হায়দরাবাদ: আইপিএলের (IPL 2026) ‘সুপার সানডে’-র প্রথম ম্যাচে নবাবদের শহর হায়দরাবাদে মুখোমুখি হয়েছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ও লখনউ সুপার জায়ান্টস (SRH vs LSG)। এই ম্যাচেই নতুন বল হাতে একদিকে যেখানে আগুনে বোলিংয়ে ইতিহাস গড়লেন মহম্মদ শামি (Mohammed Shami), সেখানে অভিষেক শর্মাও (Abhishek Sharma) ইতিহাস গড়লেন, তবে তা হতাশার।
গত ম্যাচে দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে ইনিংসের প্রথম বলেই কেএল রাহুলকে সাজঘরে ফেরত পাঠিয়েছিলেন শামি। এদিন প্রথম বলে না হলেও, প্রথম ওভারেই সাফল্য পেলেন শামি। শূন্য রানে সানরাইজার্সের তারকা ওপেনার অভিষেক শর্মাকে আউট করেন তিনি। দুই বলে শূন্য রানে আউট হওয়ার জেরেই এক হতাশাজনক কৃতিত্বের মালিক হলেন তিনি।
এই নিয়ে ২০২৬ সালে টি-২০ ক্রিকেটে অভিষেক ষষ্ঠবার খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফিরলেন। এটি ভারতীয় হিসাবে যুগ্মভাবে এক ক্যালেন্ডার বর্ষে টি-টোয়েন্টিতে সর্বাধিক শূন্যের রেকর্ড। ২০১৮ সালে রোহিত শর্মা এবং ২০২৪ সালে সঞ্জু স্যামসনও বিশ ওভারের ক্রিকেটে ছয়বার শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন। তাঁদের এই হতাশাজনক রেকর্ডে ভাগ বসালেন অভিষেক।
বিশ্বের এক নম্বর টি-টোয়েন্টি ব্যাটারের (আইসিসি ব়্যাঙ্কিং অনুযায়ী) সময়টা কিন্তু এ বছরে খুব একটা ভাল কাটছে না। বিশ্বকাপ ফাইনাল বাদে অভিষেক সেই মেগা টুর্নামেন্টে তেমন নজরকাড়া ইনিংস খেলতে পারেননি। ১৬টি বিশ ওভারের ইনিংসে তিনি মাত্র ২৫.২০ গড়ে রান করেছেন। হাঁকিয়েছেন দুইটি অর্ধশতরান। গত ম্যাচে কেকেআরের বিরুদ্ধে তিনি ৪৮ রানের ইনিংস খেললেও ঠিক পরের ম্যাচেই ফের একবার ব্যর্থ হলেন তিনি।
অপরদিকে, ভারতের তারকা ওপেনারকে প্রথম ওভারের শেষ বলে আউট করেন শামি। ঠিক তার পরের ওভারের বলেই আবার ট্র্যাভিস হেডকে আউট করেন সেই শামিই। এই দুই উইকেটের সুবাদেই আরও এক ম্যাচে আরও এক ইতিহাস গড়লেন বাংলার তারকা ক্রিকেটার। ২০২৩ সালের পর থেকে আইপিএলে ভুবনেশ্বর কুমারের সঙ্গে যুগ্মভাবে শামিই ভারতীয় হিসাবে সর্বোচ্চ উইকেটসংগ্রাহক। টিম ইন্ডিয়ার সতীর্থ মহম্মদ সিরাজকে পিছনে ফেললেন শামি।
২০২৩ সাল থেকে শামি পাওয়ার প্লেতে আইপিএলে মোট ২৫টি উইকেট নিয়েছেন। তিনি ও ভুবনেশ্বর যুগ্মভাবে ২৫টি উইকেট নেওয়ার মালিক। সিরাজ নিয়েছেন ২৪টি উইকেট। কেবল ট্রেন্ট বোল্টই এই সময়ে শামির থেকে পাওয়ার প্লেতে বেশি উইকেট নিয়েছেন। শামি যে দুরন্ত ফর্মে রয়েছেন, তা কিন্তু বলাই বাহুল্য।
