March 12, 2026
9eaa5f56a3c6fea65161c5a384895f181773253959136170_original.jpg
Spread the love


ওয়াশিংটন ডিসি : দিন দিন ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ। ইরান এবং ইজরায়েল-আমেরিকা দুই পক্ষই একে অপরকে টার্গেট করে সমানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে, যুদ্ধের আঁচ পড়তে শুরু করেছে বিশ্বজুড়ে। ভারতে তেল-গ্যাস নিয়ে সংকটের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এই আবহে দ্রুত যুদ্ধের সমাপ্তি কামনা করছেন সকলেই। কিন্তু, আদৌ কি এই যুদ্ধ এত তাড়াতাড়ি শেষ হবে ? এনিয়ে নানা চর্চার মধ্যেই এবার বড় ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বুধবার তিনি ইঙ্গিত দেন, ইরানের সঙ্গে চলতে থাকা যুদ্ধ “শীঘ্রই” শেষ হবে। কারণ, তাঁর দাবি, নাগাড়ে সামরিক হামলার পর ইরানে ‘টার্গেট করার মতো আর কিছুই পড়ে নেই।’ Axios-এর সঙ্গে ফোনে সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “যুদ্ধ দারুণ চলছে। আমরা টাইম-টেবিলের অনেক আগে এগিয়ে গেছি। আমরা যতটা ক্ষতি করা সম্ভব বলে ভেবেছিলাম, তার থেকেও বেশি ক্ষতি করতে পেরেছি, এমনকী প্রকৃত ছয়-সপ্তাহের পরিকল্পনার থেকেও।” এই দ্বন্দ্বের টাইমলাইন সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, তিনি যখন শেষ করতে চাইবেন, তখনই শেষ করে দিতে পারেন। তাঁর কথায়, “ছোটখাট এটা-ওটা…যে কোনও সময় আমি এটা শেষ করতে চাই, এটা শেষ হবে।” 

অথচ ইরানের সঙ্গে ইজরায়েল-আমেরিকার যুদ্ধের ১২-তম দিনেও চলছে লাগাতার হামলা-পাল্টা হামলা। কোনও পক্ষই থামতে রাজি নয়। দু’পক্ষই দাবি করছে, যুদ্ধে তারাই এগিয়ে। অন্যদিকে, বুধবারও তেল আভিভ-সহ ইজরায়েলের একাধিক জায়গায় মিসাইল হামলা চালিয়েছে ইরান।  ইরাকের বাগদাদে, আমেরিকার দূতাবাসে আঘাত হেনেছে তেহরানের ড্রোন। ইরানের ড্রোন হামলার আশঙ্কায় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে তাদের অন্যতম বড় তৈল শোধনাগার রুইয়েস বন্ধ করে দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী। হঠাৎ করেই যুদ্ধের অভিমুখ যেন ঘুরে গেছে জ্বালানির দিকে। ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আমেরিকার আক্রমণ যতদিন না বন্ধ হচ্ছে, পারস্য উপসাগর দিয়ে – এক লিটার তেলও ছাড়া হবে না। 

বিশ্বের ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল সরবরাহ হওয়া হরমুজ প্রণালী আগেই বন্ধ করেছিল ইরান। আমেরিকার চাঞ্চল্যকর দাবি, এবার সেখানে মাইন বিছোতে শুরু করেছে IRGC-র নৌবাহিনী। এই খবর সামনে আসার পরেই সমাজমাধ্যম আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়ে লেখেন, যদি কোনও কারণে হরমুজ প্রণালীর কাছে মাইন পাতা হয় এবং তা দ্রুত সরানো না হয়, তাহলে ইরানের সামরিক পরিণতি ভয়ঙ্কর হবে।

হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হরমুজ প্রণালীর কাছে, ইরানের নৌবাহিনী লক্ষ্য করে জোরালো হামলা চালায় আমেরিকা। তাদের তরফে দেওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, দাঁড়িয়ে থাকা একের পর এক ছোট জাহাজ এবং জলযানে আছড়ে পড়ছে মিসাইল। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, তারা ইরান সব মিলিয়ে ইরানের ১৬টি জাহাজ ধ্বংস করে দিয়েছে। এরমধ্য়ে মাইন পাতার কাজে যুক্ত জাহাজও রয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে, তেহরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দর-সহ একাধিক এলাকায় বোমাবর্ষণ করে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ বাহিনী। তেহরানে তেলের ডিপোর কাছেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। দেখা গেছে কালো ধোঁয়া। পাল্টা জেরুজালেম, তেল আভিভে মিসাইল হামলা চালিয়েছে ইরান। বাহরিন ও ইরাকের কুর্দিস্তানে আমেরিকার সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করেও ইরানের হামলার খবর মিলেছে। আমেরিকার বন্ধু দেশগুলোকে লাগাতার টার্গেট করে যাচ্ছে ইরান।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Enable Notifications OK No thanks