পশ্চিম এশিয়াতে (US Iran War) যুদ্ধ লেগেছে। এর ফলে, উত্তেজনা বাড়ছে বিশ্বজুড়ে। আর এর ফলে দেশের বাজারে বাড়ছে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা। আসলে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, বাণিজ্যে সমস্যা বা কোনও নীতি বদলানোর মতো ঘটনার ফলে শেয়ার বাজার (Share Market), কারেন্সি ইনডেক্স বা কমোডিটি মার্কেটে (Commodity Market) অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। গোটা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাজার দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। কখনও কখনও কোনও বাজার স্বল্পমেয়াদে পতন ঘটে, ফলে বিনিয়োগকারীদের জন্য এই বাজারে বিনিয়োগ আরও দুশ্চিন্তার হয়ে যায়। ফলে, যাঁরা দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করতে চাইছেন, বাজারের এই টালমাটাল সময়ে তাঁদের উচিৎ শান্ত থাকা। কারণ, এই অবস্থায় কোনও ভুল সিদ্ধান্ত বিনিয়োগকারীর অনেক লস করিয়ে দিতে পারে।
বাজারের অস্থিরতা স্বাভাবিক
গোটা বিশ্বের যে কোনও দেশের বাজারই ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, বা কোনও অর্থনৈতিক অস্থিরতার খবরে নড়ে যেতেই পারে। আর এই অবস্থায় বিনিয়োগকারীরা (Investors) তাঁদের বিনিয়োগ সঠিক রাখতে সোনা (Gold) বা সরকারি বন্ডের (Govt. Bond) মতো ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাড়িয়ে দেন। এর ফলে পতন দেখে দেয় ইক্যুইটি বাজারে (Equity Market)। আবার সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বা ইক্যুইটি বাজারে পতনের ফলে যখন বিভিন্ন স্টকের ভ্যালু অনেকটা কমে যায়, তখন বিনিয়োগকারীরা আবার ছুটে আসেন সেখানে বিনিয়োগ করতে। তখন বাজার আবার স্বাভাবিক ভাবে বাড়তে শুরু করে।
বিনিয়োগে আবেগ দেখবেন না
বিনিয়োগের ক্ষেত আবেগ বড় ক্ষতিকর জিনিস। কারণ, কোনও অনিশ্চয়তার কারণে বাজার যদি পড়ে যায়, সে ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একটা প্যানিক কাজ করে। আর এই প্যানিক আসলে ক্ষতিকর। বাজার যখন টালমাটাল তখন আবেগের বশেই অনেকে নিজের এসআইপি বন্ধ করে দেন বা বিনিয়োগ নিয়ে কোনও ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। আর এটাই হয় সবচেয়ে ক্ষতিকর। কারণ, এর ফলে দীর্ঘমেয়াদী যে পরিকল্পনা তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পোর্টফোলিওর বৈচিত্র বাড়ান
বিনিয়োগের আরও একটা নিয়ম হল পোর্টফোলিওতে বৈচিত্র তৈরি করা। বৈচিত্র অর্থাৎ একাধিক ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করা। এর মধ্যে যেমন স্টক রয়েছে, তেমনই রয়েছে ইক্যুইটি মিউচুয়াল ফান্ড। আবার রয়েছে ডেট ফান্ড ও বিভিন্ন কমোডিটি। কারণ, কোনও একটা দিন যদি পড়েও যায়, হলেও অন্য দিকটি আপনার পোর্টফোলিওতে ভাসিয়ে রাখে। আর এটাই করতে বলেন বিশেষজ্ঞরা।
