Stock Market : বর্তমান যুগে বদলে গেছে শেয়ার বাজারে ট্রেডিংয়ের ধারণা। এখন ডিজিটাল ট্রেডিং ভারতে বিনিয়োগের পদ্ধতিকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। আগের মতো ব্রোকারের অফিসে যাওয়া, অসংখ্য কাগজপত্র এবং দীর্ঘ অপেক্ষার প্রয়োজন হয় না এবার। আজকাল এক মোবাইল ক্লিকেই করা যায় এই কাজ। আজ বিনিয়োগকারীরা সহজেই ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট খুলতে, শেয়ার কেনা-বেচা করতে, আইপিও-র জন্য আবেদন করতে এবং মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করতে পারেন। এই সুবিধা বিনিয়োগকে সহজ করলেও, এটি সাইবার জালিয়াতির ঝুঁকিও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
কেন খুচরো বিনিয়োগকারীরা টার্গেট হচ্ছেন
ডিজিটাল ইন্ডিয়ায় সাইবার অপরাধীরা এখন নতুন ও সহজ টার্গেট হয়ে উঠেছে। অপরাধীরা এখন আর শুধু সোশ্যাল মিডিয়া বা ইমেল অ্যাকাউন্টে সীমাবদ্ধ নেই, তারা ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট, ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট, ইউপিআই এবং অনলাইন ব্যাঙ্কিং প্ল্যাটফর্মগুলিকে নিশানা করছে। কারণ এগুলি থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ফান্ডের বিষয়ে জানা যায়। এই হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে, বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ (বিএসই) পর্যায়ক্রমে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
সামান্য অসাবধানতা, হতে পারে বড় আর্থিক ক্ষতি
বিনিয়োগকারীরা প্রায়শই এমন ভুল করেন যা বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। দুর্বল পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা, পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে ট্রেড করা, অজানা লিঙ্কে ক্লিক করা বা নিজেদের ব্রোকার দাবি করা ব্যক্তিদের ভুয়া কলে বিশ্বাস করা—এগুলো সবই সাধারণ ভুল। এই ধরনের ক্ষেত্রে, আপনার ব্যক্তিগত এবং আর্থিক তথ্য জালিয়াতদের হাতে চলে যেতে পারে, যা অ্যাকাউন্ট হারানোর ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
আপনার ডেটা আপনার সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ
আজকের ডিজিটাল যুগে, একজন বিনিয়োগকারীর সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ শুধু টাকাই নয়, বরং তার আর্থিক তথ্যও। ট্রেডিং এবং ব্যাঙ্কিং অ্যাপগুলোতে প্যান, আধার, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ, পোর্টফোলিও এবং লেনদেনের ইতিহাসের মতো সংবেদনশীল তথ্য থাকে। এই ডেটা ভুল হাতে পড়লে এর গুরুতর পরিণতি হতে পারে, যেমন অননুমোদিত ট্রেডিং, জালিয়াতিমূলক ঋণ, অবৈধ লেনদেন এবং পরিচয় চুরি। একারণেই সাইবার অপরাধীরা এই ডেটা টার্গেট করে।
এখন প্রতারণার পদ্ধতিও হাই-টেক হয়ে গেছে
সাইবার জালিয়াতি এখন আর শুধু ওটিপি চাওয়ার কলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আজকাল অপরাধীরা এআই-ভিত্তিক ফিশিং, আসল ওয়েবসাইটের মতো দেখতে নকল ওয়েবসাইট, ক্লোন করা অ্যাপ, স্ক্রিন-শেয়ারিং স্ক্যাম এবং রিমোট অ্যাক্সেস ম্যালওয়্যারের মতো পদ্ধতি ব্যবহার করছে। তাদের লক্ষ্য হলো বিনিয়োগকারীদের অজান্তেই তাদের ফোন বা অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া।
ডিজিটাল সুরক্ষার জন্য কী করা উচিত
বিশেষজ্ঞরা একমত যে সামান্য ডিজিটাল সতর্কতা অবলম্বন করলেই বেশিরভাগ ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। প্রথমত, শক্তিশালী পাসওয়ার্ড তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি, যাতে বড় ও ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা এবং বিশেষ চিহ্ন অন্তর্ভুক্ত থাকে। নাম, জন্মতারিখ বা মোবাইল নম্বরের মতো সহজ তথ্য ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
এছাড়াও, নিশ্চিত করুন যে আপনার অ্যাকাউন্টে টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (2FA) চালু আছে, যাতে আপনার পাসওয়ার্ড ফাঁস হয়ে গেলেও অ্যাকাউন্টটি সুরক্ষিত থাকে। ট্রেডিং বা ব্যাংকিংয়ের কাজের জন্য কখনোই পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহার করবেন না। শুধুমাত্র অফিসিয়াল স্টোর থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করুন এবং সেগুলো নিয়মিত আপডেট করুন।
( মনে রাখবেন : এখানে প্রদত্ত তথ্য শুধুমাত্র তথ্যের উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে। এখানে উল্লেখ করা জরুরি যে, বাজারে বিনিয়োগ করা ঝুঁকি সাপেক্ষ। বিনিয়োগকারী হিসাবে অর্থ বিনিয়োগ করার আগে সর্বদা একজন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করুন। ABPLive.com কখনও কাউকে এখানে অর্থ বিনিয়োগ করার পরামর্শ দেয় না। এখানে কেবল শিক্ষার উদ্দেশ্যে এই শেয়ার মার্কেট সম্পর্কিত খবর দেওয়া হয়। কোনও শেয়ার সম্পর্কে আমরা কল বা টিপ দিই না। )
