April 11, 2026
b91f14e4417eb596029d4e23d1d831951763436350676170_original.jpg
Spread the love



ঢাকা : নতুন করে অশান্তি বাংলাদেশে। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্য়ুনাল প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিতেই বিক্ষোভের আগুনে জ্বলতে শুরু করেছে প্রতিবেশী রাষ্ট্র। বিরোধীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে হাসিনার আওয়ামী লিগ। ২০২৪ সালে সরকার-বিরোধী প্রতিবাদে তাদের ভূমিকার জন্য মহম্মদ ইউনূস-নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আগেই আওয়ামী লিগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। যদিও হাসিনার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা হতেই পথে নেমে প্রতিবাদে সরব হয়েছেন আওয়ামী লিগের সমর্থকরা। ছাত্র বিদ্রোহের সমন্বয়কারীদের নিয়ে গঠিত সংগঠন জাতীয় ছাত্র শক্তির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় তারা। 

সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের আগে, আওয়ামী লিগ এই রায়ের প্রতিবাদে দুই দিনের দেশব্যাপী বনধের ডাক দেয়। রায়ের পর হিংসার আশঙ্কায় ঢাকা এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন করা হয় নিরাপত্তাবাহিনী। যদিও রায় ঘোষণার পর বিক্ষোভকারীরা মিছিল করে গিয়ে বিভিন্ন হাইওয়ে ব্লক করে দেয়। বিরোধী সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশকে ব্যাটন ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করতে হয়। ছোড়া হয় টিয়ার গ্যাসের শেল। এমনই খবর বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রের।

দফায় দফায় অশান্তি। চলন্ত গাড়িতে আগুন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনা, পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন করা হয় বর্ডার গার্ড বাহিনীও। শেখ ইউনূসের জমানায় বারবার নৈরাজ্য়ের মাধ্য়মে শেখ হাসিনার চিহ্ন মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছে। ধানমন্ডিতে শেখ মুজিবর রহমানের বাড়িতে ভাঙচুর চলেছিল আগেই। রায় ঘোষণার পর অবশিষ্ট স্মৃতিটুকুও উপড়ে ফেলার চেষ্টা করে বিক্ষোভকারীরা। তবে যে ট্রাইনবুনাল সোমবার শেখ হাসিনাকে মৃত্য়ুদণ্ড দিয়েছে, তার কাজকর্ম, এক্তিয়ার ও বৈধতা নিয়ে বহু প্রশ্ন আছে।

১৯৭৩ সালের আইন অনুযায়ী তৈরি হয়েছিল বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ২০২৪ সালের গণবিক্ষোভ বা জুলাই আন্দোলনের পর এই ট্রাইব্যুনালের কাজের ধরন বদলে যায়। মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার এই ট্রাইব্যুনালকে ব্যবহার করছে ২০২৪-এর আন্দোলনের সময়ের অত্যাচারের বিচারের জন্য। যদিও এই ট্রাইব্যুনাল নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও একাধিক প্রশ্ন রয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতো সংস্থা শুরু থেকেই এর নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে। তারা বিচারের প্রক্রিয়ায় একাধিক অসঙ্গতিও খুঁজে পেয়েছে। বিশেষত বিরোধী নেতাদের টার্গেট করা এবং কারও অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার অভিযোগও রয়েছে এই ট্রাইব্যুনালের বিরুদ্ধে।

প্রথম আলো সূত্রে খবর, রায়ের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নেতারা উল্লাসে ফেটে পড়েন। মিষ্টি বিতরণ শুরু হয়। সিলেটের এনসিপির নেতারা রায় ঘোষণার পর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে মিষ্টি বিতরণ করেন। 

একদিকে যখন উচ্ছ্বাস, তখন আওয়ামী লিগের তরফে ২ দিনের শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করে তীব্র আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। 

গতবছর জুলাই থেকে কোটা-বিরোধী আন্দোলনে রণক্ষেত্র পরিস্থিতির সাক্ষী থেকেছে বাংলাদেশ। এবার কী হবে? সেদিকে নজর রয়েছে সকলেরই। 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Enable Notifications OK No thanks