নয়াদিল্লি : আমেরিকা-ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের অবিরাম যুদ্ধ চলছে। কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলছে না। একের পর এক প্রাণহানি হচ্ছে। এদিকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ যেতে না দিয়ে ইজরায়েল-আমেরিকার পাশাপাশি কার্যত গোটা বিশ্বের মাথাব্য়াথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরান। কারণ এই রুট দিয়েই তেলবহনকারী জাহাজগুলি যাতায়াত করে। একমাত্র রাশিয়া ও চিনকে ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে জাহাজ চলাচল করার অনুমতি দিয়েছে ইরান। এই পরিস্থিতিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গতমাসে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম তাঁদের কথা হল। যা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এনিয়ে পরে এক্স হ্যান্ডেলে পোস্টও করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ওই অঞ্চলে চলতে থাকা গুরুতর পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয়েছে। উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং সাধারণ নাগরিকের প্রাণহানির পাশাপাশি অসামরিক পরিকাঠামোর ক্ষতির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছি। ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং পণ্য ও জ্বালানির অবাধ পরিবহনের প্রয়োজনীয়তা ভারতের শীর্ষ অগ্রাধিকার হিসেবে রয়ে গেছে। শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতি ভারতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে এবং আলোচনা ও কূটনীতির আহ্বান জানানো হয়েছে।’
এদিকে হরমুজ প্রণালী নিয়ে এই সংকটের আবহে বৃহস্পতিবার সংবাদসংস্থা রয়টার্স প্রথমে ভারতীয় সূত্রকে উদ্ধৃত করে দাবি করে, ভারত এবং ইরান, দুই দেশের বিদেশমন্ত্রীদের মধ্য়ে কথা হওয়ার পর, ভারতের জাহাজগুলিকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসার অনুমতি দিয়েছে ইরান। কিন্তু পরে সংবাদসংস্থা রয়টার্স-ই ইরানের একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানায় যে, ভারতের সঙ্গে ইরানের এরকম কোনও চুক্তি হয়নি। ভারতকে কি আদৌ এরকম কোনও ছাড় ইরান দিয়েছে? এই প্রশ্নের কোনও উত্তর দেয়নি খোদ ভারতীয় বিদেশমন্ত্রকই। বিদেশমন্ত্রক মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “ভারতের বিদেশমন্ত্রী ও ইরানের বিদেশমন্ত্রীর মধ্যে সম্প্রতি ৩ বার কথোপকথন হয়েছে। শেষ কথা হয়েছে জাহাজ পরিবহণের নিরাপত্তা এবং ভারতের এনার্জি সিকিউরিটি নিয়ে। এর বেশি আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয়। দেখুন আমাদের বিদেশমন্ত্রী এবং ইরানের বিদেশমন্ত্রীর মধ্যে যা কথা হয়েছে, সেই বিষয়ে আমি আপনাদের জানিয়েছি। এর বেশি কিছু বলতে চাই না।”
বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র আরও জানান, এ বিষয়ে যা বলার জাহাজ মন্ত্রক বলবে। কিন্তু ভারতীয় জাহাজ মন্ত্রকও এখন প্রকাশ্য়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি। এই আবহেই গোটা বিশ্বের উদ্বেগ বাড়িয়ে ইরানের সদ্য় মনোনীত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই হুঙ্কারের সুরে জানিয়ে দিয়েছেন, কোনওভাবেই ‘হরমুজ প্রণালী’ খোলা হবে না। এটাকে আমেরিকা ও ইজরায়েলকে চাপে রাখার কৌশল হিসাবে ব্যবহার করা হবে। তাঁর আরও হুঁশিয়ারি, শহিদদের মৃত্যুর বদলা আমরা নেবই। কারণ, তাঁরা আমাদের সর্বোচ্চ নেতার জন্য জীবন দিয়েছেন। এটা শুধু আমাদের পরিবারের বিষয় নয়, গোটা দেশের বিষয়। দেশের জন্য যাঁরা প্রাণ দিয়েছেন, তাঁদের মৃত্যুর বদলা নেবই। আমেরিকা এবং ইজরায়েলের উপর চাপ বাড়াতে কোনওভাবেই আমরা ‘হরমুজ প্রণালী’ খুলব না।
