কলকাতা : মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আবহে আচমকাই দেশে জ্বালানির সঙ্কট। পেট্রল-ডিজেলের সরবরাহে সমস্যা না হলেও রান্নার গ্যাসের সঙ্কট মানুষকে ভাবাচ্ছে । আর এর থেকে মুক্তি পেতে অতিরিক্ত গ্যাস সিলিন্ডার মজুতের জন্য মানুষ বিভিন্ন ফাঁদে পা দিচ্ছে। কেই কেউ আবার মোটা টাকার বিনিময়ে বাড়িতে সিলিন্ডার মজুত করে রাখছেন।
কিন্তু জানেন কি , সঙ্কটের সময় এভাবে প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত গ্যাস মজুত দণ্ডনীয় অপরাধ? নির্দিষ্ট সীমার বেশি এলপিজি সিলিন্ডার জমিয়ে রাখলেই প্রশাসন আপনার বিরুদ্ধে যে কোনও ব্যবস্থা নিতে পারে। সুতরাং, আপনি চাইলেই একাধিক সিলিন্ডার বাড়িতে রাখতে পারবেন না।
সিলিন্ডার মজুতের নিয়ম কী?
আইন অনুযায়ী, কেউ বাড়িতে একসঙ্গে ১৪.২ কেজি ওজনের দুটি এলপিজি সিলিন্ডার মজুত করে রাখতে পারেন। একটি ব্যবহারের জন্য এবং অন্যটি ব্যাকআপ হিসেবে রাখার জন্য। হঠাৎ করে শেষ হয়ে গেলে যাতে আপনি ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু এই দুই-এর অধিক আপনি বাড়িতে রাখতে পারবেন না।
ইন্ডিয়া টুডে-র রিপোর্ট অনুযায়ী দেশের প্রধান তেল সংস্থাগুলি যেমন ইন্ডিয়ান অয়েল, ভারত পেট্রোলিয়াম এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম, সুরক্ষা বিধির সমস্ত নিয়ম মেনেই বাড়িতে দুটি সিলিন্ডার মজুত রাখার নীতিটি কার্যকর করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী “ভারতীয় আইন এক একটি পরিবারকে একসঙ্গে ১৪.২ কেজির দুটি সিলিন্ডার রাখার অনুমতি দিয়েছে। একটি ব্যবহারের জন্য এবং অন্যটি ব্যাকআপ হিসেবে। এই নিয়ম গ্যাস সিলিন্ডার রুলস, ২০১৬ এবং পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড এক্সপ্লোসিভস সেফটি অর্গানাইজেশন-এর জারি করা নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত।”
একাধিক সিলিন্ডার মজুত করার ক্ষেত্রে নিয়মও আলাদা হয়েছে। কেবলমাত্র বাণিজ্যিক বা বড় কোনও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্থা একাধিক সিলিন্ডার স্টক করতে পারে। এর জন্য আলাদা লাইসেন্স প্রয়োজন হয়। এলপিজি যেহেতু একটি ‘ভয়ঙ্কর দাহ্য’ পদার্থ হিসেবে চিহ্নিত, তাই বাড়িতে এর সংরক্ষণ একেবারে উচিত নয়।
কী শাস্তি হতে পারে?
এসেনশিয়াল কমোডিটিস অ্যাক্ট, ১৯৫৫ (Essential Commodities Act, 1955)-এর আইন অনুযায়ী এলপিজি একটি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য। আর সঙ্কটের সময় কেউ যদি মজুত করা অতিরিক্ত সিলিন্ডার পুনরায় বিক্রি বা কালোবাজারি করার চেষ্টা করে তবে কঠিন শাস্তির মুখে পড়তে পারে।
বাড়িতে মজুত থাকা অতিরিক্ত সিলিন্ডার প্রশাসন বাজেয়াপ্ত করতে পারে। কখনও শুধুমাত্র মোটা টাকার জরিমানা হতে পারে, আবার জেলও হতে পারে। গুরুতর কোনও অপরাধ ধরা পড়লে জেল ও জরিমানা দুটোই একসঙ্গে হতে পারে।
ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বা ডিস্ট্রিবিউটরদের ক্ষেত্রে তাদের ডিলারশিপ বা চুক্তি বাতিল হতে পারে।
