মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও গ্যাসের সঙ্কটের আবহে ফের নতুন আতঙ্ক। এক পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই হাজির করোনা ভাইরাসের নতুন এক ভ্যারিয়েন্ট। যা নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে গোটা বিশ্বে। যার নাম BA.3.2। আবারও কি সেই ২০২০-২১ এর স্মৃতি ফিরে আসবে? চিন্তায় ঘুম উড়েছে সকলের।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ বহু দেশে কোভিড-১৯ এর একটি নতুন ভ্যারিয়েন্ট বিএ.৩.২ ( BA.3.2) শনাক্ত হয়েছে। এই ভ্যারিয়েন্ট সাধারণত ‘সিকাডা’ (Cicada) নামে পরিচিত। যা নিয়ে চিন্তায় গোটা বিশ্ব। বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের রিপোর্ট অনুযায়ী, এই নতুন ভ্যারিয়েন্টটি ইতিমধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ প্রায় ২০ টিরও বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও ভারতে এখনও পর্যন্ত এই ভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্টে কেউ আক্রান্ত হন নি। যাতে কোনও খারাপ পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, তাই স্বাস্থ্য আধিকারিকরা এই বিষয় নিয়ে সমস্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
বিএ.৩.২ বা ‘সিকাডা’ ভ্যারিয়েন্ট আসলে কী?
বিএ.৩.২ বা ‘সিকাডা’ হলো ওমিক্রন-এর একটি উপ-বংশ। গবেষকদের মতে, ‘Cicada’ একটি পোকামাকড়ের নাম, যা দীর্ঘ সময় মাটির নিচে থাকার পর হঠাৎ করে বেরিয়ে আসে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই ভ্যারিয়েন্টে বিপুল সংখ্যক মিউটেশন একত্রিত হয়ে এটিকে আরও স্বতন্ত্র করে তুলেছে। এতে আনুমানিক ৭০-৭৫টি মিউটেশন থাকতে পারে, যার বেশিরভাগই ‘স্পাইক প্রোটিনে’ রয়েছে। ভাইরাসের এই অংশটিই মানুষের শরীরের কোষে প্রবেশ করে অনায়াসে।
অনেকের মনে প্রশ্ন, আগের ভ্যারিয়েন্টকে প্রতিরোধ করতে যে ভ্যাকসিন নেওয়া হয়েছিল, তা কি এই নতুন ভ্যারিয়েন্টকে হার মানাবে? যদিও এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা স্পষ্টভাবে কিছু না জানালেও, তাঁদের মতে, এর প্রকৃত প্রভাব বুঝতে আরও তথ্যের প্রয়োজন। তবে চিন্তার কিছু নেই। আপাতত আতঙ্কের কোনও কারণ নেই বলেই জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬-এর জানুয়ারির মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম তিনজন রোগীর মধ্যে এই ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া যায়। বর্তমানে সব রোগীই সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তাই এই মুহূর্তে এমন কোনও প্রমাণ নেই যে বিএ.৩.২ আগের ভ্যারিয়েন্টগুলির তুলনায় বেশি গুরুতর ও ক্ষতিকারক।
উপসর্গগুলো কী কী ?
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন এই ভ্যারিয়েন্টেও উপসর্গগুলো ‘ওমিক্রন‘ ভ্যারিয়েন্টগুলোরই মতোই।
১. এমনি জ্বর বা হঠাৎ কাঁপুনি দিয়ে জ্বর।
২. কাশি। কখনও কখনও তীব্র কাশি।
৩. গলা ব্যথা।
৪. ক্লান্তি এবং শরীরে ব্যথা।
৫. প্রচণ্ড মাথা ব্যথা।
৬. নাক দিয়ে জল পড়া বা নাক বন্ধ হয়ে থাকা।
৭. শ্বাসকষ্ট হওয়া।
৮. চোখ থেকে জল পড়া বা চোখ জ্বালা করা।
৯. বমি বমি ভাব বা হজমের সমস্যা।
১০. ত্বকে ফুসকুড়ি হওয়া।
ভারতের জন্য কতটা ভয়ের?
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আপাতত ভারতে এই ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। তবে নিজেকে সুস্থ থাকতে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
Check out below Health Tools-
Calculate Your Body Mass Index ( BMI )
Calculate The Age Through Age Calculator
