নয়াদিল্লি: ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ শাসক মোজতবা খামেনেইকে নিয়ে রহস্য আরও গাঢ় হচ্ছে। যুদ্ধের একমাস পরও দেখা নেই তাঁর, না আছে কোনও খোঁজখবর। সেই আবহে এবার নয়া রিপোর্ট সামনে এল, যাতে বলা হয়েছে, কিছু করার মতো অবস্থায় নেই মোজতবা। অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি। এই মুহূর্তে দেশের জন্য সিদ্ধান্তগ্রহণের ক্ষমতাই নেই তাঁর। (Mojtaba Khamenei Condition)
আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের গুপ্তচর সংস্থার হাতে মোজতবাকে নিয়ে এমনি তথ্য এসেছে বলে দাবি ‘দ্য টাইমস’-এর। তারা জানিয়েছে, মোজতবার শরীরে সাড় নেই কোনও। অচেতন অবস্থায় রয়েছেন তিনি। পবিত্র শহর কোমে তাঁর চিকিৎসা চলছে বলে খবর। তাই মোজতবার জায়গায় এই মুহূর্তে কে বা কারা দেশ চালাচ্ছে, যুদ্ধপরিস্থিতিতে কারা সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তা নিয়ে সন্দেহ দানা বাঁধছে। (Iran War News)
‘দ্য টাইমস’ জানিয়েছে, মোজতবার অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর। দেশের কোনও সিদ্ধান্তেই অংশ নেওয়ার ক্ষমতা নেই তাঁর। যে পবিত্র কোম শহরে চিকিৎসা চলছে মোজতবার, সেখানেই তাঁর বাবা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে সমাধিস্থ করা হবে বলে জানা যাচ্ছে। ইরানের পন্থী ধর্মগুরুদের ক্ষমতার ভরকেন্দ্র কোম।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলই প্রথম ইরানে হামলা চালায়। হত্যা করা হয় আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে। জানা গিয়েছে, হামলার সময় বাবার বাসভবনে ছিলেন মোজতবাও। হামলার কয়েক মুহূর্ত আগে বাগানে গিয়েছিলেন তিনি। সেই সময়ই বাসভবনে ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ে। পরিবারের বাকিরা মারা গেলেও, কোনও রকমে প্রাণে বেঁচে যান মোজতবা। কিন্তু গুরুতর আহত হন তিনি। তাঁর চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, অঙ্গহানি হয়েছে বলেও খবর সামনে আসে।
তবে সেই নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চললেও, মোজতবা ঠিক কোথায় আছেন, তা নির্দিষ্ট ভাবে জানা যায়নি এতদিন। রাশিয়ায় তাঁর চিকিৎসা চলছে বলেও শোনা যায় মাঝে। তবে ইরানে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত জানিয়ে দেন, নিজের দেশেই আছেন মোজতবা। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই তাঁর ঠিকানা গোপন রাখা হয়েছে। তার পর এই প্রথম মোজতবার ঠিকানা জানা গেল। মোজতবা কোমে আছেন বলে উপসাগরীয় দেশগুলিকে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের তরফে জানানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, মোজতবার ঠিকানা কিছুদিন আগেই জানতে পেরে গিয়েছিল আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের গোয়েন্দারা। কোমে একটি বড় সমাধিসৌধও গড়ে তোলা হচ্ছে, যাতে একাধিক সমাধি থাকতে পারে। আয়াতোল্লা আলি খামেনেই এবং তাঁর পরিবারের আরও কাউকে সমাধিস্থ করা হতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ‘দ্য টাইমস’-এর দাবি, সেখানে সমাধিস্থ করা হতে পারে মোজতবাকেও। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। শিয়াদের মধ্যে এত দেরিতে দেহ সমাধিস্থ করার রীতি নেই। আয়াতোল্লা আলিকে সমাধিস্থ করায় এত বিলম্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল বেশ কিছু দিন ধরেই। মোজতবাকে নিয়ে অনিশ্চয়তার দরুণই এত বিলম্ব কি না, উঠছে প্রশ্ন। তবে ইরানের তরফে এখনও পর্যন্ত এ নিয়ে কিছু জানানো হয়নি। প্রকাশ্যে বিবৃতি দেয়নি আমেরিকাও।
মোজতবা যুদ্ধে আহত হয়েছেন বলে যদিও আগেই জানিয়েছিল ইরান। বাবা, মা, স্ত্রী, এক ছেলে মারা গেলেও, মোজতবা বেঁচে যান বলে জানানো হয়। এর পর মোজতবাকে দেশের সর্বোচ্চ শাসক ঘোষণা করা হলেও, সেই থেকে এখনও পর্যন্ত একটিবারও জনসমক্ষে দেখা যায়নি মোজতবাকে। ভিডিও বার্তা বা অডিও বার্তাও আসেনি। শুধু দু’টি লিখিত বার্তা আসে, যা আদৌ তাঁর কি না, তা নিয়ে সন্দেহ ছিল গোড়া থেকে। বিশেষ করে মোজতবাকে নিয়ে কেন AI ভিডিও ছাড়া হচ্ছে, কেন এত গোপনীয়তা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। সেই আবহেই মোজতবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে নয়া রিপোর্ট সামনে এল।
