হায়দরাবাদ: বিগত দুই বছর ধরে সাদা বলের ক্রিকেটে ভারতের হয়ে একটিও ম্যাচ খেলেননি। গত বছর রেকর্ড দামে বিক্রি হওয়া সত্ত্বেও আইপিএলে তাঁর পারফরম্য়ান্স একেবারেই আশানুরূপ ছিল না। এ মরশুমের প্রথম আইপিএল (IPL 2026) ম্যাচেও ওপেন করতে নেমে রান পাননি। এমন পরিস্থিতিতে ঋষভ পন্থকে (Rishabh Pant) ঘিরে ধীরে ধীরে সমালোচনা বাড়ছিল। তবে রবিবার উপ্পলে সেই সব সমালোচনার জবাব দিলেন লখনউ সুপার জায়ান্টস। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে (SRH vs LSG) অপরাজিত ৬৮ রানের ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়লেন ঋষভ।
লো স্কোরিং ম্যাচে ১৩৬-র স্ট্রাইক রেটে ঋষভের এই পারফরম্যান্স সকলের বাহবা কুড়িয়ে নেয়। এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে পন্থ কি সমালোচকদেরই জবাব দিলেন? তারকা কিপার-ব্য়াটার অবশ্য মুখে নয়, বরং ব্যাটের মাধ্যমেই কথা বলায় বিশ্বাসী। ম্যাচশেষে পন্থকে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বলতে শোনা যায়, ‘নিঃসন্দেহে (ম্যাচ শেষ করাটা) এটি ইতিবাচক বিষয়। ম্যাচের শেষ অবধি থেকে ম্যাচ শেষ করাটা সত্যিই দলের জন্য বড় ইতিবাচক দিক। যার শেষ ভাল, তার সব ভাল। ব্য়ক্তিগতভাবে আমি বলব যে আমি জানি প্রতিটি ম্য়াচের জন্য আমি দারুণভাবে প্রস্তুতি সারছি। আমি চাই আমার ব্যাটটাই কথা বলুক। আমার সতীর্থ এবং টিম ম্যানেজমেন্ট জানে আমি কতটা খাটা খাটনি করছি এবং দিনের শেষে ওটাই সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ।’
এই ম্যাচ জয়ের কৃতিত্বটা কিন্তু পন্থ দলের বোলারদেরই দিচ্ছেন। তবে তিনি এও জানিয়ে দেন যে সব ম্যাচের পরেই আলোচনা, সমালোচনার জায়গা থাকে। ‘ম্যানেজমেন্টের কাজই হল সবটা খুটিয়ে দেখা, ত্রুটিগুলি বিশ্লেষণ করা। তবে তার পাশাপাশি যেটা ভাল হচ্ছে, সেটাকে বাহবা দেওয়াটাও প্রয়োজনীয়। আমি সবটা পারি দেখানোর থেকে যা পরিকল্পনা রয়েছে, সেটাই বাস্তবায়িত করার বিষয়টা নিয়ে আমরা আলোচনা করব। নিজের প্রস্তুতির ওপর ভরসা রেখেই ম্য়াচ খেলাটা উচিত।’ দাবি লখনউ অধিনায়কের।
রবিবারের ম্যাচে নতুন বলে মহম্মদ শামির দুরন্ত স্পেল লখনউয়ের জয়ের ভিত গড়ে। তিনি সানরাইজার্সের দুই বিধ্বংসী ওপেনারকেই সাজঘরে ফেরান। মাঠে হেনরিখ ক্লাসেন ও নীতীশ কুমার রেড্ডি অর্ধশতরান হাঁকিয়ে ও শতরানের পার্টনারশিপ গড়ে দলকে বিপদমুক্ত করেন। তবে ১৪ রানে শেষ পাঁচ উইকেট হারিয়ে সানরাইজার্সের ইনিংস ১৫৬ রানেই আটকে যায়। জবাবে এডেন মারক্রামের ৪৫ ও পন্থের দুরন্ত অর্ধশতরানে, এক বল বাকি থাকতেই পাঁচ উইকেটে এক টানটান ম্যাচ জিতে এ বারের আইপিএলে লখনউ নিজেদের খাতা খোলে।
