March 28, 2026
b9356eff8c3d2c80d46d0595657a724617747131102761393_original.jpg
Spread the love


নয়াদিল্লি: ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া বন্ধ করে এবার কি মুখোমুখি লড়াইয়ে নামতে চলেছে ইরান-আমেরিকা-ইজরায়েল? ঘরে ঢুকে মারার কথা ভাবছে তেহরান? তাদের এক পদক্ষেপের পর থেকে এমনই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বিশ্বজুড়ে। পায়ের তলার মাটি শক্ত করতে এবার ১০ লক্ষ তরুণ যোদ্ধা নিয়োগ করছে ইরান। তা হলে এবার কি হবে স্থলযুদ্ধ?

সম্প্রতি তেহরানের পেটে চাপা রাখা খবর প্রকাশ করেছে সেদেশের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম। তাতে বলা হয়েছে ১০ লক্ষেরও বেশি তরুণ যোদ্ধা নিয়োগ করা হচ্ছে। মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রতিদিন নিয়োগ কেন্দ্রের সামনে জমছে ভিড়। বাহিনীতে নাম লেখাচ্ছেন একের পর এক যুবক। কিন্তু আচমকা এই পদক্ষেপের কারণ কী? ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, যুদ্ধের তীব্রতা বাড়াতে কোনও খামতি রাখতে চায় না ইরান। দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ তৈরি করছে তারা। মোজতাবা প্রশাসনের আশঙ্কা, মার্কিন বাহিনী ইরানের ভিতরে ঢুকে হামলা চালাতে চায়। তাই সেই বাহিনীর জন্য একেবারে ‘নরক’ তৈরি করতে প্রস্তুতি চালাচ্ছে তেহরান। হাল ছাড়তে নারাজ তাঁরা। 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে প্রথম আক্রমণ করেছিল আমেরিকা-ইজরায়েলের যৌথ বাহিনী। এক মাসে পা দিয়েছে যুদ্ধ, তবু নেই বিরতি। ট্রাম্প বারংবার আলোচনা চলছে বলে দাবি করলেও, তা খারিজ করেছে তেহরান। আর এই আবহেই পশ্চিম এশিয়ায় নিজের দাপট বাড়াচ্ছে আমেরিকা। বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, উপসাগরীয় দেশগুলিতে বাড়ছে মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতি। ওই অংশে জলপথে হাজার হাজার নৌসেনা মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি, আকাশপথে হামলা চালানোর জন্য পশ্চিম এশিয়ায় স্থিতু মার্কিন বায়ুসেনাঘাঁটিতে বেড়েছে জওয়ানদের পরিমাণ। আর সেই মার্কিন ঘাঁটিগুলিকেই গত এক মাস ধরে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইরান। ছুড়ছে ক্ষেপণাস্ত্র।

সম্প্রতি নিউ ইয়র্ক টাইমস তাদের একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, উপসাগরজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আমেরিকার ১৩টি সেনাঘাঁটিকে নিশ্চিহ্ন করেছে তেহরান। যে ১৩টি সেনাঘাঁটি ধ্বংসের কথা বলে হচ্ছে, সেগুলির মধ্যে কুয়েতে থাকা মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। কুয়েতের পোর্ট শুয়াইবা, আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং বুয়েরিং সেনাঘাঁটি — সব গুঁড়িয়ে দিয়েছে তেহরান। বলে রাখা প্রয়োজন, কাতারের আল উদেইদ বায়ুসেনাঘাঁটিতে থাকা আমেরিকার শক্তিশালী রেডার ব্যবস্থাকেও নিশানা করেছে তেহরান। নিশানা করা হয়েছে বাহরিনের মার্কিন সেনার ফিফ্‌থ ফ্লিট-এর সদর দফতরকেও। 

সেনাঘাঁটি নিশ্চিহ্ন করেই ইরান যে থামতে চায় এমনটা নয়। উপসাগরীয় দেশগুলিকেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা। সম্প্রতি ইরানের ফার্স সংবাদসংস্থা তাদের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, বাহরিন, সিরিয়া, লেবানন-সহ বিভিন্ন দেশের হোটেলে আশ্রয় নিয়ে বসে রয়েছে মার্কিন বাহিনী। তারপরই সেই হোটেলগুলিকেও চিহ্নিত করে নিশানা করা হবে বলে উপসাগরীয় দেশগুলিকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। বৃহস্পতিবার ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি অভিযোগ তোলেন, ওই দেশগুলির নাগরিকদের ‘মানব ঢাল’ হিসাবে ব্যবহার করছে মার্কিন সেনা। সেনাঘাঁটি ছেড়ে হোটেল এবং বিভিন্ন সরকারি দফতরে আশ্রয় নিচ্ছেন তারা। ইরানের সরকারি টেলিভিশনকে সেদেশের বাহিনীর মুখপাত্র বলেন, “মার্কিন জওয়ানরা যে হোটেলে আশ্রয় নেবেন, সেটাই আমাদের চোখে হয়ে উঠবে আমেরিকা।” 

পাশাপাশি, হরমুজ সুরক্ষিত করারও অঙ্গীকার নিয়েছে তেহরান। হরমুজ প্রণালী দিয়ে ‘শত্রুদের’ জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়া ইরানের বৈধ অধিকার বলে রাষ্ট্রপুঞ্জে দাবি করেছেন সেদেশের বিদেশমন্ত্রী। তাই হরমুজ রক্ষার্থেও তৈরি বলে দাবি তাদের। তৈরি রয়েছে স্থলযুদ্ধের জন্য।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Enable Notifications OK No thanks