আবার কি ঘরবন্দি হতে হবে আমাদের? না এবার করোনার মতো কোনও ভাইরাস নয়, ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ এবং বিশ্বজুড়ে তেলের হাহাকারের কারণেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরপাক খাচ্ছে এই একটাই শব্দ। সেটা হল ‘এনার্জি লকডাউন’। আসলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছে। এর সেই কারণেই টান পড়েছে গোটা বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহে। আর তার জেরেই বিশ্বের একাধিক দেশে দেখা যেতে পারে করোনার সময়ের মতো লকডাউন।
এনার্জি লকডাউন আসলে কী?
এনার্জি লকডাউন কিন্তু কোনও সরকারি পরিভাষা নয়। বরং ইন্টারনেটের দুনিয়ার দেওয়া এই শব্দবন্ধ। জ্বালানি বাঁচাতে সরকার যাতায়াত বা বিদ্যুৎ ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ চাপালে, সেটাকে নেট দুনিয়া বলছে এনার্জি লকডাউন। আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা বা IEA ইতিমধ্যেই ১০ দফার একটা সুপারিশ করেছে। কী কী করা উচিত আর কী কী না করলেই ভাল, এই সুপরিশে সেটাই বলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে— সম্ভব হলে বাড়িতে থেকে কাজ করুন, হাইওয়েতে গাড়ির গতিবেগ অন্তত ১০ কিমি কমিয়ে দিন বা গণপরিবহন ব্যবহার করুন।
বিশ্বের ছবিটা ঠিক কী?
প্রতিবেশী দেশগুলিতে পরিস্থিতি বেশ ঘোরালো। পাকিস্তান ও ফিলিপিন্সে সপ্তাহে ৪ দিন কাজের দিন ঘোষণা করা হয়েছে। শ্রীলঙ্কায় কিউআর কোড ছাড়া মিলছে না পেট্রোল। নিউজিল্যান্ডের মতো দেশে সপ্তাহে একদিন ‘কার-ফ্রি’ ডে কাটানোর কথা ভাবছে সরকার। যেদিন রাস্তায় কোনও প্রাইভেট গাড়ি চলবে না। বাংলাদেশে বিদ্যুতের চাপ কমাতে স্কুল-কলেজে অনলাইন ক্লাস শুরু হয়েছে। মায়ানমার ও কম্বোডিয়ার একাধিক পাম্পে তেল নেই, বন্ধ হয়ে গিয়েছে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পেট্রোল পাম্প।
ভারত কি সুরক্ষিত?
ভারতের কী অবস্থা? একে তো গ্যাস নিয়ে একাধিক নির্দেশিকা আমরা শুনছি। পেট্রোল বা ডিজেল নিয়ে এখনও কোনও সমস্যার কথা শোনা না গেলেও আগামীতে কী হবে, সেই প্রশ্ন জগতেই পারে আপনার মনে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সংসদীয় অধিবেশনে স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভারত পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। তবে সূত্র মারফত খবর, বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে তেল বা গ্যাস কিনে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে কেন্দ্র। যাতে দেশের মানুষের গায়ে কোনও আঁচ না আসে।
আপাতত আমদের দেশে এই ধরনের লকডাউনের কোনও সম্ভাবনা নেই। তবে বিশ্ববাজারের যা অবস্থা, তাতে আগামী কয়েক মাস আমাদের প্রত্যেকেরই জ্বালানি ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়া প্রয়োজন। কারণ, সচেতনতাই হতে পারে এই এনার্জি ক্রাইসিসের আসল ভ্যাকসিন।
