নয়াদিল্লি: রেপো রেট অপরিবর্তিত রাখল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। ফলে রেপো রেট রইল ৫.২৫ শতাংশেই। বাজেটের পর পর নেওয়া প্রথম সিদ্ধান্তে রেপো রেটে হেরফের ঘটাল না RBI. প্রতি দু’মাস অন্তর মনিটারি পলিসি কমিটির বৈঠক করে তারা। সেখানেই যাবতীয় অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত, কৌশল গৃহীত হয়। (RBI MPC Meeting)
তবে রেপো রেট অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে গোড়া থেকেই মনে করছিলেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য়চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কোনও রকম ঝুঁকি না নিতেই এমন সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। (RBI Monetary Policy)
RBI গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্র বলেন, “ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বহির্জগতে কঠিন পরিস্থিতি ডেকে আনলেও, ভারতীয় অর্থনীতির বৃদ্ধি অব্যাহত। মুদ্রাস্ফীতি স্বাস্থ্যকর জায়গায় থাকলে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে যেমন, তেমনই বৃদ্ধিও অব্যাহত থাকে। আমরা অর্থনীতির চাহিদা পূরণ করতে এবং বৃদ্ধির গতি অব্যাহত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
VIDEO | Monetary Policy Statement: Reserve Bank of India Governor Sanjay Malhotra, says, “The Monetary Policy Committee met on 4th, 5th (February) and today to deliberate and decide on policy repo rate. After a detailed assessment of evolving macro-economic condition and the… pic.twitter.com/rudkvKv6IZ
— Press Trust of India (@PTI_News) February 6, 2026
ভারত দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি হিসেবে একই জায়গায় রয়েছে বলেও দাবি সঞ্জয়ের। আপাতত রেপো রেট বৃদ্ধি করার তেমন সম্ভাবনাও নেই বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
সরকারি এবং বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলিকে যে সুদের হারে ঋণ দেয় RBI, তাকেই রেপো রেট বলা হয়। RBI রেপো রেট কমালে ব্যাঙ্কগুলিও সুদের হার কম করে। তাই RBI রেপো রেট না কমানোয় সাধারণ বাড়ি বা গাড়ির ঋণে সাধারণ মানুষের সুদের হার কমার সম্ভাবনাও রইল না আপাতত।
এদিনের বৈঠকে RBI সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ডিজিটাল লেনদেনে যাঁরা জালিয়াতির শিকার হয়েছেন, তাঁরা ২৫০০০ টাকা পর্যন্ত যাতে ক্ষতিপূরণ পান, সেই প্রস্তাব দেওয়া হবে। পাশাপাশি, ঋণদাতাদের দ্বারা বিভ্রান্ত হলে, ঋণ পুনরুদ্ধার এবং ঋণ উদ্ধার করতে এজেন্ট ব্যবহার নিয়ে খুব শীঘ্র নির্দেশিকাও জারি করবে তারা।
RBI জানিয়েছে, মার্চ-মে ত্রৈমাসিকে দেশে মুদ্রাস্ফীতির হার ৪ শতাংশেই থাকতে পারে। আগে যদিও ৩.৯ শতাংশে থাকতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছিল। পরবর্তী ত্রৈমাসিকে মুদ্রাস্ফীতির হার ৪.২ শতাংশ হতে পারে বলেও মনে করছে RBI. বর্তমান অর্থবর্ষে খুচরো মুদ্রাস্ফীতি ২.১ শতাংশে থাকতে পারে। আর চলতি ত্রৈমাসিকে ওই হার হতে পারে ৩.২ শতাংশ।
