কলকাতা: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তিনিই ছিলেন সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহক। জসপ্রীত বুমরার সঙ্গে তাঁর ঝুলিতে ছিল টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি উইকেট। কিন্তু তবুও শেষ তিন ম্যাচে একেবারেই ছন্দে দেখা যায়নি বরুণ চক্রবর্তীকে। যে ধারা অব্যাহত থেকে আইপিএলেও। কেকেআর তাঁদের দুটো ম্যাচ খেলেছে মুম্বই ও সানরাইজার্সের বিরুদ্ধে। যার প্রথম ম্য়াচটি ওয়াংখেড়েতে ও পরের ম্য়াচটি ঘরের মাঠ ইডেনে গার্ডেন্সে। কিন্তু এই দুটো ম্যাচেই একেবারেই নিজের ফর্মের ধারেকাছে ছিলেন না বরুণ চক্রবর্তী। তার জন্য তাঁকে নিয়েই চিন্তা বাড়ছিল। এবার সেই বরুণ চক্রবর্তীকে বাদই দিয়ে দিল কেকেআর টিম ম্য়ানেজমেন্ট।
পঞ্জাবের বিরুদ্ধে ম্য়াচের আগেই অজিঙ্ক রাহানে আভাস দিয়েছিলেন যে জোড়া হারের পর এবার কড়া সিদ্ধান্ত নিতে পারে টিম ম্যানেজমেন্ট। আর ঠিক তেমনটাই হল। বরুণ আগের দুটো ম্যাচে যা পারফর্ম করেছেন, তা কোনওভাবেই তাঁরে নামের প্রতি সুবিচার বলে না। যে বরুণ চক্রবর্তী নাইট একাদশে মিস্ট্রি স্পিনার নামে পরিচিত, তাঁকেই কি না, বিশ্রীভাবে অ্য়াটাক করছেন প্রত্যেক দলের ব্যাটাররাই।
মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে ম্য়াচে ৪ ওভার বল করে ৪৮ রান খরচ করলেও কোনও উইকেটই তুলতে পারেননি। আর সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে ইডেনে ২ ওভারে কোনও উইকেট না নিয়েই ৩১ রান খরচ করে ফেলেছেন। এভাবে রান খরচ করছেন, যার জন্য মাঝের ওভারেই খেলা কেকেআরের হাত থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে।
এদিন একাদশে প্রথমে মনে করা হচ্ছিল যে ক্যামেরন গ্রিন হয়ত খেলবেন না। তাঁর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের ওপর বিচার করে হয়ত পাওয়েলকে খেলানো হবে। কিন্তু তা হল না। শেষ পর্যন্ত পাওয়েল তো খেললেন, একই সঙ্গে সুযোগ পেলেন গ্রিনও। বাদ দেওয়া হল সুনীল নারাইনকে। অন্য়দিকে বরুণ চক্রবর্তীর পরিবর্ত হিসেবে সুযোগ পেলেন নবদীপ সাইনি। আজ থেকে তিন বছর আগে ২০২৩ সালে শেষবার রাজস্থান রয়্যালসের জার্সিতে আইপিএলের মঞ্চে খেলতে নেমেছিলেন সাইনি। সেই ম্য়াচেও খেলেছিলেন পঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধেই। সেই ম্য়াচে ৪০ রান খরচ করে ৩ উইকেট তুলে নিয়েছিলেন সাইনি। তিন বছর পর ফের আইপিএলের মঞ্চে খেলতে নামছেন।
কিন্তু বরুণকে বাদ দেওয়া নিয়ে ইতিমধ্য়েই সোশ্য়াল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে। কেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সর্বাধিক উইকেট শিকারিকে মাত্র কয়েকটি ম্য়াচের ওপর নির্ভর করে সরিয়ে দেওয়া হল একাদশ থেকে তা নিয়েই প্রশ্ন সবার।
