরানের সর্বোচ্চ শাসক নিযুক্ত হওয়ার পর এখনও পর্যন্ত দু’বার বার্তা দিয়েছেন মোজতবা। তবে সশরীরে উপস্থিত থেকে ভাষণ দেননি, কোনও ভিডিও বার্তাও প্রকাশ করেননি। তাঁর কণ্ঠস্বর পর্যন্ত শুনতে পারেননি কেউ। লিখিত বিবৃতি প্রকাশ করেছেন শুধুমাত্র। হালফিলে মোজতবার যে কয়েকটি ছবি পাওয়া গিয়েছে, সেগুলিতে AI, Google SynthID Tools-এর ব্যবহার চোখে পড়েছে। মোজতবার কাটআউট হাতে নিয়ে উল্লাসের ভিডিও-ও ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। আর তাতেই তাঁর হাল-হকীকত নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সন্দেহ দানা বাঁধছে ইরানবাসীর মনেও। মোজতবা আদৌ জীবিত আছেন কি না, প্রশ্নও তুলছেন কেউ কেউ।
আমেরিকার গুপ্তচর সমস্থা CIA এবং ইজ়রায়েলের গুপ্তচর সংস্থা Mossad-সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য যদিও বলছে, তেহরানে আধিকারিকরা মোজতবার সঙ্গে সাক্ষাতের সময় ঠিক করছেন বলে প্রমাণ মিলেছে। অর্থাৎ মোজতবা জীবিতই রয়েছেন। তবে তিনি কোথায় আছেন, কী অবস্থায় আছেন, তা কিছুতেই বোঝা সম্ভব হচ্ছে না। ইরানের সর্বোচ্চ শাসক ঘোষিত হলেও, মোজতবাই শাসনকার্য পরিচালনা করছেন, নাকি তাঁর নামে আড়াল থেকে অন্য কেউ সরকার চালাচ্ছে, তা নিয়ে ধন্দে আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগও। ইরানে আসলে কে সরকার চালাচ্ছে, প্রশ্নের সদুত্তর মিলছে না কিছুতেই।
অন্য দিকে, Axios-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক ইজ়রায়েলি আধিকারিক বলেন, “উনিই (মোজতবা) নির্দেশ দিচ্ছেন বলে আমাদের কাছে কোনও প্রমাণ নেই। অদ্ভূত পরিস্থিতি। তবে মনে হয় না, মৃত কাউকে সর্বোচ্চ শাসক ঘোষণা করতে এত লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে যেতে চাইবে ইরান। আবার উনিই যে সরকার চালাচ্ছেন, তার সপক্ষেও প্রমাণ নেই।” আমেরিকার যুদ্ধ সংক্রান্ত বিভাগের বিদেশসচিব পিট হেগসেথ বলেন, “যথেষ্ট ক্যামেরা, ভয়েস রেকর্ডার রয়েছে ইরানের কাছে। তাও কেন লিখিত বিবৃতি? উত্তরটা বোধহয় সকলের জানা। তথাকথিত সর্বোচ্চ নেতা আহত, চেহারাও সম্ভবত বিকৃত হয়ে গিয়েছে।”
শুক্রবার নওরোজ চলাকালীনও জনসমক্ষে আসেননি মোজতবা। তাঁর তরফে লিখিত বার্তা পেশ করা হয় আবারও। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল মস্ত ভুল করেছে, এখন হিসেব মেলাতে পারছে না বলে দাবি করেন তিনি। গত ৯ মার্চ ইরানের সর্বোচ্চ শাসক ঘোষিত হন মোজতবা। তিন দিন পর প্রথম বার্তা জারি করেন। শহিদদের রক্তের প্রতিশোধ তোলার প্রতিশ্রুতি দেন দেশবাসীকে।
