চেন্নাই: বিশ্বকাপের সেরা ক্রিকেটার হয়ে তিনি আইপিএলে (IPL 2026) নেমেছিলেন। তবে টুর্নামেন্টের প্রথম তিন ম্যাচে নতুন দলের হয়ে সঞ্জু স্য়ামসনের (Sanju Samson) শুরুটা একেবারে ভাল হয়নি। তিন ম্যাচে তিনি যথাক্রমে রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে ছয়, পঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে সাত ও আরসিবির বিরুদ্ধে নয় রান করেছিলেন। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল, তাহলে কি সঞ্জুকে দলে নিয়ে ভুল করল চেন্নাই সুপার কিংস?
শনিবার চিপকে সেইসব প্রশ্নের উত্তর দেন সঞ্জু স্যামসন। তিনি দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে (CSK vs DC) এক দুরন্ত শতরান হাঁকিয়ে ফেললেন। ৫৬ বলে সঞ্জুর ১১৫ রানের ইনিংস সাজানো ছিল ১৫টি চার ও চারটি ছক্কায়। তাঁর স্ট্রাইক রেট, ২০৫.৩৬। এই ইনিংসে ভর করেই চেন্নাই সুপার কিংস, চলতি মরশুমে নিজেদের প্রথম জয় পেল। ঘরের মাঠে নাগাড়ে ছয় ম্যাচে হারের ধারাও সমাপ্ত হল। আর এই শতরানের সুবাদেই ইতিহাস গড়ে ফেললেন স্যামসন।
সঞ্জুই প্রথম ব্যাটার হিসাবে আইপিএলে তিন তিনটি ভিন্ন দলের সেঞ্চুরি হাঁকালেন। ঘটনাক্রমে তাঁর প্রথম সেঞ্চুরিটি আসে শনিবার রাতে সিএসকের প্রতিপক্ষ, দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়েই। আরও কাকতালীয় বিষয় হল সেই দিনটাও ছিল ১১ এপ্রিল। আজ থেকে নয় বছর আগে একই দিনে আইপিএলে প্রথম সেঞ্চুরি করেন সঞ্জু। এরপরে রাজস্থান রয়্যালসের জার্সিতে দীর্ঘ সময় খেলাকালীন ২০১৯ এবং ২০২১ সালেও দুইটি শতরান হাঁকিয়েছিলেন তিনি। শনিবার সিএসকের জার্সিতে আইপিএল কেরিয়ারের চতুর্থ শতরান হাঁকালেন তিনি।
ঘটনাক্রমে এই ম্যাচেই সঞ্জু নিজের টি-টোয়েন্টি কেরিয়ারে ৪০০টি ছক্কা মারারও কৃতিত্ব গড়ে ফেললেন। রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি ও সূর্যকুমার যাদবের পর, তিনি চতুর্থ ভারতীয় ব্যাটার হিসাবে এই কৃতিত্ব গড়লেন।
ম্যাচের কথা বলতে হলে, এদিন স্যামসনের পাশাপাশি হলুদ ব্রিগেডের হয়ে তরুণ আয়ুষ মাত্রেও অর্ধশতরান হাঁকান। মাত্রে ৩৬ বলে ৫৯ রান করেন। তবে তাঁকে রিটায়ার্ড আউট হিসাবে ক্রিজ থেকে তুলে নেওয়া হয়। শেষের দিকে শিবম দুবে ১০ বলে ২০ রান করে সিএসকের স্কোর দুই উইকেটে ২১২ রান পর্যন্ত নিয়ে যান। জবাবে দিল্লি ক্যাপিটালস শুরুটা ভালই করেছিল। প্রথম পাঁচ ওভারে ৬১ রান যোগ করে শুরুটা ভাল করেছিলেন দিল্লি ক্যাপিটালসের দুই ওপেনার কে এল রাহুল ও পাথুম নিশাঙ্কা। এরপরই খেই হারায় রান তাড়া করার অভিযান। জেমি ওভারটন চারটে উইকেট নিয়ে দিল্লির ইনিংসকে ছন্নছাড়া করে দেন। ২৩ রানে ম্যাচ জিতে নেয় সিএসকে।
