তাই পো (হংকং) : বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে অব্যাহত মৃত্যুমিছিল। হংকংয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৯৪। পরপর সাতটি হাই-রাইজ বিল্ডিংয়ে ভয়াবহ আগুন লেগে যায় বুধবার বিকালের দিকে। গত সাত দশকে এরকম ঘটনা ঘটেনি সেখানে। তাই পো-র গগন-চুম্বী একের পর এক বিল্ডিংয়ে সেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্বিতীয় দিনেও চেষ্টা চালিয়ে যান দমকলকর্মীরা। দমবন্ধকর ধোঁয়া ও আগুনে প্রায় ভস্মীভূত অ্যাপার্টমেন্ট থেকে একের পর এক দেহ উদ্ধার করে যাচ্ছে উদ্ধারকারী দল।
মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ, ইতিমধ্যেই প্রশাসনের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ২৮০ জনের বেশি মানুষকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বড়সড় আকারে সংস্কার হওয়া ৩২ তলার ওই বিল্ডিংয়ে অনেকেই আটকা পড়ে আছেন বলে অনুমান। নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ত্রুটির অভিযোগে ফৌজদারি তদন্ত শুরু হয়েছে।
ঘটনাটা কী ?
১৯৮৩ সালে তৈরি তাই পো-র ওয়াং ফুক কোর্টের বিল্ডিংয়ে বুধবার ভয়াবহ আগুন লাগে। সেখানে আটটি টাওয়ার জুড়ে প্রায় ৪৬০০ মানুষের বসবাস। যার বেশিরভাগেই সংস্কারের কাজ চলছিল এবং বাঁশের কাঠামো ও সবুজ জাল দিয়ে মোড়া ছিল। আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে এক দমকলকর্মীও রয়েছেন। ৭০ বছরে হংকংয়ে সবথেকে ভয়াবহ অগ্নি-বিপর্যয় এটি। বৃহস্পতিবার রাতেও ধোঁয়ায় জমে থাকা মেঝে দিয়ে উদ্ধারকারী দলকে কাজ করতে দেখা গেছে।
গভীর রাত পর্যন্ত আবাসনের বাসিন্দাদের আর্তনাদ শোনা গিয়েছে। পরিবার-পরিজনকে খুঁজে পাচ্ছেন না অনেকেই। বহুতল থেকে চাহর খসে পড়েছে যেমন, তেমনই নীচ থেকে আবাসনের ফ্ল্যাটগুলির ভিতরও আগুন ছড়াতে দেখা গিয়েছে। আগুন এতটাই ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করে যে বহুতলের আশেপাশের মাটিও গরম হয়ে ওঠে। ফলে বহুতলের কাছাকাছি পা ফেলার উপায় ছিল না। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও। সবরকম সাহায্য়ের আশ্বাস জুগিয়েছেন সকলকে। জনবসতিপূর্ণ হংকংয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নতুন কিছু নয়। তবে সাম্প্রতিক কালে এত ভয়ঙ্কর অগ্নিকাণ্ড ঘটেনি সেখানে। ওই বহুতলের এক বাসিন্দা, জানিয়েছেন, গত ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সেখানে রয়েছেন তিনি। আবাসনের অধিকাংশ বাসিন্দাই বয়স্ক। বিপদে ছুটে বেরিয়ে আসার ক্ষমতা নেই তাঁদের শরীরে। রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলায় ফ্ল্যাটের জানলা-দরজাও বন্ধ করে রেখেছিলেন বাসিন্দারা। আগুন লেগেছে বলে গোড়ায় বুঝতেই পারেননি অনেকে।
