নয়াদিল্লি : উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়ার বিস্তীর্ণ অংশ। চলছে হামলা-পাল্টা হামলা। এর কতটা প্রভাব পড়বে ভারতে ? তা নিয়ে চলছে জোর চর্চা। বিশেষ করে তেলের বাজারে কী প্রভাব পড়তে চলেছে ?
ভারতের কাছে এই মুহূর্তে সঞ্চয়ে আছে ১০০ মিলিয়ন বা ১০ কোটি ব্যারেল বাণিজ্যিক অপরিশোধিত তেল। ট্যাঙ্ক, রিজার্ভ এবং সমুদ্রপথে জাহাজে আসা তেল রয়েছে এরমধ্যে। যা এদেশে ৪০-৪৫ দিন তেলের চাহিদার প্রয়োজন মেটাতে পারে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাত্রা যদি ব্যাহত হয় তাহলে এই সংকটের মুখে পড়তে হতে পারে বলে দাবি Kpler-এর।
ভারত তার প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৮৮ শতাংশ আমদানি করে। পেট্রোল এবং ডিজেলের মতো জ্বালানির কাঁচামাল – যার ৫০ শতাংশেরও বেশি সরবরাহ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলি এবং সংকীর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে। যেখান থেকে তেলের প্রবাহ ইরান সংকটের কারণে ব্যাহত হয়েছে।
কেপলারের রিফাইনিং ও মডেলিংয়ের প্রধান গবেষণা বিশ্লেষক সুমিত রিটোলিয়া বলেছেন, যদি মধ্যপ্রাচ্যের অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ সাময়িক সময়ের জন্য সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়বে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল দীর্ঘ সময়ের জন্য ব্যাহত হলে সরবরাহ ঝুঁকি আরও তীব্র হবে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে গেলে প্রথমে দ্রুত পণ্য উত্তোলনের উপর প্রভাব পড়বে। তবে, পরিশোধকরা সাধারণত বাণিজ্যিক মজুত রাখে এবং জলে থাকা পণ্য নিয়ে আসা অব্যাহত থাকবে, যা ব্যবস্থাকে কিছুটা স্বল্পমেয়াদী সহায়তা দেবে।
এ প্রসঙ্গে গতকাল অর্থনীতিবিদ অভিরূপ সরকার বলেছেন, “ভারতকে তার মোট তেলের চাহিদার ৯০ শতাংশ আমদানি করতে হয়। সেই ৯০ শতাংশর ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পশ্চিম এশিয়া থেকে আসে। আগে আরও বেশ আসত। আমরা আস্তে আস্তে রাশিয়ান তেল কিনতে শুরু করেছি বলে এখন একটু কম আসছে। কিন্তু ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ তো কম নয়। অতএব ওখানে একটা গন্ডগোল বাঁধলে ভারতকে অবশ্যই তার ফল ভোগ করতে হবে সরাসরি। কিন্তু, তার থেকেও বড় কথা, যদি ভারত তার চাহিদা রাশিয়া থেকে মেটানোর চেষ্টা করে আরও বেশি করে, তাতেও খুব সুবিধা হবে না এই কারণে যে, পৃথিবীর বাজারে তেলের দামটা বাড়বে। কারণ, পশ্চিম এশিয়া থেকে পৃথিবীর বাজারের একটা বড় অংশের তেল জোগান হয়। তার ফলে সারা পৃথিবীতে তেলের দাম বাড়লে, রাশিয়ান তেলের দামও বাড়বে। অতএব, আমাদের এই মুহূর্তে বাঁচার কোনও উপায় নেই।”
