National Sports Meet : প্রথম মিটেই নজর কাড়ল পতঞ্জলি গুরুকুলমের শিক্ষার্থীরা। ন্যাশনাল স্পোর্টস মিটের প্রথম পর্বে সাফল্য এল হরিদ্বারের পতঞ্জলিতে। যেখানে দুটি সোনার পদক পেল ছাত্ররা।
অসাধারণ সাফল্য পেল পতঞ্জলি গুরুকুলম
ভারতীয় শিক্ষা বোর্ডের প্রথম ন্যাশনাল স্পোর্টস মিটের উদ্বোধনী পর্ব হরিদ্বারে শেষ হয়েছে। যেখানে পতঞ্জলি গুরুকুলম অসাধারণ পারফর্মার হিসেবে উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটি অনূর্ধ্ব-১৭ ফ্রিস্টাইল ও গ্রিকো-রোমান উভয় বিভাগেই স্বর্ণপদক জিতেছে। প্রতিযোগিতার শেষ দিনে আধিপত্য বিস্তার করেছে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
কতগুলি রাজ্য়ের শিক্ষার্থীরা যোগ দিয়েছে
এই প্রতিযোগিতায় ৫০টিরও বেশি রাজ্যের দল কুস্তির উদ্বোধনী পর্বে অংশগ্রহণ করেছিল। এই প্রতিযোগিতা ছাত্র ও ক্রীড়াপ্রেমীদের কাছ থেকে জোরালো সমর্থন পেয়েছে, যেখানে স্বামী রামদেব ও আচার্য বালকৃষ্ণও উপস্থিত ছিলেন। এখানে তরুণ ক্রীড়াবিদদের প্রশংসা করেছেন দুই প্রতিষ্ঠানের স্থপতি। সমাপ্তি অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের পদক, ট্রফি ও শংসাপত্র দেওয়া হয়।
কুস্তিতে শীর্ষে পতঞ্জলি হরিদ্বার
দ্বিতীয় ও শেষ দিনে পতঞ্জলি গুরুকুলম হরিদ্বার পরপর দুটি জয় ছিনিয়ে এনেছে। অনূর্ধ্ব-১৭ ফ্রিস্টাইল কুস্তিতে এর ক্রীড়াবিদরা শীর্ষস্থান অর্জন করেছে। তারপরে রয়েছে হরিয়ানার গুরুকুল কিষাণগড় । অনূর্ধ্ব-১৭ গ্রিকো-রোমান ইভেন্টেও একই ফলাফলের পুনরাবৃত্তি ঘটে। পতঞ্জলি হরিদ্বার সোনার পদক জেতে ও কিষাণগড় গ্রাসেরা রুপোর পদক পায়।
আচার্যকুলাম, জিএসএস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল আগ্রা ও আরও বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নজরকাড়া পারফর্মেন্স দেখায়। যেখানে ১৫০ জনেরও বেশি স্থানীয় স্কুলের শিক্ষার্থীরা দর্শক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। যা নতুন জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতার উদ্যোগকে আরও উৎসাহ জোগায়।
‘এই শিশুরা ভারতকে গর্বিত করবে’
এদিন সমাপ্তি অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে পতঞ্জলি যোগপীঠের সাধারণ সম্পাদক আচার্য বালকৃষ্ণ ব্যক্তিগতভাবে ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে দেখা করে আশীর্বাদ করেন। তিনি বলেন, “এই তরুণদের উৎসাহ দেখে মনে হয়, ভবিষ্যতে এই শিশুরা কেবল দেশেই নয়, বিশ্ব পর্যায়েও ভারতকে গর্বিত করবে। খেলাধুলার মাধ্যমে তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠবে।” তিনি আরও বলেন, এই ধরনের ইভেন্ট তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলা ও দলগত মনোভাব তৈরিতে সহায়তা করে।
অনুষ্ঠানে স্বামী রামদেব অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহিত করেন। তিনি ঘোষণা করেন, আচার্যকুলামে শীঘ্রই একটি আধুনিক ইনডোর স্টেডিয়াম তৈরি করা হবে। “এই স্টেডিয়ামটি কেবল জাতীয় নয়, আন্তর্জাতিক স্তরের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে। আমাদের লক্ষ্য হল গ্রামীণ ও শহুরে যুবকরা যেন সমানভাবে সুযোগ পায়।”
পতঞ্জলিতে পরবর্তী পর্যায়ে আরও ক্রীড়া বিভাগ
এদিন এই অনুষ্ঠানের বৃহত্তর লক্ষ্য তুলে ধরে রামদেব বলেন, “এই প্রতিযোগিতা ভারতীয় শিক্ষা বোর্ডের একটি উদ্যোগ, যা খেলাধুলাকে শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ করে তোলার ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। এই প্রথম পর্যায়টি হরিদ্বারে সম্পন্ন হয়েছে, দ্বিতীয় পর্যায়টি আগ্রায়, তৃতীয়টি লখনউতে এবং শেষ পর্যায়টি জয়পুরে হবে।”
আয়োজকরা নিশ্চিত করেছেন, এখানে আরও অংশগ্রহণ বৃদ্ধি ও বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থীকে একটি প্রতিযোগিতামূলক প্ল্যাটফর্ম দেওয়ার জন্য আসন্ন পর্যায়ে আরও ক্রীড়া শাখা চালু করা হবে। এই প্রথম পর্যায়ের উৎসাহ দর্শায় খেলাধুলা কীভাবে জাতি গঠন ও যুব উন্নয়নের জন্য একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করতে পারে।
