February 22, 2026
e4b31c303e4906363f96dc6e8b022fb91771750510399338_original.jpg
Spread the love


নয়াদিল্লি: জন্মদাত্রী মায়ের স্নেহের পরশ থেকে বঞ্চিত। মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে আশেপাশের সকলেই। সাহচর্য বলতে নিষ্প্রাণ একটি খেলনা পুতুল। সেটি আঁকড়েই জীবনযুদ্ধে শামিল একরত্তি বানর শাবক। গত কয়েক দিন ধরে সেই নিয়ে উত্তাল সোশ্যাল মিডিয়া। ছোট্ট বানর শাবকটির নিঃসঙ্গতা ধাক্কা দিয়েছে অনেকের মনেই। (Baby Monkey Punch)

২০২৫ সালের জুলাই মাসে জাপানের ইচিকাওয়া চিড়িয়াখানায় জন্ম বানর শাবক Punch-এর। স্থানীয় বাচনভঙ্গিতে পাঞ্চি-কুন। পাঞ্চি-কুন আসলে ম্যাকাক প্রজাতির বানর শাবক। কিন্তু জন্মের পরই মা প্রত্য়াখ্যান করে তাকে। মাতৃহীন বানর শাবকটি সেই থেকেই চিড়িয়াখানার কর্মীদের অত্যন্ত স্নেহধন্য। (Viral Baby Monkey)

কিন্তু চিড়িয়াখানার কর্মীরা যত্নআত্তিতে খামতি না রাখলেও, মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত পাঞ্চি-কুন রীতিমতো ধুঁকতে শুরু করে। চিড়িয়াখানার দুই কর্মীস কশুকে শিকানো এবং শুম্পেই মিয়াকোশি একেবারে কোলে-মাথায় করে মানুষ করতে শুরু করেন পাঞ্চি-কুনকে। কম্বলে মুড়ে রাখা হতো তাঁকে। নিঃসঙ্গ বানর শাবকটি যাতে উষ্ণতা পায়, তার মন যাতে নিঃসঙ্গ বোধ না করে, তার জন্য কিনে দেওয়া হয় খেলনাও। 

ওই সবের মধ্যে ওরাংওটাংয়ের মতো দেখতে একটি সফ্টটয়ই সবচেয়ে মনে ধরে পাঞ্চি-কুনের। সর্ব ক্ষণ সেটিকে আঁকড়ে থাকতে শুরু করে বানর শাবকটি। এদিক ওদিক বিচরণ হোক বা একাকী বসে শূন্যতা অনুভব করা, পাঞ্চি-কুনের সর্ব ক্ষণের সঙ্গী হয়ে ওঠে সফ্টটয়টি। সেটিকে আঁকড়ে ধরে ঘুমাতেও যায় পাঞ্চি-কুন। নিষ্প্রাণ খেলনা বানর শাবকের জীবনে মায়ের মতোই আপন হয়ে ওঠে।

সম্প্রতি চিড়িয়াখানার এনক্লোজারে পাঞ্চি-কুনকে নিজের জাতভাইদের সঙ্গে মেলামেশার সুযোগ করে দেন চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। কিন্তু মা যাকে পরিত্যাগ করেছে, সেই বানর শাবকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে আগ্রহ দেখায়নি বাকিরা। বরং কাছে ঘেঁষতে গিয়ে তাড়া খেতে হয় পাঞ্চিকুনকে। রীতিমতো দূরছাই করতে শুরু করে অন্যরা। প্রত্যেক বার ক্ষতবিক্ষত হয়ে মাতৃস্বরূপ সেই সফ্টটয়টিকেই আঁকড়ে ধরে পাঞ্চি-কুন। নিষ্প্রাণ খেলনার মধ্যেই খুঁজে নেয় প্রাণের উষ্ণতা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই দৃশ্য দেখে নড়েচড়ে বসেন অনেকেই। ভেসে যেতে যেতে যেভাবে খড়কুটো আঁকড়ে বাঁচার চেষ্টা করি আমরা, ভিতরে ভিতরে শেষ হয়ে গেলেও, নিজেকে মজবুত দেখানোর যে ভান করি, তার সঙ্গে চিড়িয়াখানায় বন্দি বানর শাবকটির লড়াইয়ের মিল খুঁজে পান বহু মানুষই। ফলে পাঞ্চি-কুনের জন্য সমবেদনা প্রকাশ করেন সকলেই। এমনকি আমেরিকার প্রাক্তন কিকবক্সার তথা সোশ্য়াল মিডিয়া ব্যক্তিত্ব অ্যান্ড্রু টেটের ভাই ট্রিস্টান ২৫০,০০০ ডলার অর্থসাহায্য ঘোষণা করেন। 

শেষ পর্যন্ত একটি ভিডিও সামনে আসে, যেখানে পূর্ণবয়স্ক বানর Onsing পাঞ্চি-কুনকে বুকে টেনে নেয়। বাকিদের মধ্যে তাকে সহজ হতে শেকাতে শুরু করে। একটি বানর শাবকের সঙ্গে খেলতেও দেখা যায় পাঞ্চি-কুনকে। বানর শাবকটিকে দেখতে ওই চিড়িয়াখানায় ভিড় জমাচ্ছেন দলে দলে মানুষ। IKEA-র প্রেসিডেন্টও পাঞ্চি-কুনকে দেখে আসেন এবং আরও খেলনা উপহার দিয়ে আসেন। 

জাপানের চিড়িয়াখানার এই ঘটনাকে শুধুমাত্র ভাইরাল মুহূর্ত হিসেবে দেখতে নারাজ অনেকেই। তাঁদের মতে, যন্ত্রমানব নির্ভর ভবিষ্যতের স্বপ্নে যখন বিভোর গোটা দুনিয়া, যন্ত্রদ্বারা পরিবৃত্ত হয়ে থাকতে থাকতে মানুষও যখন একটু একটু করে যন্ত্রে পরিণত হচ্ছেন, সেই সময় পাঞ্চি-কুনের নিঃসঙ্গতা আমাদের আরও একবার মানবিকতা বোধ, সহানুভূতির শিক্ষা দিয়ে গেল সকলকে। 





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Enable Notifications OK No thanks