নয়াদিল্লি: নয় নয় করে তৃতীয় সপ্তাহ ধরে চলছে যুদ্ধ। আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলকে জোর টক্কর দিচ্ছে ইরানও। যুদ্ধের আঁচ থেকে রক্ষা পাচ্ছে না পশ্চিম এশিয়া এবং উপসাগরীয় দেশগুলি। আর সেই আবহেই নয়া সম্ভাবনার কথা উঠে এল। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যদি যোগ দেয় সৌদি আরব, সেক্ষেত্রে পাকিস্তানও সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে। তাদের পরমাণু অস্ত্রের উপর নির্ভরশীল হতে পারে সৌদি। (Pakistan-Saudia Arabia Defence Pact)
সৌদি আরবের ভূ-রাজনীতি বিশেষজ্ঞ তথা গবেষক সলমন আল-আনসারি এই সম্ভাবনা উস্কে দিয়েছেন। কানাডার CBC News-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “সৌদি আরব যদি পূর্ণশক্তিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে, সেক্ষেত্রে ইরান বড় হেরোয় পরিণত হবে। কারণ সেক্ষেত্রে পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সামরিক চুক্তিকে কাজে লাগাবে সৌদি। আক্ষরিক অর্থেই সৌদি আরবের মাথায় পরমাণু রক্ষাকবচ রয়েছে।” (US-Iran War)
সরকারি ভাবে সৌদির তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও ঘোষণা না হলেও, রিয়াধকে সবরকম ভাবে সহযোগিতা করতে তারা প্রস্তুত বলে ইঙ্গিত দিয়েছে পাকিস্তানও। গত বছর দুই দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তার আওতায় যুদ্ধ পরিস্থিতিতে পরস্পরকে সবরকম সাহায্য় জোগাতে, পরস্পরের সেনা, সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহারের বিধানও রয়েছে। সেই সময় দুই দেশের তরফে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, “এক দেশের উপর আগ্রাসন নেমে এলে, তা দুই দেশের উপর নেমে আগ্রাসন বলেই ধরা হবে। একজোট হয়ে মোকাবিলা করা হবে শত্রুর।”
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের উপর হামলা চালায় আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল। সেই থেকে যুদ্ধ পরিস্থিতি পশ্চিম এশিয়া জুড়ে। ইরানের পড়শি দেশগুলির উপরও যুদ্ধের আঁচ পড়েছে। পড়শি দেশে যেখানে যেখানে আমেরিকার ঘাঁটি রয়েছে, বেছে বেছে আঘাত হানছে ইরান। ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে মুহুর্মুহু। এমন পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় দেশগুলি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেয় কি না, সেই নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।
তবে এখনও পর্যন্ত যা খবর, আন্তর্জাতিক মহলের পাশাপাশি, যুদ্ধবিরতির পক্ষে সওয়াল করছে ইরানের পড়শি দেশগুলিও। সৌদি আরব এবং অন্য উপসাগরীয় দেশগুলি আমেরিকার কাছেও সেই মর্মে আবেদন জানিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সেব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে বলেছে তারা। শেষ পর্যন্ত তারাও যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে কি না, পাকিস্তানের সাহায্য় নেয় কি না, তা সময়ই বলবে।
সৌদিকে সাহায্য করার ব্যাপারে পাকিস্তানের তরফে ইতিমধ্যেই বার্তা এসেছে। মার্চ মাসের গোড়ায় পাক বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার জানান, ইরানের সঙ্গে কথা হয়েছে তাঁদের। সৌদির সঙ্গে নিজেদের চুক্তির কথা জানিয়েছেন। ওই চুক্তি ইরানের উপরও প্রযোজ্য। শুধু তাই নয়, ইতিমধ্যে সৌদিতে সেনাও পাঠিয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্রও প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজন পড়লে সাহায্য় পৌঁছে দেওয়া হবে সৌদিকে।
পাকিস্তান এবং সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত বিশেষ সামরিক চুক্তি অনুযায়ী, সৌদি আরব বা পাকিস্তান, যে দেশেরই উপরই আক্রমণ নেমে আসুক না কেন, তা অন্য দেশটির উপরও হামলা হিসেবে গণ্য হবে। অর্থাৎ এক দেশের উপর হামলা হলে, মোকাবিলায় অবতীর্ণ হবে অন্য দেশটিও। একজনের শত্রুকে অন্য় জনও শত্রু হিসেবেই গণ্য করবে। পাকিস্তান একটি পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র। সামরিক চুক্তির আওতায়, তাদের সেই পরমাণু শক্তিও সৌদি আরব ব্যবহার করতে পারবে বলে ঠিক হয় চুক্তিতে। সৌদি সঙ্গে সুসম্পর্ক ভারতেরও। তাই সৌদির সঙ্গে পাকিস্তানের এই চুক্তিতে উদ্বেগ দেখা দেয় দিল্লিতেও।
