ইরান-আমেরিকা উত্তেজনার মধ্যেও আজ ১০ মার্চ মঙ্গলবার বাজার খুলতেই লাফিয়ে বাড়ল ভারতের দুই বেঞ্চমার্ক সূচক। বাজার খোলার পরই দেখা যায় সেনসেক্স বেড়েছে প্রায় ৪৮০ পয়েন্ট। অন্যদিকে, ১৩৯ পয়েন্ট বেড়েছে নিফটি ৫০-ও। দিনের শুরুতেই ৭৮,০০০ পয়েন্ট পেরিয়ে যায় সেনসেক্স। নিফটি ৫০ পৌঁছে যায় ২৪,১৬৮ পয়েন্টে।
গতকাল অর্থাৎ সোমবার ভারতের শেয়ার বাজার অন্যতম বিরাট পতন দেখেছিল। যদিও, আজ সেই পতনের ধাক্কা সামলে বাজারের ঘুরে দাঁড়ানো একটা ভাল শুরুর ইঙ্গিতই দেয়। তবে শুধু ভারতের বাজারই যে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, এমন নয়। এদিন সমগ্র এশিয়া মহাদেশের একাধিক বড় বড় অর্থনীতির শেয়ার বাজারও বেড়েছে অনেকটা।
ভারতের একাধিক সেক্টোরিয়াল সূচকও বেড়েছে লাফিয়ে। নিফটি কনজিউমার ডিউরেবলস বেড়েছে প্রায় ২ শতাংশ। নিফটির অটো সূচক বেড়েছে প্রায় ১.৬ শতাংশ। এ ছাড়াও নিফটির মেটাল সূচক বেড়েছে প্রায় ১.১ শতাংশ। কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে নিফটি ব্যাঙ্ক সূচকও। প্রায় ১ শতাংশ বেড়েছে এই সূচক।
জাপানের সূচক নিক্কেই বেড়েছে প্রায় ২ শতাংশের বেশি। হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক বেড়েছে ১.৫৬ শতাংশ। দক্ষিণ কোরিয়ার সূচক কসপি বেড়েছে ৪ শতাংশের বেশি। এ ছাড়াও গতকাল আমেরিকার একাধিক সূচক বেড়েছে লাফিয়ে। এর মধ্যে রয়েছে এস অ্যান্ড পি ৫০০, ডাও জোনস ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ, ন্যাসড্যাক কমপোজিট, রাসেলের মতো সূচক। ডাও জোনস ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ বেড়েছে ২৩৯ পয়েন্ট। ০.৮৩ শতাংশ বেড়েছে এক অ্যান্ড পি ৫০০। এ ছাড়াও ন্যাসড্যাক কমপোজিট বেড়েছে ১.৩৮ শতাংশ।
এ ছাড়াও গতকাল কমেছে ক্রুড অয়েলের দামও। আর এর পিছনে একটা বিরাট হাত রয়েছে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। সোমবার আমেরিকায় যখন বিকাল, ভারতে মধ্যরাত, একটুই সাংবাদিক সম্মেলনে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে কথা বলেন তিনি। আর তাঁর এই সাংবাদিক সম্মেলনের পরই বিকাল ৪টে নাগাদ (ভারতীয় সময় রাত প্রায় ১টা ৩০) হুড়মুড়িয়ে কমে যায় অপরিশোধিত তেলের দাম। একই সঙ্গে বাড়তে দেখা যায় আমেরিকার শেয়ার বাজারও।
ডোনাল্ড ট্রাম্প এদিন বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান ইতিমধ্যেই বড় লক্ষ্য অর্জন করেছে। যা পরিস্থিতি খুব তাড়াতাড়ি শেষ হতে পারে ইরান যুদ্ধ”। তবে যুদ্ধ কবে শেষ হবে, নিয়ে কোনও কথা কিন্তু শোনা যায়নি আমেরিকার প্রেসিডেন্টের মুখে।
