নয়াদিল্লি: আজ রাতেই ইরানের শেষ বলে ঘোষণা করলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর তার পরই ইরানের তৈলভাণ্ডার, খার্গ দ্বীপে পর পর বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে বলে খবর। খার্গ দ্বীপ আমেরিকার দখল করতে পারে বলে আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। পরিস্থিতি কোন দিকে বাঁক নিতে চলেছে, সেই নিয়ে রক্তচাপ বাড়ছে এই মুহূর্তে। (Donald Trump)
হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে হবে বলে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন ট্রাম্প। আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি রয়েছে ওই সময়সীমা পেরনোর। তার আগে ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘আজ রাতে একটা গোটা সভ্যতার মৃত্যু হবে, আর ফেরানো যাবে না। আমি চাই না সেটা হোক, কিন্তু হয়ত হবেই। এখন ক্ষমতার সম্পূর্ণ পালাবদলই লক্ষ্য, যেখানে ভিন্ন ভিন্ন স্মার্ট, কম চরমপন্থী মানসিকতার লোকজন থাকবেন, হতে পারে বড় ধরনের বিপ্লব ঘটবে। কে জানে? আজ রাতেই বোঝা যাবে’। (US-Iran War)
ট্রাম্পের দাবি, গোটা বিশ্বের যে দীর্ঘ এবং জটিল ইতিহাস, এই মুহূর্তে তা সন্ধি ক্ষণে দাঁড়িয়ে। ৪৭ বছরের তোলাবাজি, দুর্নীতি, মৃত্য়ুমিছিলের অবসান ঘটতে চলেছে পাকাপাকি ভাবে। ইরানের মহান মানুষদের আশীর্বাদ করুন ঈশ্বর’। আজ রাতে বড় কিছু ঘটবে বলে জানালেও, তিনি যে ধ্বংসলীলা চান না, তাও জানিয়েছেন ট্রাম্প। তাই শান্তির পথ ট্রাম্প খোলা রেখেছেন বলেই মনে করছেন কূটনীতিকরা।
𝐃𝐨𝐧𝐚𝐥𝐝 𝐉. 𝐓𝐫𝐮𝐦𝐩 𝐓𝐫𝐮𝐭𝐡 𝐒𝐨𝐜𝐢𝐚𝐥 𝐏𝐨𝐬𝐭 𝟎𝟖:𝟎𝟔 𝐀𝐌 𝐄𝐒𝐓 𝟎𝟒.𝟎𝟕.𝟐𝟔 pic.twitter.com/ntXcaNXpg4
— Commentary Donald J. Trump Posts From Truth Social (@TrumpDailyPosts) April 7, 2026
লাগাতার ইরানকে হুমকি-হুঁশিয়ারি দিয়েই চলেছেন ট্রাম্প। তাদের পরিকাঠামো ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন। গোড়ায় ইরানের জন্য ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছিলেন তিনি। তবে পরবর্তীতে একাধিকবার সেই সময়সীমার মেয়াদ বাড়িয়েছেন। সব মিলিয়ে প্রায় ৪০৮ ঘণ্টার ডেডলাইন দিয়েছেন এখনও পর্যন্ত। প্রথম বার পাঁচ দিন টিকেছিল ডেডলাইন। মার্চের শেষ দিকে আরও ১০ দিন যুক্ত হয়। সোমবার সেই সময় সীমার মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়ার কথা ছিল, তবে মাঝে ফের স্থগিতাদেশ বসে। ফলে দোলাচল দেখা দিয়েছে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলই প্রথম হামলা চালায় ইরানে। আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে হত্যা করে তারা। তাহলে কি আবার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ট্রাম্প? সোমবার ট্রাম্প জানান, যুদ্ধাপরাধ নিয়ে বিন্দুমাত্র চিন্তিত নন তিনি। মঙ্গলবার রাত ৮টার মধ্যে হরমুজ না খুললে, ইরানের পরিকাঠামো গুঁড়িয়ে দেবেন তিনি।
রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুটারেস ইতিমধ্যেই সতর্ক করেছেন আমেরিকাকে। তাঁর মুখপাত্র জানান, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নাগরিক পরিকাঠামোর উপর হামলা নিষিদ্ধ। তবে ইরানের তরফে এখনও পর্যন্ত মাথা নোয়ানোর কোনও ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি। তাদের স্পষ্ট দাবি, যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ হবে, নতুন করে আঘাত করা হবে না, সেই শর্তেই একমাত্র যুদ্ধবিরতিতে এগোবে তারা। পাশাপাশি, ক্ষতিপূরণের দাবিতেও অনড় ইরান।
