মস্কো : শেষ নেই সংঘাতের, দাবি-পাল্টা দাবির। এবার আমেরিকার তৈরি করা যুদ্ধবিমান গুলি করে নামানোর দাবি করল রাশিয়া। তাদের বক্তব্য, এস-৩০০ সিস্টেম থেকে দু’টি মিসাইল নিক্ষেপ করে মার্কিন-নির্মিত ইউক্রেনীয় এফ-১৬ যুদ্ধবিমান নামানো হয়েছে। যা তাদের কাছে খুবই উত্তেজনাপূর্ণ টার্গেট ছিল বলে মন্তব্য করেছে রাশিয়া। রাশিয়া নিউজ সূত্রের খবর।
ঘটনার পর রাশিয়ার এস-৩০০ ব্যাটেলিয়ন কমান্ডার বলেছে, আমেরিকা সর্বদাই সবচেয়ে উন্নত যুদ্ধাস্ত্রগুলির মধ্যে একটি বলে গর্ব করে এই এফ-১৬-কে। আমেরিকার তৈরি সেই যুদ্ধবিমানকে গুলি করে নামানো, সামগ্রিক টার্গেটের মধ্যে সবথেকে উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। প্রথম মিসাইলটি যুদ্ধবিমানের ক্ষতিসাধন করে এবং দ্বিতীয়টি সেটিকে একেবারে গুঁড়িয়ে দেয়। অন্য টার্গেটগুলির মতোই যুদ্ধবিমানটি মাটিতে নেমে আসে।
রাশিয়ার স্থানীয় প্রশাসনিক আধিকারিকরা জানিয়েছেন, রবিবার ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার ভোরোনেঝ শহরে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন এবং আরও তিন জন আহত হয়েছেন। এদিকে রাশিয়ার ক্রমাগত বোমা নিক্ষেপের জেরে ইউক্রেনের কিভ শহরে হাজার হাজার মানুষ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন।
গত তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। দফায় দফায় আলোচনাতেও সমঝোতা হয়নি আজ পর্যন্ত। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি হয়নি। বরং প্রায়ই দুই তরফে আগ্রাসনের খবর উঠে আসছে। এই পরিস্থিতিতে সম্প্রতি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফ্লোরিডায় বৈঠকে বসেন ট্রাম্প। রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করার জন্য তাঁরা খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন বলে দাবি করেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। যদিও কাঁটাযুক্ত এলাকা নিয়ে সমস্যা রয়েই গেছে। এই বৈঠকের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ট্রাম্প। সেই আলোচনা গঠনমূলক হয়েছে বলে দাবি করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প বলেন, “এটি খুবই ফলপ্রসূ আলোচনা ছিল। আমি বলতে চাইছি, আমাদের বেশ কিছু জটিল সমস্যা রয়েছে, যেমনটা আপনারা কল্পনা করতে পারেন।” সেই সমস্যাগুলির সমাধান করা গেলে উন্নতি সম্ভব বলে দাবি করেন ট্রাম্প। এদিকে ডিসেম্বরের শেষদিকে ইউক্রেন থেকে পাঠানো একঝাঁক ড্রোনের টার্গেট ছিল তাঁর একটি বাসভবন। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নাকি একথা জানিয়েছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করে কিভ। ফ্লোরিডায় মার-এ-লাগো রিসর্টে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানইয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প জানান, ফোনে কথোপকথনের সময় সংশ্লিষ্ট বিষয়টি তোলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট।
