Crude Oil Crisis : বিশ্ব রাজনীতিতে যখন যুদ্ধের দামামা বাজে, তখন তার আঁচ এসে পড়ে সাধারণ মানুষের পকেটে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য বা পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতি বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে আশঙ্কার কালো মেঘ তৈরি করেছে। একদিকে ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের (Iran Israel War) ফলে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার ভয়, অন্যদিকে চড়া দাম—এই দুই সাঁড়াশির চাপে ভারত। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট এড়াতে ভারত তার বিশেষ কৌশলী ‘ট্রাম্প কার্ড’ ব্যবহার করতে পারে।
১. রাশিয়ার সঙ্গে সমীকরণ ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপ
গত কয়েক বছরে রাশিয়া ভারতের বৃহত্তম তেল সরবরাহকারী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপ এবং চড়া ট্যারিফের প্রভাবে সাম্প্রতিক মাসগুলিতে রাশিয়া থেকে আমদানি কিছুটা কমেছিল।
ডিসেম্বর ২০২৫: প্রতিদিন ১.২ মিলিয়ন ব্যারেল।
ফেব্রুয়ারি ২০২৬: প্রতিদিন ১ মিলিয়ন ব্যারেল।
আমদানি কমলেও রাশিয়া এখনও ভারতের শীর্ষ সরবরাহকারী। তবে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ভারত আবার রাশিয়ার দিকে ঝুঁকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
২. হরমুজ প্রণালীতে বাধা: ভারতের বড় দুশ্চিন্তা
ভারতের আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৫০ শতাংশ আসে ইরাক, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কুয়েত থেকে। এই তেলবাহী জাহাজগুলি মূলত ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz) দিয়ে যাতায়াত করে। কিন্তু বর্তমান উত্তেজনায় ইরান এই পথটি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়ায় ভারতের সরবরাহ ব্যবস্থা সংকটে পড়তে পারে।
৩. ভারতের ‘ট্রাম্প কার্ড’ আসলে কী ?
বিপজ্জনক এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারতের হাতে মূলত তিনটি অস্ত্র বা ‘ট্রাম্প কার্ড’ রয়েছে:
কৌশলগত তেলের ভাণ্ডার (Strategic Petroleum Reserves): ভারতের মাটির নিচে বিশাল তেলের ভাণ্ডার রয়েছে। বিশাখাপত্তনম, ম্যাঙ্গালোর এবং পাদুর-এর এই ভাণ্ডারে থাকা তেল দিয়ে যে কোনও জরুরি অবস্থায় ভারত প্রায় ৭৪ দিন পর্যন্ত তার তেলের চাহিদা মেটাতে সক্ষম।
উৎস পরিবর্তন: যদি মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল আসা বন্ধ হয়, তবে ভারত আফ্রিকা, আমেরিকা এবং ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলি থেকে তেল আমদানির পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
রাশিয়ার সঙ্গে গোপন আলোচনা: শোনা যাচ্ছে, মার্কিন চাপ সত্ত্বেও বাণিজ্যিক স্বার্থে ভারত পুনরায় রাশিয়ার থেকে সস্তায় তেল কেনার গতি বাড়াতে পারে।
৪. বিশেষজ্ঞদের মত
গ্লোবাল ডেটা অ্যানালিটিক্স ফার্ম Kpler-এর বিশেষজ্ঞ সুমিত রিতোলিয়া জানিয়েছেন, গত ২-৩ মাসে ভারতের পশ্চিম এশিয়ার ওপর নির্ভরতা বেড়েছিল। কিন্তু সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় ভারতীয় শোধনাগারগুলি এখন বিকল্প পথের খোঁজ শুরু করেছে।
বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে ভারতের আমদানির বিলও বাড়বে। তবে ভারতের মজুত ভাণ্ডার এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এই সংকট থেকে দেশকে রক্ষা করতে পারে। এখন দেখার, মোদী সরকার এই ভূ-রাজনৈতিক দাবার বোর্ডে পরবর্তী চাল কী দেয়।
