চেন্নাই: ঝিমিয়ে পড়া শিবিরকে তাতিয়ে দিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ় ম্যাচের ফল। আমদাবাদের ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়কে হারিয়ে সেমিফাইনালের পথে এক ধাপ এগিয়ে গিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। পাশাপাশি দরজা খুলে দিয়েছে ভারতের সামনেও। নিজেদের শেষ দুই ম্যাচ সরাসরি জিতেই সেমিফাইনালে পৌঁছে যেতে পারে ভারত। রান রেটের তোয়াক্কা না করেই।
সেই অক্সিজ়েনের বলেই চেন্নাইয়ে দাপট দেখালেন ভারতীয় ব্যাটাররা। জ়িম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে রানের পাহাড়ে ভারত। টস জিতে ভারতকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন সিকন্দর রাজা। প্রথমে ফিল্ডিং করে নিতে চেয়েছিল জ়িম্বাবোয়ে। যারে রাতের শিশিরের সমস্যা এড়াতে পারেন বোলাররা।
তবে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে জ়িম্বাবোয়ে বোলিংকে দুরমুশ করলেন ভারতীয় ব্যাটাররা। টসের পরই সূর্যকুমার যাদব জানিয়েছিলেন যে, দলে দুটি পরিবর্তন করেছেন। চাপের মুখে টি-২০ দলের সহ অধিনায়ক অক্ষর পটেলকে দলে ফেরানো হয়েছে। ওয়াশিংটন সুন্দরের পরিবর্তে। ওয়াশিংটনকে নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার রাস্তা থেকে অবশেষে সরেছে ভারত। পাশাপাশি রিঙ্কু সিংহের পরিবর্তে খেলানো হচ্ছে সঞ্জু স্যামসনকে। সঞ্জুই বৃহস্পতিবার অভিষেক শর্মার সঙ্গে ইনিংস ওপেন করলেন।
ভারতকে শুরুতেই চালকের আসনে বসিয়ে দেন দুই ওপেনার। সঞ্জু বড় রান পাননি। তবে ১৫ বলে ২৪ রান করে ইনিংসের গতিটা শুরুতেই ফিফথ গিয়ারে বেঁধে দেন। মাত্র ২২ বলে ৪৮ রান যোগ করেন দুই ওপেনার।
এরপর সঞ্জু ফিরলেও অভিষেক ও ঈশান কিষাণ মিলে ধ্বংসলীলা চালান। টি-২০ ক্রিকেটে বিশ্বের এক নম্বর ব্যাটার অভিষেক শর্মার টুর্নামেন্ট কাটছিল দুঃস্বপ্নের মতো। টানা তিন ম্যাচে শূন্য। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ১৫। অবশেষে সুপার এইটের দ্বিতীয় ম্যাচে ছন্দে ফিরলেন বাঁহাতি ব্যাটার। ২৬ বলে হাফসেঞ্চুরি। ৩০ বলে ৫৫ রান করলেন। ২৪ বলে ৩৮ ঈশান কিষাণের। দ্বিতীয় উইকেটে ৪২ বলে ৭২ রান যোগ করলেন দুজনে।
সেই ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে তাণ্ডব চালালেন তিলক বর্মা (১৬ বলে অপরাজিত ৪৪ রান), হার্দিক পাণ্ড্য (২৩ বলে অপরাজিত ৫০ রান), সূর্যকুমার যাদবরা (১৩ বলে ৩৩ রান)। ২০ ওভারের শেষে ভারতের স্কোর ২৫৬/৪। টি-২০ বিশ্বকাপে যা ভারতের রেকর্ড। ২০০৭ সালে প্রথম টি-২০ বিশ্বকাপে ডারবানে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২১৮/৪ তুলেছিল ভারত। স্টুয়ার্ট ব্রডকে যুবরাজ সিংহের ছ’বলে ছয় ছক্কা মারার বিখ্যাত সেই ম্যাচ। সেই রেকর্ড ছাপিয়ে এদিন ভারত তুলল ২৫৬ রান। যা টি-২০ বিশ্বকাপের ইতিহাসে ভারতের সর্বোচ্চ।
