জেন জি বিদ্রোহের পর এবার প্রথম জাতীয় নির্বাচন হতে চলেছে আমাদের পড়শি দেশ নেপালে। এই নির্বাচনে আবার অংশ নিয়েছেন সদ্য ক্ষমতাচ্যুত সে দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জেন জি বিদ্রোহের পর ক্ষমতাচ্যুত হন অলি। আর সেই বিদ্রোহের মুখ ছিলেন নেপালের প্রাক্তন র্যাপার বলেন্দ্র শাহ। আর চলতি এই নির্বাচনে অলির বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন সেই বলেন্দ্রই।
কে এই বলেন্দ্র শাহ?
২০১৩ সালের আগে বলেন্দ্রকে কেউ চিনত না। কিন্তু তারপর রাতারাতি দেশের মানুষের কাছে তাঁর কাজের জন্যই একপ্রকার পরিচিত হয়ে ওঠেন র্যাপার বলেন্দ্র। সেই বলেন্দ্র পরবর্তীতে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর মেয়র হিসাবেও নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে যখন নেপালে অলি সরকারের পতন ঘটে তখন নেপালের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসাবে জেন জি-দের প্রথম পছন্দ হয়ে ওঠেন তিনি। যদিও সেই বলেন্দ্র কখনওই নেপালের অন্তররর্তীকালীন প্রধান হতে চাননি। নেপালের সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কিকে দেশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান হিসাবে সমন করেন তিনি
বলেন্দ্র, যিনি দেশের মানুষের কাছে বলেন নামেই পরিচিত, তিনি চলতি নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলির বিরুদ্ধে। তিনি কাঠমান্ডুর হিমালয়ন হোয়াইট হাউস ইন্টারন্যাশনাল কলেজ থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ও কর্ণাটকের বিশ্বেশ্বরায়া টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি বা ভিটিইউ থেকে স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ট্র্যাডিশনাল ইনফ্রাস্ট্রাকচারে পিএইচডি করছেন।
ভৌগলিক ভাবে নেপালের অবস্থান ভারত ও চিনের একেবারে মাঝ বরাবর। ফলে, এই দেশের রাজনীতিতে ভারত ও চিনের একটা গভীর প্রভাব রয়েছে। নেপালের কোনও সরকার ভারতপন্থী তো কোনও সরকার চিনপন্থী হিসাবেই চিহ্নিত হয়। কিন্তু বলেন্দ্র এমন এক মানুষ যিনি নিজেকে নেপালপন্থী হিসাবে পরিচয় দিতে ভালবাসেন। এমনকি একবার এক পোস্ট করে ভারত ও চিনকে এবং নেপালের একাধিক রাজনৈতিক দলকে একই সারিতে রেখে গালাগাল করেন তিনি। যদিও এর কয়েক মাস পরই তিনি নেপালের রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্রতা পার্টি বা আরএসপিতে যোগ দেন। এই দলকেই তিনি আগে গালি দিয়েছিলেন। পরে যদিও তিনি ওই পোস্টটি মুছে ফেলেন।
নেপালের জেন-জিরা বলেন্দ্রকে প্রবল ভাবে ফলো করেন। তাঁকে বেশিরভাগ সময় কালো জ্যাকেট ও কালো সনগ্লাস পরেই দেখা যায়। এ ছাড়াও এক সময় তিনি দেশের সরকার বিরোধী র্যাপ গানের মাধ্যমেও দেশের যুব ভোটারদের মন জয় করেছিলেন।
আজ ৫ মার্চ ভোট গ্রহণ চলছে নেপালে। এবং আগামী কালই হয়তো শুরু হয়ে যাবে ভোট গণনা। ফলে আগামী ৬ মার্চ রাতে বা ৭ মার্চ সকলের দিকে এই নির্বাচনের ফলাফল জানা যাবে।
