নয়াদিল্লি: হরমুজ দিয়ে জাহাজ আনতে কি টোল দিতে হচ্ছে ইরানকে? বেশ কিছু দিন ধরেই সেই নিয়ে চর্চা চলছে। জাহাজ পিছু ইরান ২ মিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ ১৮.৮ কোটি টাকা টোল ফি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে খবর আসে সম্প্রতি। ভারতকেও চড়া টোল দিতে হচ্ছে কি না, উঠছিল প্রশ্ন। এবার সেই নিয়ে মুখ খুলল ভারতের বিদেশমন্ত্রক। (Hormuz Toll Fee)
ভারত টোল ফি দিয়ে হরমুজ থেকে জাহাজ বের করছে কি না, বৃহস্পতিবার জানতে চাওয়া হয় বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালের কাছে। তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে এমন কোনও আলোচনা হয়নি। অর্থাৎ কোটি কোটি টাকা দিয়ে জাহাজ বের করে আনতে হচ্ছে বলে যে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল, তা কার্যত খারিজ করে দিলেন তিনি। (US-Iran War)
আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের দরুণ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে হরমুজ প্রণালী বন্ধ রেখেছে ইরান। ভারতের মতো ‘বন্ধুদেশ’গুলি কয়েকটি জাহাজকে বেরোতে দেওয়া হলেও, তা জ্বালানি সঙ্কট সামাল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত নয়। শুধু ভারতই নয়, হরমুজ বন্ধ থাকায় জ্বালানি সঙ্কট দেখা দিয়েছে পৃথিবীর তাবড় দেশে। Lloyd’s List Intelligence জানিয়েছে, হরমুজ দিয়ে বাণিজ্যিক গতিবিধি স্বাভাবিকের তুলনায় ৬ শতাংশে নেমে এসেছে যুদ্ধের আবহে।
তবে হরমুজে টোল বুথ বসানো নিয়ে ইরানের তরফে যে প্রস্তুতি চলছে, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও সেই তথ্য তুলে ধরেছে। সম্প্রতি ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির সদস্য আলেদ্দিন বোরুজার্দি জানান, হরমুজে মোটা টোল ফি কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।
সেই সময় আলেদ্দিন জানান, হরমুজে টোল ফি বসানোয় এখন ইরানের ‘নয়া সার্বভৌম’ শাসকের ক্ষমতা সকলে টের পাচ্ছে। তিনি বলেন, “যুদ্ধের খরচ খরচা আছে। আমাদের এটা করতেই হবে। জাহাজের থেকে ট্রানজিট ফি নিতে হবে হরমুজে।” তবে সেই নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কোনও আলোচনা হয়নি বলে জানাল ভারত।
এদিন জয়সওয়াল জানান, এখনও পর্যন্ত ইরান থেকে ১২০০-র বেশি ভারতীয়কে উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে ৮৪৫ পড়ুয়া ছিলেন। ৯৯৬ জন আর্মেনিয়া হয়ে বেরিয়েছেন। ২০৪ জন আজেরবাইজান চলে আসেন। তবে এদিনও ইরানের তরফে বার্তা দিয়ে জানানো হয়, হরমুজ নিয়ে ভারতীয়দের চিন্তার কোনও কারণ নেই। হরমুজ উন্মুক্ত রাখতে ৩৫ দেশের আলোচনায় ভারতকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছে ব্রিটেন।
