কল্যাণী: বিজয় হাজারে ট্রফি, সৈয়দ মুস্তাক আলি টি-২০ – পরপর দুই টুর্নামেন্টে মুখ থুবড়ে পড়েছে বাংলার স্বপ্ন। হাতে পড়ে এখন শুধু রঞ্জি ট্রফি। যে টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বে ভাল জায়গায় রয়েছে বাংলা। বৃহস্পতিবার থেকে কল্যাণীতে রঞ্জি ট্রফির ম্যাচে সার্ভিসেসের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলা।
এই ম্যাচ অনুষ্টুপ মজুমদারের কাছে স্পেশ্যাল। কারণ, এটা তাঁর কেরিয়ারে শততম প্রথম শ্রেণির ম্যাচ। সেই বিশেষ মাইলফলকের আগে অনুষ্টুপকে কল্য়াণীতে গিয়ে সংবর্ধিত করলেন সিএবি পদাধিকারীরা।
বুধবার বাংলা দলের অনুশীলনের পর অনুষ্টুপকে ১০০ নম্বর লেখা বিশেষ জার্সি উপহার দিলেন সিএবি সচিব বাবলু কোলে। শততম ম্যাচ উপলক্ষে অনুষ্টুপকে বিশেষ টুপি দেন সিএবির কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাস। গোটা বাংলা দল এই সময় উপস্থিত ছিল। দলের তরফেও সতীর্থদের স্বাক্ষর করা একটি জার্সি তুলে দেওয়া হয় অনুষ্টুপের হাতে। কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্ল জানালেন, ম্য়াচের শেষ দিন অনুষ্টুপকে কিছু উপহার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
চলতি মরশুমেই লিস্ট এ ক্রিকেটে শততম ম্যাচ খেলেছেন অনুষ্টুপ। এবার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে শততম ম্যাচ খেলতে নামছেন। দলের বিপদের মুহূর্তে যেভাবে অনুষ্টুপ বারবার পরিত্রাতা হয়ে ওঠেন, সে কথা মনে করিয়ে তাঁকে শুভেচ্ছা জানান সিএবির কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাস।
বাংলার হেড কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লা অনুষ্টুপের ফিটনেস, ধারাবাহিকতার প্রশংসা করে বলেন, ‘শততম প্রথম শ্রেণির ম্যাচ এক অসাধারণ কীর্তি। অনুষ্টুপের কেরিয়ারে তাঁর বাবা-মায়ের ভূমিকার কথাও মনে রাখতে হবে।’ অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরণ বলেন, ‘শততম প্রথম শ্রেণির ম্যাচ অসাধারণ কীর্তি। বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে অনুষ্টুপ মজুমদার একজন বড় ম্যাচ উইনার। চাইব এভাবেই তিনি খেলা চালিয়ে যান।’
মহম্মদ শামির কথায়, ছোটবেলা থেকে সকলের স্বপ্ন থাকে রঞ্জি ট্রফি খেলার, রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব করার। কিন্তু অনুষ্টুপ যে ধারাবাহিকতা দেখিয়ে ২১ বছরের বেশি সময় ধরে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলে চলেছেন তাঁকে কুর্নিশ জানাতেই হয়।
অনুষ্টুপ বলেছেন, ‘ক্লাব, সিএবি, বাংলার নির্বাচকরা আমার উপর আস্থা দেখিয়েছেন, আশা করি তাঁদের প্রত্যাশা কিছুটা রাখতে পেরেছি। ২০০৪ সালে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের মাঠে মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে প্রথম খেলি। প্রথম ডিভিশনে কাস্টমস ক্লাবে প্রথম খেলার পর কালীঘাটের হয়ে খেলেছি। সকলের আশীর্বাদ পেয়েছি বলেই আজ এখানে দাঁড়িয়ে।’
সার্ভিসেসের বিরুদ্ধে উইকেটকিপার ব্যাটার হিসাবে খেলছেন শাকির হাবিব গাঁধী। সুমিত নাগের পরিবর্তে দলে নেওয়া হয়েছে সায়ন বসাককে। চার পেসারে ৬ পয়েন্টের স্বপ্ন দেখছে বাংলা।
