কলম্বো: অভিষেক শর্মা, সূর্যকুমার যাদব, ট্র্যাভিস হেড, ফিল সল্ট, ট্রিস্টান স্টাবস, ডেভিড মিলার – একের পর এক মহারথী। টি-২০ ক্রিকেটে কয়েক ওভার টিকে গেলে যাঁরা ম্যাচের রং পাল্টে দিতে পারেন। অথচ তাঁদের উপস্থিতি সত্ত্বেও চলতি টি-২০ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ দলগত স্কোর তুলল আয়ার্ল্যান্ড! কলম্বোয় ওমানের বিরুদ্ধে গ্রুপ সি-র ম্যাচে ঝড় তুললেন আইরিশরা। অঙ্কের নিরিখে টি-২০ বিশ্বকাপে বেঁচে রইল আয়ার্ল্যান্ডের সুপার এইটে ওঠার স্বপ্ন।
চোট পেয়ে পল স্টার্লিং ছিটকে গিয়েছেন। তাঁর অভাব পূরণ করে দিলেন লর্ক্যান টাকার (Lorcan Tucker)। অপরাজিত ৯৪ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিলেন তিনি। তাঁর দাপটেই প্রথমে ব্যাট করে আয়ার্ল্যান্ড তুলেছিল ২৩৫/৫। যা এই বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ দলগত স্কোর। শুধু শেষ তিন ওভারে আটটি ছক্কা মেরেছে আয়ার্ল্যান্ড। গোটা টুর্নামেন্টে যতগুলি ছক্কা মারতে পারেনি গোটা ওমান দল। শেষ পাঁচ ওভারে ৯৩ রান তুলল আয়ার্ল্যান্ড।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১৮ ওভারে ১৩৯ রানে অল আউট হয়ে গেল ওমান। শুরুতে ৪৪ বছরের আমির কালিম ২৯ বলে ৫০ রান করলেও ওমান ব্যাটিং পথ হারাল ।
আইরিশ ইনিংস শুরুর দিকে চাপে পড়ে গিয়েছিল। বাঁহাতি স্পিনার শাকিল আমেদ পাওয়ার প্লে-তেই তিন উইকেট তুলে নেন। ৫ ওভারে ৪৫/৩ হয়ে যায় আয়ার্ল্যান্ড। আর্ম বলে ফেরান টিম টেক্টরকে। ফ্লাইটে পরাস্ত হন রস আডেয়ার। হ্যারি টেক্টর বোল্ড হন। অষ্টম ওভারে কার্টিস ক্যাম্ফার আউট হতে কেঁপে গিয়েছিল আয়ার্ল্যান্ড। তার ২ বল পরে আউট হয়ে যেতেন টাকারও। তিনি তখন ব্যক্তিগত ১৮ রানে ব্যাট করছিলেন। তাঁর স্টাম্পিংয়ের সুযোগ নষ্ট করেন বিনায়ক শুক্ল। তৃতীয় আম্পায়ার রিপ্লে দেখে জানান যে, বল যে হাতে ছিল না সেটি দিয়ে স্টাম্প ভেঙেছেন বিনায়ক। যদিও রিপ্লেতে দেখা যায়, দুই গ্লাভস সংস্পর্শে ছিল। আউট হতে পারতেন টাকার।
মন্থর পিচের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সময় নিয়েছিলেন টাকার। এরপর স্কুপ ও প্যাডল করতে শুরু করেন। টাকার ও গ্যারেথ ডেলানি ৩৩ বলে ৫০ রানের পার্টনারশিপ গড়েন। হাফসেঞ্চুরি করেন টাকার। অ্যান্ডি ব্যালবার্নির পর দ্বিতীয় আইরিশ অধিনায়ক হিসাবে টি-২০ বিশ্বকাপে হাপসেঞ্চুরি করেন টাকার। ৫১ বলে ৯৪ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। ১০টি চার ও চারটি ছক্কা মারেন।
