তেহরান : আমেরিকা-ইজরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর অশান্ত পশ্চিম এশিয়া। হামলা-পাল্টা হামলা লেগেই রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকার সঙ্গে কি সমঝোতার পথে হাঁটবে ইরান ? এনিয়ে চর্চা চলছে বিশেষজ্ঞ মহলে। যদিও এনিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলি লারিজানি। আমেরিকার সঙ্গে সমঝোতার পথে হাঁটবে না ইরান, জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। প্রসঙ্গত, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল রিপোর্ট করেছে যে, ওমানের মধ্যস্থতায় আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে রাজি লারিজানি। যাকে উদ্ধৃত করে খবর করে অল জাজিরা ব্রেকিং। তারই জবাবে সমঝোতার প্রসঙ্গ উড়িয়ে দিয়েছেন লারিজানি।
পশ্চিম এশিয়ায় অশান্তি ছড়ানোর জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন লারিজানি। বলেছেন, “তাঁর বিভ্রান্তিকর কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে, তিনি তাঁর স্ব-নির্মিত ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ স্লোগানকে ‘ইজরায়েল ফার্স্ট’- তে রূপান্তরিত করে এবং ইজরায়েলের ক্ষমতালোভী উচ্চাকাঙ্ক্ষার জন্য আমেরিকান সৈন্যদের বলি দিচ্ছেন… ১/২ … এবং নতুন সাজানো তথ্য দিয়ে, আবারও আমেরিকান সেনা এবং তাঁদের পরিবারের উপর নিজের চরিত্র হত্যার মূল্য চাপিয়ে দিচ্ছেন। আজ, ইরানি জাতি আত্মরক্ষা করছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনী আগ্রাসন শুরু করেনি। ২/২”
শনিবার যৌথভাবে অপারেশন এপিক ফিউরি/রোরিং লায়ন চালায় ইজরায়েল ও আমেরিকা। তাতে নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খামেনেই। তাঁর মৃত্যুর পর দ্বিতীয় দফায় বৈঠকে বসে প্রভিশনাল লিডারশিপ কাউন্সিল। এদিকে খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর, ইরানের জনগণের উদ্দেশে ভাষণ দেন ট্রাম্প। তিনি ইরানে সরকার ফেলে দেওয়ার আহ্বান জানান তাঁদের উদ্দেশে। ইরানে আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলার পর ইরানের জনগণের উদ্দেশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “বহু প্রজন্ম পর এটাই হয়ত আপনাদের একমাত্র সুযোগ হতে চলেছে।”
খামেনেই এবং ইরানের শীর্ষ স্থানীয় নিরাপত্তা আধিকারিকদের অনেকের মৃত্যুর পর প্রভিশনাল লিডারশিপ কাউন্সিল গঠন করা হয়। নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান-সহ অন্তর্বর্তীকালীন কাউন্সিল ইরানের তত্ত্বাবধান করবে।
এদিকে ইরানে রাষ্ট্রপোষিত সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেশের ২৪টি প্রদেশে হামলার জেরে অন্তত ২০১ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। অল জাজিরা সূত্রে এমনই খবর। পাল্টা ড্রোন আক্রমণে আমেরিকার ৫৬০ জন সেনা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। দুবাই, আবু ধাবি, দোহা পরপর বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছে। ইজরায়েলের জনবসতিতে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে ইরানের বিরুদ্ধে।
