LPG Cylinder Booking: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ। যে কারণে এলপিজি সঙ্কটের আশঙ্কায় দেশ। আর এবার ফের বদল হল রান্নার গ্যাস বুকিংয়ের নিয়ম। এতদিন এই গ্যাস বুকিংয়ের যে নিয়ম রুরাল এরিয়ায় লাগু হয়েছিল, এবার সেই নিয়ম লাগু হতে চলেছে শহরেও। ডিলাররা বলছেন, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধের কারণেই এমন নির্দেশ এসেছে।
জানা গিয়েছে, যদি কোনও গ্রাহকের ডাবল সিলিন্ডার থাকে, তাহলে সেই ব্যক্তি ৩৫ দিনের আগে দ্বিতীয় বুকিং করতে পারবেন না। তবে, সিঙ্গেল সিলিন্ডার হলে পুরোনো নিয়মই কার্যকর থাকবে। অর্থাৎ, ২৫ দিনের মধ্যেই আবার সিলিন্ডার বুক করতে পারবেন গ্রাহক। আর যদি কেউ উজ্জ্বলা প্রকল্পের গ্রাহক হন, তাঁর জন্য এই বুকিংয়ের সময়সীমা ৪৫ দিন।
তাহলে কি সঙ্কট আরও বাড়ল? অর্থনীতিবিদ অভিরূপ সরকার বলছেন, “সঙ্কট তো একটা রয়েছে। কেউ যদি বলে সঙ্কট নেই, তাহলে সেটা ঠিক কথা নয়, মিথ্যা ভাষণ। আগে গ্রাম ও শহরের মধ্যে যে তফাত ছিল, সেটা চলে যাওয়া একদিকে ভাল। কারণ, গ্রাম ও শহরের মধ্যে তফাত করা ঠিক নয়। তবে, এই নতুন নিয়মেও ছোট পরিবারগুলো চালিয়ে নিতে পারবে। কিন্তু একটু বড় পরিবার হলে খুব অসুবিধায় পড়ওবয়েন তাঁর। একই সঙ্গে সরকারকে দেখতে হবে এই গ্যাস নিয়ে যেন কোনও কালোবাজারি না হয়। কেন্দ্রকে আরও একটা বিষয় দেখতে হবে, বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে যেন কোনও অসামঞ্জস্য না হয়।”
তবে অর্থনীতিবিদ এটাও বলছেন, যে সংকটের মুখে এই মুহূর্তে গোটা দেশ বা বিশ্ব দাঁড়িয়ে রয়েছে, তাতে আমাদের একটু কষ্ট সহ্য করতেই হবে। আসলে এই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়েছে। গতকালই সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়ে কথা বলেছেন। তিনি আগেই একটা সংকেত দিয়েছিলেন, যে জ্বালানী নিয়ে ক্রাইসিস একটা আসতেই পারে। আর এবার নতুন এই নির্দেশিকার সেই সেই ছবিই স্পষ্ট হচ্ছে কিছুটা।
উল্লেখ্য, গতকালই প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভারত প্রয়োজনের প্রায় ৬০ শতাংশ এলপিজি আমদানি করে। দেশে গৃহস্থলীর প্রয়োজনীয় গ্যাস যাতে মেলে, সেই কারণে পদক্ষেপও করেছে সরকার। এ ছাড়াও দেশের মধ্যে গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধি করা হচ্ছে, জানান প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়াও পেট্রোল ও ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টাও করা হচ্ছে সরকারের তরফে।
