নয়াদিল্লি: ফের ৯/১১-এর মতো সন্ত্রাসী হামলা হতে পারে বলে এবার সতর্ক করল ইরান। তাদের দাবি, ইরানকে ফাঁসানো হতে পারে। বড় ধরনের ষড়যন্ত্র চলছে। ৯/১১-এর মতো বড় ধরনের নাশকতা ঘটানো হতে পারে,যার দায় চাপানো হতে পারে ইরানের ঘাড়ে। (Iran Warns of 9/11 Like Attack)
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলি লারিজানি এই দাবি করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় আলি লেখেন, ‘আমি শুনলাম এপস্টিন নেটওয়র্কের বাকিরা মিলে ষড়যন্ত্র রচনা করেছে যে ৯/১১-এর মতো ঘটনা ঘটাবে এবং তার দোষ ইরানকে দেবে। ইরান এই ধরনের সন্ত্রাসী পরিকল্পনার ঘোর বিরোধী এবং আমেরিকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে কোনও বিরোধ নেই আমাদের’। (US-Iran War)
আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের সঙ্গে এখনও যুদ্ধ চলছে ইরানে। যুদ্ধ থেকে সরে আসার পরিবর্তে লাগাতার ইরানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল। পাল্টা আঘাত হেনে চলেছে ইরানও। তেল আভিভ লক্ষ্য় করে পর পর ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তারা। পাশাপাশি, ইরাক এবং কুয়েতে আমেরিকার ঘাঁটিতেও হামলা চালানো হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলই প্রথম ইরানে হামলা চালায়। দেশের সর্বোচ্চ শাসক আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে হত্যা করে তারা। সেই থেকে পশ্চিম এশিয়ার বুকে যুদ্ধ নেমে এসেছে। এখনও পর্যন্ত এই যুদ্ধে ২০০০-এর বেশি মানুষ মারা গিয়েছেন,যার মধ্যে অধিকাংশই ইরানের নাগরিক, শিশু। পেন্টাগন জানিয়েছে, আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল মিলে ইরানের ১৫০০০-এর বেশি জায়গায় হামলা চালিয়েছে।
এই আবহে হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখার ঘোষণা করে ইরান, যাতে জ্বালানি সঙ্কট দেখা দেয়। তবে শেষ পর্যন্ত তারা জানায়, ‘শত্রুপক্ষ’ ছাড়া বাকি সকলের জন্য খোলা হরমুজ প্রণালী। তবে এখনও বহু জাহাজ আটকে রয়েছে সেখানে। হরমুজে তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে ডলারের পরিবর্তে চিনের ইউয়ান ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার কথাও ইরান ভাবছে বলে একদিন আগেই খবর আসে।
আর সেই আবহেই ৯/১১-র প্রসঙ্গ টেনে সতর্ক করল ইরান। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকায় যে পর পর হামলা হয়, তা-ই ৯/১১ হিসেবে পরিচিত। ওই হামলায় কমপক্ষে ৩০০০ মানুষ মারা যান। ‘আলকায়দা’র সঙ্গে যুক্ত ১৯ জন হাইজ্যাকার চারটি যাত্রীভর্তি বিমান ছিনতাই করে। দু’টি বিমান ধাক্কা মারে ওয়র্ল্ড ট্রেড সেন্টারের নর্থ এবং সাউথ টাওয়ারে ধাক্কা মারে বিমান দু’টি। প্রথমে দাউ দাউ করে জ্বলতে শুরু করে টাওয়ার দু’টি। প্রাণে বাঁচতে উপর থেকেই ঝাঁপ দেন অনেকে। তবে মাত্র দু’ঘণ্টার মধ্যেই টাওয়ার দু’টি ধসে যায়। তৃতীয় একটি বিমান পেন্টাগনে হামলা চালায়। অন্য একটি বিমান আছড়ে পড়ে পেনলিভ্যানিয়ায়।
