March 13, 2026
4140f2eb6a853340f4c74a2852fe730f17733906209871387_original.jpg
Spread the love


নয়াদিল্লি: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে (US Iran War) এবার সরাসরি প্রভাব পড়ল ভারতীয় অর্থনীতিতে (Indian Economy)। যুদ্ধের ধাক্কায় সর্বকালের রেকর্ড ভেঙে পতন ঘটল ভারতীয় মুদ্রার (Indian currency)। আজ বাজার খুলতেই মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় মুদ্রার দাম ৯২.৪৩ এ নেমে এসেছে, যা সর্বকালের সর্বনিম্ন। মনে করা হচ্ছে, অপরিশোধিত তেলের দাম (Crude Oil Price) বৃদ্ধি, মার্কিন মুদ্রার চাহিদা এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বহির্গমনের চাপের কারণে এমনটা ঘটেছে।

গত বুধবার অর্থাৎ ৪ মার্চ, যুদ্ধের ধাক্কায় টাকার দাম হঠাৎ ৭০ পয়সা বাড়ে। ডলারের দাম দাঁড়ায় ৯২.১৭ টাকা। আবার সোমবার ৯ মার্চ পুনরায় টাকার দাম বেড়ে হয়ে যায় ৯২.৩০ টাকা। কিন্তু আজ সব রেকর্ডকে ব্রেক করে টাকার দাম নেমে এসেছে ৯২.৪৩ এ। অর্থাৎ মার্কিন ১ ডলার কিনতে গেলে আপনাকে ভারতীয় মুদ্রায় ৯২.৪৩ টাকা খরচ করতে হবে। 

ফিনরেক্স ট্রেজারি অ্যাডভাইজার্স এলএলপি(Finrex Treasury Advisors LLP)-এর ট্রেজারি প্রধান এবং নির্বাহী পরিচালক অনিল কুমার বনসালি জানিয়েছেন, “যুদ্ধের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখার কথা ইরান বলার পরেই তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়। যার ফলে ডলারের দাম বাড়তে থাকে। ইউরোপীয় এবং এশিয়ান মুদ্রার দামও ডলারের তুলনায় কমেছে।”

বৈদেশিক মুদ্রার সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বিশ্বব্যাপী ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে রুপির উপর চাপ বাড়ছে। অনিল কুমার আরও বলেন, ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক যদি হস্তক্ষেপ না করে তবে রুপির মান আরও দুর্বল হয়ে যেতে পারে। তবে এই মুহূর্তে রুপির পতনের মূল কারণ হল, বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত ঊর্ধ্বমুখী তেলের দাম।

টাকার পতন কীভাবে আপনার পকেটে প্রভাব ফেলবে ?

১. টাকার দামে পতন ও অপরিশোধিত তেলের দাম উর্ধমুখীর ফলে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়তে পারে। এটি সরাসরি মধ্যবিত্তের পকেটে প্রভাব ফেলতে পারে। 

২. জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেলে এক্সপোর্ট-ইম্পোর্ট এর খরচ বাড়তে পারে। এর ফলে শাকসবজি, খাদ্যদ্রব্য এবং ভোগ্যপণ্যের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়তে পারে।

৩. টাকার দাম পড়ার কারণে বিদেশে ভ্রমণ, বিদেশে শিক্ষা এবং বিদেশের জিনিস কেনাকাটা আরও ব্যয়বহুল হতে পারে।

৪. ভারত যে সমস্ত জিনিস বাইরের দেশ থেকে আমদানি করে, অর্থাৎ ইলেকট্রনিক্স জিনিসপত্র, মেডিক্যাল সরঞ্জাম এবং রাসায়নিকের মতো কিছু পণ্য, এই সমস্ত জিনিসের দাম বাড়তে পারে। 

সুতরাং, অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি ও টাকার পতন সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে। ইতিমধ্যে গ্যাসের সঙ্কট যেভাবে ভোগাচ্ছে মানুষকে, এরপর যদি অন্যান্য জিনিসের দামও বৃদ্ধি হয় তবে জীবন অতিবাহিত করা দুর্বিষহ হয়ে দাঁড়াবে। 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Enable Notifications OK No thanks