সিডনি: জোহানেসবার্গে তখন হরভজন সিংহের ঘূর্ণিতে সবে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখা শুরু করেছিল ভারত। ২০ বছর পর ফের ওয়ান ডে বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল গোটা দেশ। বাড়তি আবেগ কাজ করছিল বাঙালি ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে। হবে নাই বা কেন! ভারতীয় দলের অধিনায়ক যে এক বঙ্গসন্তান। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় (Sourav Ganguly)। যিনি বিতর্কবিদ্ধ ভারতীয় ক্রিকেটকে এক সুতোয় গেঁথেছিলেন।
তবে ২০০৩ সালে জোহানেসবার্গের সেই ফাইনালে অন্যরকম কিছু ভেবেছিলেন দুই অস্ট্রেলীয় তারকা। অবিচ্ছেদ্য তৃতীয় উইকেটে ২৩৪ রানের পার্টনারশিপ গড়ে লিখে দিয়েছিলেন ম্যাচের ভবিষ্যৎ। ঝোড়ো শুরুর পর হরভজনের বোলিংয়ে পরপর দুই ওপেনার – অ্যাডাম গিলক্রিস্ট ও ম্যাথু হেডেনকে হারিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। বিনা উইকেটে ১০৫ থেকে ১২৫/২ হয়ে যায় অজ়িরা।
রিকি পন্টিং ও ড্যামিয়েন মার্টিনের (Damien Martyn) অবিশ্বাস্য পার্টনারশিপ সেই ম্যাচে ভারতের স্বপ্নকে কফিনবন্দি করেছিল। ৩৫৯/২ তোলে অস্ট্রেলিয়া। পন্টিং সেঞ্চুরি করেছিলেন। আর মার্টিন ৮৪ বলে ৮৮ রানে অপরাজিত ছিলেন। ভারত ১২৫ রানে ম্যাচ ও ফাইনাল হেরেছিল।
সৌরভের টিম ইন্ডিয়াকে দুঃস্বপ্ন উপহার দেওয়া সেই ড্যামিয়েন মার্টিন মৃত্যুশয্য়ায়। জীবন ও মৃত্যুর মধ্যে দড়ি টানাটানি চলছে।
কী হয়েছে মার্টিনের?
মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত হয়েছেন মার্টিন। দ্রুত তাঁকে মেলবোর্নের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে জানা যায় তিনি কোমায় চলে গিয়েছেন। মাত্র ৫৪ বছর বয়স মার্টিনের।
২৬ ডিসেম্বর, বক্সিং ডে-তে মেলবোর্নে মুখোমুখি হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড। সেদিনই বক্সিং ডে টেস্ট নিয়ে নিজের রোমাঞ্চের কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছিলেন মার্টিন। সেদিনই তিনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।
খবরটি প্রথম প্রকাশ্য়ে আনেন ব্রডকাস্টার ব্র্যাড হার্ডি। একটি রেডিও অনুষ্ঠানে তিনি প্রথম জানান যে, মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন মার্টিন।
মার্টিনের অসুস্থতার খবর শুনে উদ্বিগ্ন অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন ক্রিকেটারেরাও। মার্টিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু তথা প্রাক্তন সতীর্থ, কিংবদন্তি উইকেটকিপার অ্যাডাম গিলক্রিস্ট বলেছেন, ‘আমি জানি ও সেরা চিকিৎসা পাচ্ছে। ওর সঙ্গী আমান্ডা ও ওর পরিবার জানে যে, সকলেই ওর পাশে রয়েছে। বিশ্বের প্রচুর মানুষ ওর দ্রুত সুস্থতা কামনা করছে।’ অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন ক্রিকেটার ও কোচ ড্যারেন লেম্যান সোশাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘ড্যামিয়েন মার্টিনের জন্য প্রার্থনা রইল। শক্তিশালী থেকো। কিংবদন্তির মতো লড়াই চালিয়ে যাও বন্ধু।’
