April 15, 2026
6455e85b022c5cccfea79a9fc53154711768032146480338_original.jpg
Spread the love


নয়াদিল্লি: মহাকাশে নতুম বিপত্তি  আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে এক মহাকাশচারী গুরুতর অসুস্থ বলে জানা যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে উদ্ধারকার্যে নামছে আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা NASA (নাসা). অভিযানের মেয়াদ পূরণ হওয়ার আগেই চার মহাকাশচারীকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা হবে পৃথিবীতে। (International Space Station)

এমন পরিস্থিতিতে ‘মেডিক্যাল এমার্জেন্সি’ ঘোষণা করেছে NASA. কিন্তু কেন এই ‘মেডিক্যাল এমার্জেন্সি’ , তা খোলসা করেনি। কোন মহাকাশচারী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, খোলসা করা হয়নি নামও। কী রোগ হয়েছে, জানানো হয়নি। বরং গোপনীয়তা রক্ষা করছে NASA. (NASA Medical Emergency)

এখনও পর্যন্ত যা খবর, সেই অনুযায়ী, আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যেই আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন থেকে পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারেন চার মহাকাশচারী। NASA জানিয়েছে, NASA এবং ইলন মাস্কের সংস্থা SpaceX এই অভিযানে নামছে। Crew 11-এর নোঙর খুলে ফেলা হবে। সব ঠিক থাকলে ১৪ জানুয়ারিই সেই কাজ সম্পন্ন হবে। এর পর বৃহস্পতিবার ক্যালিফোর্নিয়ায় এসে নামবেন চার মহাকাশচারী। তবে ওইদিন আবহাওয়া কেমন থাকে, তার উপরও অনেক কিছু নির্ভর করছে। 

মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এর আগে কখনও অসুস্থতাজনিত কারণে উদ্ধারকার্য চালাতে হয়নি। তাই বিষয়টি সামনে আসার পর থেকে উদ্বেগ বাড়ছে। ওই মহাকাশচারী আঘাত পাননি বলেই দাবি NASA-র। তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল বলেও জানানো হয়েছে। কিন্তু কী এমন হল যাতে সকলকে নির্ধারিত সময়ের আগে, জরুরি ভিত্তিতে ফিরিয়ে আনতে হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। 

আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন থেকে যে Crew 11-কে ফেরানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে NASA, গত ১ অগাস্ট অভিযানে নামে তারা। মোট ছ’মাস মহাকাশে থাকার কথা ছিল সকলের। Crew 11-এর রয়েছেন NASA-র জেনা কার্ডম্যান, আমেরিকার মহাকাশচারী মাইক ফিনকে, জাপানের মহাকাশচারী কিমিয়া ইউয়ি, রাশিয়ার ওলেগ প্লানতভ। তবে আমেরিকার একজন এবং রাশিয়ার দু’জন আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে থেকে যাবেন বলে খবর। 

NASA-র চিফ হেলথ অ্যান্ড মেডিক্যাল অফিসার জানিয়ছেন, গত ৬৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে মহাকাশে গবেষণার কাজে নিযুক্ত NASA. কিন্তু অসুস্থতাজনিত কারণে এই প্রথম মহাকাশচারীদের ফিরিয়ে আনতে হচ্ছে। এমনিতে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে চিকিৎসার সব সরঞ্জাম রয়েছে। রসদের অভাব নেই। আবার পৃথিবীতে চিকিৎসকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা, পরামর্শ নেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। সময় সময়ে মহাকাশচারীদের শারীরিক অবস্থার খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখে সেই মতো পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। ওই চার মহাকাশচারী ফিরে আসায় গবেষণার কাজও ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। যাঁরা রয়ে যাবেন, তাঁদেরও নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় থাকতে হতে পারে সেখানে।

আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে পাঠানোর আগে পুঙ্খানুপুঙ্খ স্বাস্থ্যপরীক্ষা হয় মহাকাশচারীদের। কোনও রকম রোগ, সংক্রমণ নেই বলে নিশ্চিন্ত হওয়ার পর কোয়রান্টিনেও রাখা হয় তাঁদের, যাতে মহাকাশে কোনও রোগ-জীবাণু বয়ে নিয়ে যেতে না পারেন তাঁরা। একই ভাবে পৃথিবীতে ফেরার পরও ডাক্তারি পরীক্ষা হয়, নিভৃতে রাখা হয় তাঁদের। তাই ওই মহাকাশচারী অসুস্থ হলেন কী করে, কেন আগে থেকে বিষয়টি ধরা গেল না, এতে কি নতুন ঝুঁকি তৈরি হল, একাধিক প্রশ্ন উঠছে।

২০০০ সাল থেকে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে মহাকাশচারীদের আনাগোনা। সেখানে গবেষণা চালান বিভিন্ন দেশের মহাকাশচারীরা। ২০৩০ সাল নাগাদ আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন নামিয়ে ধ্বংস করে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। পরিবর্তে নতুন পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Enable Notifications OK No thanks