April 10, 2026
efec7ffc2dcfbb3907d07a9ad91bc1201767843368449338_original.jpg
Spread the love


নয়াদিল্লি: আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডারের কাছ থেকে প্রাপ্ত ঋণ নিয়ে চলছে এখনও। ঋণের শর্তপূরণে বিক্রি করে দিতে হয়েছে বিমান সংস্থা Pakistan International Airlines-ও। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে, ঋণের প্রয়োজনও ফুরিয়েছে বলে এবার দাবি করল পাকিস্তান। তাদের দাবি, ভারতের সঙ্গে সংঘাতের পর তাদের তৈরি যুদ্ধবিমান এত বিকোচ্ছে যে, আর ঋণ নেওয়ার প্রয়োজনই পড়বে না। (Pakistan Economy)

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খোয়াজা আসিফ এই দাবি করেছেন। Geo TV-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের সঙ্গে চারদিন ব্যাপী যে ‘সংক্ষিপ্ত যুদ্ধ’ হয় তাঁদের, তার পর থেকেই তাঁদের তৈরি প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের চাহিদা একলাফে বেড়ে গিয়েছে। তাঁদের তৈরি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম যে হারে বিকোচ্ছে, তাতে খুব শীঘ্রই আর আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডারের কাছ থেকে ঋণ নেওয়ার প্রয়োজন পড়বে না। (Khawaja Asif)

আসিফ বলেন, “আমাদের যুদ্ধবিমান পরীক্ষায় উতরে গিয়েছে। এত অর্ডার পাচ্ছি যে, ছ’মাস পর আর আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডারের ঋণের প্রয়োজন পড়বে না।” পাকিস্তানের সামরিক যোগ্যতা গোটা বিশ্বের নজর কেড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। যদিও আসিফের এই দাবি বাস্তব পরিসংখ্যানের সঙ্গে মিলছে না। তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা এবং যুদ্ধবিমান তৈরির যে রেকর্ড, তাতে তিনি দিবাস্বপ্ন দেখছেন বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহলের একাংশ।

একাধিক শর্তাবলী আরোপ করেই পাকিস্তানকে ঋণ দিচ্ছে আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার। সেই শর্তাবলী পূরণেও রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে পাকিস্তান। যে কারণে আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডারের কাছে শর্তাবলী শিথিল করার আর্জি জানানোর ভাবনাচিন্তাও করছে শেহবাজ শরিফের সরকার। সেই আবহেই এমন বড় দাবি করলেন আসিফ। সেই নিয়ে পাকিস্তানের রাজনৈতিক বিশ্লেষক আয়েষা সিদ্দিকা বলেন, “প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত খবর করা সাংবাদিকদের মতো কথা বলছেন উনি। পিছন থেকে দেখে কোনটি বিমান, কোনটি সাবমেরিন, তা-ই বুঝতে পারেন না। PF-17 Thunder Airframe-এ ৩৫ শতাংশ অংশীদারিত্ব রয়েছে পাকিস্তানের। আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডারের ঋণ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় টাকা নেই পাকিস্তানের কাছে।”

 

একথা যদিও সত্য যে, পাকিস্তানের JF-10, J-10 যুদ্ধবিমানের চাহিদা বেড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে। আজেরবাইজান, লিবিয়া, বাংলাদেশের সঙ্গে সেই নিয়ে আলোচনাও চলছে তাদের। কিন্তু JF-17 যুদ্ধবিমানের ৫৮ শতাংশই পাকিস্তানে তৈরি হয়। যুদ্ধবিমান বিক্রি করে যে টাকা লাভ হয়, তা আবার চিনের সঙ্গে ভাগও করে নিতে হয়। চিনই JF-17 যুদ্ধবিমানের নকশা তৈরি করেছে, প্ল্যাটফর্মও তারাই তৈরি করে। পাকিস্তান শুধুমাত্র কিছু বিশেষ যন্ত্রাংশ উৎপাদন করে, যার টাকা ভাগ হয় দুই দেশের মধ্যে।

ওই JF-17 Thunder যুদ্ধবিমানের বেশ কিছু যন্ত্রাংশ আসে রাশিয়া, চিন, ইতালি, তুরস্ক এবং ব্রিটেন থেকেও। রাশিয়ায় তৈরি RD-33 সিরিজের Kilmov RD-93 টার্বোফ্যান ইঞ্জিন রয়েছে তাতে। ফলে JM-17 যুদ্ধবিমান তৈরিতে পাকিস্তানের ভূমিকা সীমিতই। JF-17 ১৫ মিলিয়ন ডলার এবং J-10 ৪০ মিলিয়ন ডলারে বিকোলেও, চিনের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ায় পাকিস্তানের লাভ কমই। তার উপর ঋণের ভারেও জর্জরিত তারা। তাই পাটিগণিতের হিসেবে আসিফের দাবি ধোপে টিকছে না।

ভারতের সঙ্গে যে ‘সংক্ষিপ্ত যুদ্ধে’র দোহাই দিচ্ছেন আসিফ, তাতেও পাকিস্তান নাকাল হয়। ভারত তাদের বেশ কয়েকটি বিমান গুলি করে নামায়। তাদের ভোলারি, নূর খান বায়ুসেনাঘাঁটিও ধ্বংস করে দেয় ভারত। তাদের ১১টি বায়ুসেনাঘাঁটিতে স্থিত ২০ শতাংশ পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রানওয়ে, হ্যাঙ্গার গুঁড়িয়ে দেয় ভারত। এমনকি Saab 2000 AWACS, TPS-43J রেডার প্রযুক্তিও ভেঙে পড়ে। 

কয়েক সপ্তাহ আগেই জাতীয় বিমান সংস্থা Pakistan International Airlines ১৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় (পাকিস্তানি মুদ্রা) বিক্রি করে দিতে হয় পাকিস্তান সরকারকে, ভারতীয় মুদ্রায় যা ৪ হাজার ৩০০ টাকা। একটি বেসরকারি সংস্থা সেটিকে অধিগ্রহণ করেছে। পাকিস্তানের অর্থনীতিও এই মুহূর্তে কার্যত ভেন্টিলেন্টরে। বাজারে ২৬ ট্রিলিয়ন (পাকিস্তানি মুদ্রা) দেনা আছে তাদের। এমন পরিস্থিতিতে আসিফের দাবি অতিরঞ্জিত বলেই মনে করছেন সকলে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Enable Notifications OK No thanks