সারা বিশ্বেই ভয়ঙ্কর হারে চোখ রাঙাচ্ছে ফ্যাটি লিভার ডিসিজ। ক্রনিক লিভারের অসুখগুলির মধ্যে সবার উপরে নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিসিজ। যাকে এখন চিকিৎসকরা বলেন, Metabolic Dysfunction-Associated Steatotic Liver Disease। কারণ,এই ধরনের ফ্যাটি লিভারের কারণ মূলত মেটাবলিক রেট বা বিপাকের হারের সমস্যা। ভারতে ভয়াবহ হারে বাড়ছে এই অসুখ। সারা বিশ্বে এই Metabolic Dysfunction-Associated Steatotic Liver Disease – এ আক্রান্তের নিরিখে ভারত তৃতীয় স্থানে বলছে গবেষণা।
ফ্যাটি লিভারকে এখনও অনেকে গুরুত্ব দেন না। আসলে অনেকেই জানেন না, ফ্যাটি লিভার নিয়ে সতর্ক না হলে লিভার সিরোসিস বা ক্যান্সারও হতে পারে এই রোগ ধীরে ধীরে লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমা থেকে শুরু হয়। কয়েক বছর আগে পর্যন্ত ফ্যাটি লিভারকে শুধুমাত্র বেশি মদ্যপানের সঙ্গে যুক্ত করা হতো, কিন্তু এখন ছবিটা বদলে গেছে। এখন দেখা যাচ্ছে, যাঁরা দীর্ঘ সময় বসে কাজ করেন, প্রক্রিয়াজাত ও মিষ্টি খাবার বেশি খান, কম শারীরিক কসরত করেন এবং লাগাতার মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যান, তাঁদের ফ্যাটি লিভার হতে পারে। সমীক্ষা বলছে, যাঁদের কোমরে মেদ জমছে, বা ইয়াব্বড় ভুঁড়ি হচ্ছে, তাঁদের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি।
প্রতি তিনজন ভারতীয়র মধ্যে একজন ফ্যাটি লিভারের শিকার
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতে ফ্যাটি লিভার মহামারী রূপ নিয়েছে। গবেষণা বলছে যে, দেশে প্রায় প্রতি তিনজন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে একজন এই রোগে ভুগছেন। শহরাঞ্চলে এবং ডায়াবেটিস বা স্থূলতা (ওবেসিটি) -তে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে এই সংখ্যাটা ৫০ শতাংশেরও বেশি। তবে এমন ভাবার কারণ নেই যে রোগা হলেই ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি নেই !
কেন ফ্যাটি লিভারের লক্ষণ দেখা যায় না?
ফ্যাটি লিভার আসলে নীরব মহামারী। প্রাথমিক পর্যায়ে এই রোগের লক্ষণগুলি দেখা যায় না। আসলে, অনেকে ছোট ছোট লক্ষণগুলো উপেক্ষা করে যান। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক সময় লিভার এনজাইম টেস্টও স্বাভাবিক আসে। যখন ক্লান্তি, পেটের উপরের অংশে ভারীভাব বা ওজনে উল্লেখযোগ্য তারতম্যের মতো লক্ষণ দেখা যায়, তখনই সতর্ক হতে হবে।
শুধুমাত্র মোটা মানুষের অসুখ নয় !
ফ্যাটি লিভার শুধুমাত্র মোটা লোকেদের রোগ নয়। বিশেষ করে ভারতীয়দের মধ্যে স্বাভাবিক BMI থাকা সত্ত্বেও পেটের চারপাশে চর্বি এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ফ্যাটি লিভারের প্রধান কারণ হয়। PCOS-এ আক্রান্ত মহিলা, ঘুমের সমস্যায় ভোগা, দীর্ঘ সময় ধরে বসে কাজ করা ব্যক্তিরাও এই রোগের ঝুঁকিতে রয়েছেন।
খাবার-দাবারের অভ্যাসও লিভারের ক্ষতি করে
ডাক্তারদের মতে, কিছু খাওয়ার অভ্যাস তলেতলে লিভারের ক্ষতি করে। এই তালিকায় অবশ্যই রয়েছে ড্রিঙ্কস ও প্যাকেজড জুস। এছাড়াও, রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট যেমন ময়দা ও ধবধবে সাদা চাল, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার লিভারে ফ্যাট জমা হওয়ার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।
কীভাবে লিভারকে সুরক্ষিত রাখবেন?
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডিটক্স ড্রিঙ্কস এবং ফুড সাপ্লিমেন্ট দিয়ে লিভার ভাল থাকে না। উল্টে কিছু সাপ্লিমেন্ট লিভারের আরও ক্ষতি করতে পারে। এছাড়াও, বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, এর আসল চিকিৎসা হল—সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন ও মানসিক চাপের নিয়ন্ত্রণ। এছাড়াও, লিভারকে সুরক্ষিত রাখতে ওজন কমানোর চেয়ে ফ্যাট কমানো এবং পেশি রক্ষার দিকে মনোযোগ দিন, সপ্তাহে ২-৩ দিন স্ট্রেন্থ ট্রেনিং করুন এবং প্রতিবার খাবারের সঙ্গে পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ করুন।
ডিসক্লেইমার: এই তথ্য গবেষণা এবং বিশেষজ্ঞদের মতামতের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। এটিকে চিকিৎসা পরামর্শ হিসাবে বিবেচনা করবেন না। কোনো নতুন কার্যকলাপ বা ব্যায়াম শুরু করার আগে আপনার ডাক্তারের বা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
Check out below Health Tools-
Calculate Your Body Mass Index ( BMI )
Calculate The Age Through Age Calculator
