সন্দীপ সরকার, কলকাতা: ঘরের মাঠে প্রথম ম্যাচের আগে কি গৃহযুদ্ধে ব্যস্ত হয়ে পড়ল কলকাতা নাইট রাইডার্স? যার একদিকে টিম ম্যানেজমেন্ট। আরও নির্দিষ্ট করে বললে, কোচ অভিষেক নায়ার, অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে ও সহ অধিনায়ক রিঙ্কু সিংহ। অন্যদিকে ইডেনের কিউরেটর সুজন মুখোপাধ্যায়।
মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে প্রথম ম্যাচে ২২০ রান তুলেও পরাজয়। সেখান থেকে কোথায় ঘরের মাঠে ঘুরে দাঁড়ানোর নকশা সাজাবে কেকেআর, তা নয়, বরং লড়াই করতে হচ্ছে মনের মতো বাইশ গজ পাওয়া নিয়ে।
ইডেন গার্ডেন্সের পিচ যে সবুজ আস্তরণে ঢাকা থাকবে, স্পিনারদের জন্য বনবন ঘূর্ণি হবে না, সে ইঙ্গিত ছিলই। সোমবার বিকেলেও সবুজ গালিচার মতো দেখাচ্ছিল বাইশ গজ। পরের দুদিনে সেই ঘাস কিছুটা কাটা হয়েছে। তবে পিচ মোটেও ঝুরধুরে নয়। বরং গতি ও বাউন্সের মিশেল থাকার সম্ভাবনা। আর কে না জানে যে, পেসারদের চোট-আঘাতে বিধ্বস্ত কেকেআরকে এখন সবুজ পিচে খেলতে দেওয়া মানে যেন সেই ঠাকুরমার ঝুলির শেয়াল ও সারসের গল্প মনে করিয়ে দেওয়া। যেখানে সারসকে নিমন্ত্রণ করে ডেকে থালায় সাজিয়ে খেতে দিয়েছিল ধূর্ত শেয়াল। কেকেআরের পেস আক্রমণ যেরকম পঙ্গু হয়ে পড়েছে, তাতে ঘূর্ণি পিচ না হলে যেন বোলিংয়ের বাঁচার আশা নেই।
অথচ ইডেনে চাহিদামতো পিচ পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। যে উইকেটে বৃহস্পতিবার কেকেআর বনাম সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ম্যাচ হবে, সেই বাইশ গজে ৪ মার্চ নিউজ়িল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ হয়েছিল। চার-ছক্কার ঝড় উঠেছিল। কে ভুলতে পারে ফিন অ্যালেনের সেই বিধ্বংসী ইনিংস! ৩৩ বলে ১০০!
সুনীল নারাইনের বলে আগের ধার নেই। বরুণ চক্রবর্তী সেরা ছন্দে নেই। সেটা মাথায় রেখেও বলতে হচ্ছে, কেকেআরের সেরা শক্তি এখনও স্পিন। অন্তত অনভিজ্ঞ, অপরীক্ষিত পেস বোলিং বিভাগের মতো নয়। অথত সেই দলের জন্য ঘরের মাঠে অপেক্ষা করে রয়েছে গতিসম্পন্ন বাইন্সে টাসা উইকেট? কেকেআর যে ঘরের মাঠে এমন পিচে খেলছে, দেখে অবাক সানরাইজার্স হায়দরাবাদের কোচ ড্যানিয়েল ভেত্তোরি। নিজে ছিলেন দুর্দান্ত স্পিনার। ভেত্তোরি বলছিলেন, ‘ইডেনের পিচে এত ঘাস দেখে একটু অবাকই হয়েছি।’ যোগ করলেন, ‘উইকেট ভাল হবে। গত কয়েক মরশুম ধরেই ইডেনের পিচে দারুণ কিছু বল ঘোরে না। বড় রান ওঠে। আউটফিল্ড ভাল হওয়ায় ও মাঠের আকার আরও বড় রান তোলার ক্ষেত্রে সহায়ক হচ্ছে।’
যদিও সরাসরি বিতর্কে ঢুকতে চাইলেন না কেকেআরের কোচ অভিষেক নায়ার। প্রথমে এড়িয়ে যেতে চাইছিলেন পিচ প্রসঙ্গ। বলছিলেন, ‘আমি পিচের চরিত্র নিয়ে আগাম বলে দিলে দুর্নীতি দমন শাখা ধরবে।’ পরে দক্ষ কূটনীতিকের মতো বললেন, ‘পিচ যেমনই হোক, আমাদের ছেলেরা সবরকম পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত। যেটা আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই, সেসব নিয়ে ভাবি না। আমার মন্ত্রই হল, মাঠে নামো আর সেরাটা দাও।’
তবে বুধবার বিকেলে প্র্যাক্টিসের শুরুতেি যেভাবে রাহানে, নায়ার, রিঙ্কুরা পিচের ওপর ঝাঁপিয়ে পরীক্ষা করলেন, বারবার কিউরেটরের সঙ্গে কথা বললেন (দূর থেকে যে কথোপকথন দেখে একেবারেই মনে হয়নি প্রেমালাপ চলছে), তাতে মনে হয়েছে সংঘাতের আবহ। এবং তারপর কিউরেটর জল দেওয়ার ব্যবস্থা করলেন পিচে। হাল্কা রোল করালেন। কেউ কেউ বলছেন, তাতে আর্দ্রতা বাড়বে, পেসারদের আরও সুবিধা হবে।
ধুলো ওঠা পিচ এখন অতীত, সবুজ ইডেনে এখন গতি ও বাউন্সের সহবাস। কেকেআর শিবিরের সঙ্গে গত মরশুমে কিউরেটরের লড়াই চরমে পৌঁছেছিল। এবার যেন সেই সিরিজেরই পার্ট টু হাজির।
