সন্দীপ সরকার, কলকাতা: আইপিএলের ইতিহাসে অন্যতম গ্ল্যামারাস ম্যাচ। যে ম্যাচে ক্রিকেটীয় লড়াইকেও মাঝে মধ্যে ছাপিয়ে যায় তারকার দ্যুতি। হবে নাই বা কেন? এক দলের মালিক শাহরুখ খান। অন্য দলের মালকিন প্রীতি জিন্টা।
আইপিএলে যখনও কলকাতা নাইট রাইডার্স আর পঞ্জাব কিংস মুখোমুখি হয়েছে, বরাবর বলা হয়েছে, এটা বীর-জারার লড়াই। শাহরুখ ও প্রীতি জুটির অমর সিনেমা। যে ছবিতে দেখানো হয়েছিল, ভালবাসা কাঁটাতারের বেড়া আর রাজনৈতিক আকচাআকচি, কূটনীতি মানে না। পাকিস্তানের জারা হায়াত খানের (পড়ুন প্রীতি জিন্টার) প্রেমে হাবুডুবু খেয়েছিলেন ভারতের স্কোয়াড্রন লিডার বীরপ্রতাপ সিংহ (শাহরুখ খান)। সেই প্রেমের কাহিনি ঝড় তুলেছিল বক্স অফিসে।
পরবর্তী সময়ে যখনই দুই দল মুখোমুখি হয়েছে, মাঠের দ্বৈরথ ভুলে মাঠের বাইরে একে অপরকে আলিঙ্গন করেছেন, ভালবাসায় ভরিয়েছেন শাহরুখ ও প্রীতি। বলিউডের দুই সুপারস্টার। দুই বন্ধু। এমনকী, ২০১৪ সালের আইপিএল ফাইনালে পঞ্জাবকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর প্রীতিদের দলের জার্সি গায়ে পরে নিয়েছিলেন শাহরুখ, এতটাই দোস্তি।
মাঠে অবশ্য দুই দলের সেই বন্ধুত্বের ছবি আগের মতো নেই। কারণ, মুম্বইয়ের এক ক্রিকেটার। যিনি কেকেআরের অধিনায়ক হিসাবে ফিরিয়েছিলেন গৌরব। দশ বছরের খরা কাটিয়ে আইপিএলে চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন নাইটদের। পরিবর্তে জুটেছিল উপেক্ষা-অবজ্ঞা। ২০২৪ সালের আইপিএলে কেকেআরকে চ্যাম্পিয়ন করা অধিনায়কই কার্যত বরখাস্ত হন পরের মরশুমেই। লুফে নেয় পঞ্জাব কিংস। তাঁকেই দলের অধিনায়ক করে। আর অধিনায়ক হিসাবে পঞ্জাবকে গত আইপিএলের ফাইনালে তুলে শ্রেয়স আইয়ার প্রমাণ করে দেন, তিনি ফুরিয়ে যাননি। তারপর থেকে কেকেআরকে সামনে পেলে শ্রেয়সের বাড়তি অ্যাড্রিনালিন ক্ষয় হবে, এতে আশ্চর্যের কী!
সোমবার আইপিএলে ফের মুখোমুখি দুই দল। ফের বীর-জারার দ্বৈরথ। রণক্ষেত্র কলকাতা, ইডেন গার্ডেন্স। রবিবার রাত পর্যন্ত যা খবর, তাতে গ্যালারিতে থাকতে পারেন শাহরুখ ও প্রীতি। কিন্তু বাইশ গজে সেই সম্প্রীতি থাকবে কি?
শ্রেয়স যখন পঞ্জাব কিংসের অধিনায়ক, হাতে নিশ্চয়ই গোলাপ ফুল নিয়ে কেকেআরের বিরুদ্ধে মাঠে নামবেন না। তাঁর যে এখনও প্রমাণ করার ছটফটানি রয়েছে। আগেরবার হিসেব অর্ধসমাপ্ত থেকে গিয়েছিল। মুল্লাপুরে মাত্র ১১১ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পরেও কেকেআরকে ৯৫ রানে অল আউট করে দিয়ে সর্বকালীন লজ্জা উপহার দিয়েছিল পঞ্জাব কিংস। ইডেনে অবশ্য লড়াই অমীমাংসিত থেকে গিয়েছিল। শুরুতে ব্যাট করে পঞ্জাব ঝড় তুললেও কালবৈশাখীতে কেকেআর ইনিংসের এক ওভার পরই ম্যাচ পণ্ড হয়ে যায়। সোমবারও ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। রবিবার তো দুই দলের প্র্যাক্টিস ভণ্ডুল হয়ে গেল। তাতে শ্রেয়সের বুকের জ্বালা কমেছে বলে খবর নেই। বরং যে শহরের দল তাঁকে প্রাপ্য সম্মান দেয়নি, সেই শহরে সেই দলকেই পরাজয় উপহার দিতে মরিয়া থাকবেন শ্রেয়স।
গত আইপিএলে রানার আপ ছিল পঞ্জাব। কেকেআর শেষ করেছিল আট নম্বরে। চলতি আইপিএলেও দুই দল দুই মেরুতে। জয়ের হ্যাটট্রিকের খোঁজে পঞ্জাব। হারের হ্যাটট্রিক বাঁচানো লক্ষ্য় কেকেআরের।
পরপর দুই ম্যাচের ব্যর্থতা কেকেআর শিবিরে হাজার প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ওপেনিংয়ে কি সুনীল নারাইনকে ফেরানো হবে? ক্যামেরন গ্রিন যদি বল নাই করেন, তাহলে রোভম্যান পাওয়েল নয় কেন? বরুণ চক্রবর্তী ছন্দ হাতড়াচ্ছেন দেখেও কেন টেনে যাওয়া হবে? অজিঙ্ক রাহানের ব্যাটিং অর্ডার কী হওয়া উচিত? বোলিংয়ের কঙ্কালসার চেহারা ঢাকতে কী কৌশল সময়পোযোগী হবে?
প্রশ্ন অনেক। উত্তর দেওয়ার লোক নেই। শ্রেয়স আইয়ারদের বিরুদ্ধেও প্রবল চাপে থেকে মাঠে নামবেন নাইটরা। কেকেআরের ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতার অভাব। বোলিং নখদন্তহীন। অন্যদিকে পঞ্জাবের ব্যাটিং বিভাগে বারুদ। বোলিং বৈচিত্র টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা। প্রথম দুই ম্য়াচ তুড়ি মেরে জিতেছে।
নিজেদের ঘরের মাঠেই যেন বাঁচার লড়াই কেকেআরের। শাহরুখের সামনে কি কলার তুলে মাঠ ছাড়বেন শ্রেয়স? নাকি ইডেন থেকেই স্বস্তির প্রথম পয়েন্ট ঘরে তুলবে কেকেআর?
